img

ইসরায়েলে আল জাজিরা বন্ধ করতে আইন পাস

প্রকাশিত :  ১০:৫২, ০২ এপ্রিল ২০২৪

ইসরায়েলে আল জাজিরা বন্ধ করতে আইন পাস

ইসরায়েলে কাতারভিত্তিক সম্প্রচারমাধ্যম আল-জাজিরাসহ কয়েকটি বিদেশি সংবাদমাধ্যমের সম্প্রচার বন্ধে একটি আইন পাস করেছে ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেট। এই আইনের মাধ্যমে সরকার দেশটিতে বিদেশি সংবাদমাধ্যমের সম্প্রচার ‘সাময়িকভাবে’ নিষিদ্ধ করার ক্ষমতা পেয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি মনে হলে সরকার যেকোনো বিদেশি গণমাধ্যমকে ৪৫ দিন পর্যন্ত নিষিদ্ধ করতে পারবে। খবর-বিবিসি

সোমবার পার্লামেন্টে ভোটাভুটিতে ৭০-১০ ভোটে আইনটি পাস হয়। এর ফলে বিদেশি টেলিভিশন চ্যানেলের কন্টেন্টে নিষেধাজ্ঞা, এমনকি যেকোনো চ্যানেল বন্ধের এখতিয়ারও পাবে দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

এই আইন অনুমোদনের পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আলজাজিরাকে ‘সন্ত্রাসী চ্যানেল’ হিসেবে আখ্যায়িত করে চ্যানেলটির সম্প্রচার দ্রুত বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‌ইসরায়েল থেকে আল–জাজিরা তাদের সম্প্রচার আর চালাতে পারবে না। আল-জাজিরার আঞ্চলিক কার্যালয় বন্ধে তিনি দ্রুত ব্যবস্থা নেবেন। 

ইসরায়েলের এ পদক্ষেপে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ফিলিস্তিনের গাজায় বিদেশি সাংবাদিকদের প্রবেশে ইসরায়েলের কঠোর বিধিনিষেধ আছে। এ অবস্থায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অল্প কিছু সাংবাদিক যুদ্ধের খবর সংগ্রহ করছেন যার মধ্যে আল–জাজিরার সাংবাদিকরা অন্যতম। 

এদিকে সম্প্রচার বন্ধের বিষয়ে আল–জাজিরা একটি বিবৃতি দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে- আল–জাজিরার কর্মী ও এর কার্যালয়ের নিরাপত্তার জন্য নেতানিয়াহুকে দায়ী করবে তারা।

প্রসঙ্গত, গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েল গাজায় হামলা শুরু করার আগে গাজা উপত্যকায় প্রায় ১ হাজার সাংবাদিক কর্মরত ছিলেন। তাদের মধ্যে ১০০ জনের বেশি নিহত হয়েছেন। এই হিসেবে মোট সংবাদকর্মীর প্রায় ১০ শতাংশ মারা গেছেন এরই মধ্যে। এ এলাকাটি কার্যত এখন সাংবাদিকদের বধ্যভূমিতে পরিণত হয়েছে।

সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষাবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংগঠন সিপিজে বলেছে, গাজায় সাংবাদিকদের হত্যার সংখ্যা ইতিহাসে ‘অতুলনীয়’। সংস্থাটি বলেছে, ইসরায়েলি বাহিনী গাজা উপত্যকায় হামলা চালিয়ে সাংবাদিকদের এমন হারে হত্যা করছে, যার তুলনা আধুনিক ইতিহাসে নেই। 

 

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

স্কুলে বন্দুক নিয়ে যেতে পারবেন শিক্ষকরা, যুক্তরাষ্ট্রে বিল পাস

প্রকাশিত :  ১৩:৩৬, ২৪ এপ্রিল ২০২৪

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতারা একটি বিল পাস করেছেন। এর ফলে সেই অঙ্গরাজ্যের শিক্ষকরা স্কুলে বন্দুক বহন করতে পারবে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে বলেছে যে, রিপাবলিকান পার্টির নিয়ন্ত্রিত টেনেসি হাউসে বিলটি ৬৮-২৮ ভোটে অনুমোদিত হয়।
গত বছর টেনেসির ন্যাশভিলের একটি স্কুলে বন্দুকধারীর হামলায় তিন শিশু এবং তিনজন প্রাপ্তবয়স্ক কর্মী নিহত হন। এরপর থেকেই বন্দুক আইন নিয়ে উত্তপ্ত বিতর্ক হয়েছে টেনেসিতে।
ক্যাপিটলের ভেতরে বিক্ষোভকারীদের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন হাউসের কয়েকজন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা। এর ফলে গত বছর তাদের হাউস থেকে সংক্ষিপ্ত মেয়াদে বহিষ্কার করা হয়েছিল।

রাজ্যের প্রতিনিধি এবং ডেমোক্র্যাট দলের আইনপ্রণেতা জাস্টিন পিয়ারসন এই বিল পাসের ব্যাপারে সামাজিক প্ল্যাটফর্মে ক্ষোভ ঝেড়েছেন। এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, এটি টেনেসি, আমাদের বাচ্চাদের, আমাদের শিক্ষকদের এবং সম্প্রদায়ের জন্য একটি ভয়ংকর দিন। বাচ্চাদের রক্ষা করার পরিবর্তে তারা আবারও বন্দুক রক্ষা করেছে!

গত ২৫ বছরে যুক্তরাষ্ট্রের স্কুলগুলোয় সংঘটিত অসংখ্য বন্দুক হামলার প্রতিক্রিয়ায় অস্ত্র আইন কঠোর করার পরিবর্তে শিক্ষকদের সশস্ত্র করার জন্য প্রায়ই চাপ দিয়ে আসছে রিপাবলিকান এবং অন্যান্য রক্ষণশীলরা। তাদের যুক্তি হচ্ছে—শিক্ষকেরা সশস্ত্র হলে তারা বন্দুকধারীদের প্রতিহত করতে পারবেন।

অন্যদিকে এই বিলের বিরোধিতাকারীরা বলছেন যে, স্কুলে বন্দুক নিয়ে আসা শুধুমাত্র হয়তো দুঃখজনক সব দুর্ঘটনার দিকেই শিশুদের পরিচালিত করবে।

গান সেফটি গ্রুপ গিফোর্ডস ল সেন্টারের তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় অর্ধেক রাজ্যেই শিক্ষক বা স্কুলের অন্যান্য কর্মচারীদের স্কুলের মাঠে আগ্নেয়াস্ত্র বহন করার অনুমতি রয়েছে।

টেনেসি বিলের অধীনে, যে শিক্ষক স্কুলে গোপনে বন্দুক বহন করতে চান তাকে এ সংক্রান্ত কমপক্ষে ৪০ ঘণ্টার প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করতে হবে। প্রশিক্ষণ ও আগ্নেয়াস্ত্রের খরচ সেই ব্যক্তিকেই বহন করতে হবে।

বিল অনুযায়ী, বন্দুক বহনকারী শিক্ষক বা কর্মচারীর পরিচয় প্রকাশ করা হবে না। স্কুলের দায়িত্বরতদের অবশ্যই সেই শিক্ষককে বন্দুক বহন করার অনুমতি দিতে হবে এবং স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে বন্দুক বহনকারীর পরিচয় জানাতে হবে।

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর