img

২৯ দিনে রেমিট্যান্স এলো ১৯ হাজার ৮৭৫ কোটি টাকা

প্রকাশিত :  ১৬:৩২, ৩১ মার্চ ২০২৪
সর্বশেষ আপডেট: ১৯:৪৬, ৩১ মার্চ ২০২৪

২৯ দিনে রেমিট্যান্স এলো ১৯ হাজার ৮৭৫ কোটি টাকা

মার্চের প্রথম ২৯ দিনে বৈধপথে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১৮১ কোটি ৫১ ডলার। দেশীয় মুদ্রায় (প্র‌তি ডলার ১১০ টাকা ধ‌রে) যার পরিমাণ ১৯ হাজার ৯৬৬ কোটি টাকা। প্রতিদিন গড়ে আসছে ৬ কোটি ২৫ লাখ ডলার।

রোববার (৩১ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, চলতি মার্চের প্রথম ২৯ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ১৮১ কোটি ৫১ লাখ মার্কিন ডলার। এর মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ২২ কোটি ৭৫ লাখ ডলার, বিশেষায়িত একটি ব্যাংকের মাধ্যমে ৩ কোটি তিন লাখ মার্কিন ডলার, বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ১৫৪ কোটি ৯৮ লাখ ডলার এবং বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৭৪ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স।

চলতি বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ২১০ কোটি মার্কিন ডলার আর ফেব্রুয়ারিতে আসে ২১৬ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার।

২০২৩ সালের শেষ মাস ডিসেম্বরে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ১৯৯ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স। ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে রেমিট্যান্স এসেছে ১৯৫ কোটি ৮৮ লাখ ডলার, ফেব্রুয়ারি ১৫৬ কোটি ডলার, মার্চে ২০২ কোটি, এপ্রিলে ১৬৮ কোটি, মে মাসে ১৬৯ কোটি, জুনে ২২০ কোটি, জুলাইয়ে ১৯৭ কোটি, আগস্টে ১৫৯ কোটি ৯৪ লাখ, সেপ্টেম্বর মাসে ১৩৩ কোটি, অক্টোবরে ১৯৭ কোটি, নভেম্বর ১৯৩ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।

img

ব্যাংকে আমানত কমেছে ১৩ হাজার কোটি টাকা

প্রকাশিত :  ১১:২১, ২৭ মে ২০২৪

এক মাসের ব্যবধানে ব্যাংক খাতে আমানত কমেছে ১৩ হাজার কোটি টাকা। ব্যাংক একীভূতকরণ আতঙ্কে শেষ ডিসেম্বর থেকে চলতি বছর জানুয়ারি- ১ মাসের ব্যবধানে ব্যাংকের এ আমানত কমেছে। 

বাংলাদেশ ব্যংকের প্রকাশিত ‘ইসলামিক ব্যাংকিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স স্টাটিসটিক’ শীর্ষক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

সেখানে দেখা যাচ্ছে: যেখানে শেষ ডিসেম্বরে ব্যাংকিং খাতে আমানত ছিলো ১৭ লাখ ৭০ হাজার ৩৬৩ কোটি টাকা। সেখানে জানুয়ারিতে এসে সেই আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৭ লাখ ৫৭ হাজার ৪২৩ কোটি টাকা। টাকার অঙ্কে প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা কম।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে: ব্যাংক খাতের মোট আমানতের মধ্যে জানুয়ারি শেষে শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোতে রয়েছে ৪ লাখ ১৩ হাজার ৯৬৯ কোটি টাকা। যা গত ডিসেম্বর শেষে ছিল ৪ লাখ ২২ হাজার ৪৬৪ কোটি টাকা।

সে হিসাবে শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোতে জানুয়ারিতে আমানত কমেছে ৮ হাজার ৪৯৫ কোটি টাকা। আর প্রচলিত ধারার ব্যাংকগুলোতে কমেছে ৪ হাজার ৪৪৩ কোটি টাকা।

এমন পরিস্থিতি প্রসঙ্গে ব্যাংকাররা বলছেন, সুদ যোগ হয়ে সব সময় আমানতের স্থিতি বাড়ে। কিন্তু জানুয়ারিতে কেন কমল, তার সুনির্দিষ্ট কারণ বলা কঠিন। গত ডিসেম্বরে বাংলাদেশ ব্যাংক কয়েকটি দুর্বল ব্যাংক একীভূতকরণের সিদ্ধান্ত জানানোর পর না বুঝে অনেকে টাকা তোলা শুরু করেন।

‘‘মার্চে আনুষ্ঠানিক একীভূতকরণ শুরুর পর আতঙ্ক আরও বেড়েছে। হয়তো তারই প্রভাবে আমানত কমেছে।’’

এ প্রসঙ্গে অর্থনীতিবীদ ড. মাহফুজ কবীর বলছেন: একীভূতকরণ নিয়ে অনেক আমানকারীদের মধ্যে ভয় রয়েছে। কোন ব্যাংক কার সঙ্গে একীভূত হয় এবং একীভূত হলে টাকা ফেরত পাওয়া যাবে কি না এমন সন্দেহে অনেকেই টাকা তুলে নিচ্ছেন।

‘‘এর বাইরে মূল্যস্ফীতি বাড়ায় বাড়তি টাকার প্রয়োজন হওয়ায় অনেক গ্রাহক তাদের ফিক্সড ডিপোজিট ভাঙ্গানোসহ অন্যান সঞ্চয়ের টাকা ব্যাংক থেকে তুলে নিচ্ছেন। এটাও আমানত কমার একটি কারণ।’’

এমন পরিস্থিতিতে বেসিক ব্যাংকের পক্ষ থেকে অর্থমন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়ে বলা হয়েছে: ৮ এপ্রিল একটি বেসরকারি ব্যাংকের সঙ্গে একীভূতকরণ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের প্রেক্ষিতে অস্বাভাবিকভাবে আমানত উত্তলন করা হচ্ছে।

এমন পরিস্থিতিতে গভীর সঙ্কটে পড়েছে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকটি।

দুর্বল ব্যাংকের সঙ্গে সবল ব্যাংকের একীভূতকরণ প্রক্রিয়ার আলোচনার মাঝে ৪ ফেব্রুয়ারি ব্যাংকিং খাতে শৃংখলা ফেরাতে ও সুশাসন নিশ্চিত করতে ১৭ দফা রোডম্যাপ ঘোষণা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ১৪ মার্চ পদ্মা ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংক, ৩ এপ্রিল সরকারি খাতের রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংককে (রাকাব) বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সঙ্গে এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংককে (বিডিবিএল) সোনালী ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এরপর ৮ এপ্রিল সিটি ব্যাংকের সঙ্গে বেসিক ব্যাংককে এবং সবশেষ বেসরকারি ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) সঙ্গে ন্যাশনাল ব্যাংককে একীভূত করার সিদ্ধান্ত হয়।