img

আরো বাড়ল ব্যাংকঋণের সুদহার

প্রকাশিত :  ১৯:২৫, ৩১ মার্চ ২০২৪
সর্বশেষ আপডেট: ১৯:৪৬, ৩১ মার্চ ২০২৪

আরো বাড়ল ব্যাংকঋণের সুদহার

মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ঋণের সুদহার আরো বাড়ানো হয়েছে। সুদহার বেড়ে সাড়ে ১৩ শতাংশ ছাড়িয়েছে। গত জুলাইয়ে বেঁধে দেয়া ৯ শতাংশ সুদহার তুলে নেয়ার পর এটিই ঋণের সর্বোচ্চ সুদ।

গত ফেব্রুয়ারিতে ব্যাংকে ঋণের সর্বোচ্চ সুদ ছিল ১২ দশমিক ৪৩ শতাংশ। মার্চে তা বেড়ে হয় ১৩ দশমিক ১১ শতাংশ। আর ১ এপ্রিল সোমবার থেকে তা হচ্ছে ১৩ দশমিক শূন্য ৫৫ শতাংশ। তবে ভোক্তা ঋণ দিতে হবে ১৪ দশমকি ৫৫ শতাংশ সুদ। যা মার্চে ছিল ১৩ দশমিক ১১ শতাংশ এবং ১৪ দশমিক ১১ শতাংশ। তার আগে ফেব্রুয়ারিতে ছিল ১২ দশমিক ৪৩ শতাংশ এবং ১৩ দশমিক ৪৩ শতাংশ আর জানুয়ারিতে ১১ দশমিক ৮৯ শতাংশ এবং ভোক্তা ঋণের সুদহার ১২ দশমিক ৮৯ শতাংশ ছিল।

রোববার (৩১ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংক এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করেছে। নির্দেশনাটি দেশের সব তফসিলি ব্যাংকে পাঠানো হয়েছে।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন ‘স্মার্ট’ এর সঙ্গে ৩ শতাংশ হারে মার্জিন বা সুদ যোগ হবে যা এতোদিন ছিল ৩ দশমিক ৫০ শতাংশ। প্রি-শিপমেন্ট রপ্তানি ও কৃষি ও পল্লী ঋণের ‘স্মার্ট’ হারের সঙ্গে সর্বোচ্চ ২ দশমিক হারে মার্জিন যোগ হবে যা আগে ছিল ২ দশমিক ৫০ শতাংশ।

সেই হিসাবে, ২০২৪ সালের এপ্রিলে বড় অঙ্কের ঋণে সর্বোচ্চ ১৩ দশমিক ৫৫ শতাংশ সুদ নিতে পারবে। প্রি-শিপমেন্ট রপ্তানি ও কৃষি ও পল্লী ঋণের ‘স্মার্ট’ হারের সঙ্গে সর্বোচ্চ ২ শতাংশ হারে মার্জিন যোগ হবে। অর্থাৎ এপ্রিলে প্রি-শিপমেন্ট রপ্তানি ঋণ এবং কৃষি ও পল্লী ঋণের সর্বোচ্চ সুদহার হবে ১২ দশমিক ৫৫ শতাংশ। যা মার্চে ১২ দশমিক ১১ শতাংশ, ফেব্রুয়ারিতে ১১ দশমিক ৪৩ শতাংশ এবং জানুয়ারিতে ছিল ১০ দশমিক ৮৯ শতাংশ।

তবে মার্চে ব্যক্তিগত ও গাড়ি কেনার ঋণে ব্যাংক সুদ নিতে পারবে ১৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ। কারণ সিএমএসএমই, ব্যক্তিগত ও গাড়ি কেনার ঋণে অতিরিক্ত ১ শতাংশ তদারকি বা সুপারভিশন চার্জ নেয়ার সুযোগ রয়েছে। সাধারণত ব্যাংক থেকে ব্যক্তিগত ও ভোগ্যপণ্য যেমন গাড়ি কেনার ঋণ, আবাসন ঋণ, শিক্ষা ঋণসহ ফ্রিজ, টিভি কম্পিউটার ইত্যাদি ক্রয় করার জন্য যে ঋণ নেয়া হয়, মূলত এসব ভোক্তা ঋণ।

এখন যে পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে এখন ঋণের সুদহার নির্ধারিত হচ্ছে, তা হলো ‘এসএমএআরটি’ বা ‘স্মার্ট এসএমএআরটি’ বা ‘স্মার্ট’ তথা সিক্স মান্থ মুভিং এভারেজ রেট অব ট্রেজারি বিল হিসেবে পরিচিত। প্রতি মাসের শুরুতে এই হার জানিয়ে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।

চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ১৮২ দিন মেয়াদি ট্রেজারি বিলের ছয় মাসের গড় সুদহার (স্মার্ট রেট) ছিল ৭ দশমিক ১০ শতাংশ, আগস্টে ৭ দশমিক ১৪ শতাংশ এবং সেপ্টেম্বরে বেড়ে হয় ৭ দশমিক ২০ শতাংশ, অক্টোবরে ৭ দশমিক ৪৩ শতাংশ, নভেম্বরে ৭ দশমিক ৭২ শতাংশ, ডিসেম্বরে ৮ দশমিক ১৪ শতাংশ, জানুয়ারিতে ছিল ৮ দশমিক ৬৮ শতাংশ, ফেব্রুয়ারিতে ৯ দশমিক ৬১ শতাংশ এবং সবশেষ মার্চে স্মার্ট রেট প্রায় এক শতাংশ বেড়ে ১০ দশমিক ৫৫ শতাংশে উঠেছে।

ফেব্রুয়ারির মত মার্চেও স্মার্ট রেট বেশি বেড়ে যাওয়ায় ঋণের সুদহার মুদ্রানীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে এবং অর্থনৈতিক গতিশীলতা বজায় রাখতে ঋণের সুদহার নির্ধারণের ‘স্মার্ট’ মার্জিন রেট দশমিক ৫০ শতাংশ কমিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর আগে ফেব্রুয়ারিতে দশমিক ২৫ শতাংশ কমিয়েছিল। অর্থাৎ দুইমাসে কমলো দশমকি ৭৫ শতাংশ।

মূল্যস্ফূতি কমিয়ে আনতে জুলাইয়ের পর থেকে ব্যাংকের সুদের হার বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সুদের হার বাড়ানোর ফলে ব্যাংকের আমানত বাড়ছে। মুনাফা বেশি পাওয়ার কারণে সাধারণ গ্রাহকরা এখন ব্যাংকে টাকা রাখতে আগ্রহ দেখাচ্ছে।

img

একদিনের ব্যবধানে আবারও কমলো স্বর্ণের দাম

প্রকাশিত :  ১২:০৩, ২৪ এপ্রিল ২০২৪

একদিনের ব্যবধানে আবারও সোনার দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সবচেয়ে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের সোনার ভরিতে ২ হাজার ১৩৯ টাকা কমানো হয়েছে।

বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)।

বাজুস এর বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনার (পাকা সোনা) দাম কমার পরিপ্রেক্ষিতে এ দাম কমানো হয়েছে। বুধবার বিকাল ৪টা ৫০ মিনিট থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে। 

নতুন দাম অনুযায়ী, সবচেয়ে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের এক ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) সোনার দাম পড়বে এক লাখ ১৪ হাজার ১৫১ টাকা। 

২১ ক্যারেটের সোনার ভরিতে দাম কমানো হয়েছে ১ হাজার ৯৯৫ টাকা। এতে এই মানের এক ভরি সোনার দাম পড়বে ১ লাখ ৯ হাজার টাকা।

১৮ ক্যারেটের সোনার ভরিতে দাম কমানো হয়েছে ১ হাজার ৭১৪ টাকা। এতে এই মানের এক ভরি সোনা কিনতে লাগবে ৯৩ হাজার ৪২৯ টাকা।

এ ছাড়া সনাতন পদ্ধতির এক ভরি সোনার দাম ১ হাজার ৩৭৭ টাকা কমিয়ে ৭৫ হাজার ২০৯ টাকা করা হয়েছে।

এর আগে চলতি মাসের গত ৬, ৮ ও ১৮ এপ্রিল সোনার দা‌ম বা‌ড়ি‌য়ে‌ছিল বাজুস। এর ম‌ধ্যে ৬ এপ্রিল বাড়ানো হয়েছিল ১৭৫০ টাকা, ৮ এপ্রিল ১৭৫০ টাকা এবং ১৮ এপ্রিল ২০৬৫ টাকা। পরে ২০ এপ্রিল ৮৪০ টাকা কমানোর এক দিন পর ২১ এপ্রিল ফের ভরিতে ৬৩০ টাকা বাড়ানো হয়। এরপর টানা দুই দফায় ভরিতে ৩১৩৮ ও ২০৯৯ টাকা কমাল বাজুস।