img

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই ইন দ্য ইউকে’র মহান স্বাধীনতা দিবসের আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

প্রকাশিত :  ২০:৩৪, ০২ এপ্রিল ২০২৪
সর্বশেষ আপডেট: ২৩:১০, ০২ এপ্রিল ২০২৪

“মুক্তিযুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই ইন দ্য ইউকে’র মহান স্বাধীনতা দিবসের আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

নিলুফা ইয়াসমীন হাসান, লন্ডনঃ “বাংলাদেশের ৫৪তম মহান স্বাধীনতা দিবস ছিল ২৬শে মার্চ। একটি প্রতিরোধযুদ্ধ অর্থাৎ মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান অবিস্মরণীয়।”

পূর্ব লন্ডনের স্থানীয় একটি রেস্টুরেন্টে ২৯শে মার্চ শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই ইন দ্য ইউকে’র উদ্যোগে মহান স্বাধীনতার চুয়ান্নতম দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা উপরের কথাগুলো বলেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালনের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে শুরু হয় আলোচনা সভা। অনুষ্ঠানে বহুসংখ্যক প্রাক্তন শিক্ষার্থী, তাঁদের পরিবারবর্গ এবং অতিথি অংশগ্রহণ করেছেন।

সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি প্রশান্ত পুরকায়স্থ এর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মেজবাহ্ উদ্দিন ইকো ও যুগ্ম সম্পাদক এম কিউ হাসানের যৌথ সঞ্চালনায় মুক্তিযুদ্ধের উপর আলোচনা ও স্মৃতিচারণ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই ইন দ্য ইউকে’র সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা গৌস সুলতান, সংগঠনের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু মুসা হাসান, উপদেষ্টা শাহগীর বখত ফারুক এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন।

আলোচনা সভায় বক্তারা উল্লেখ করেন, “নারী পুরুষ সবার অংশগ্রহণ ও আত্মত্যাগের ফলে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করতে পেরেছি। পাকিস্তানি বর্বর হানাদারদের অত্যাচার, নারীর উপর পাশবিক নির্যাতন বাঙালি জাতি কখনই ভুলবেনা। পাকিস্তানি হায়েনারা মুক্তিযুদ্ধের নয় মাস লাখ লাখ মানুষকে হত্যা করেছে, নারীদের ধর্ষণ করেছে, বাড়ী ঘর আগুনে পুড়িয়ে লুটতরাজ করেছে।”

বক্তারা বলেন, “বাঙালি জাতিকে মেধাশূন্য করতে বাংলাদেশের বিজয়ের দু’দিন আগে রাজাকার আল—বদর আলশামস এর সহযোগিতায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী চৌদ্দই ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ সারা দেশে বহু বুদ্ধিজীবীকে হত্যা করেছিলো।” 

বক্তারা আরো উল্লেখ করেন, “মুক্তিযুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।” তাঁরা বলেন, “ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে সকল আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ছিল অগ্রগামী।”

আলোচনা শেষে কবি শামসুর রাহমানের ‘স্বাধীনতা তুমি’ কবিতা আবৃত্তি করেন এম কিউ হাসান। অনুষ্ঠান শেষে গান পরিবেশন করেন কাজী কল্পনা।

আলোচনা সভা শেষে এক ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। ইফতার মাহফিলের শুরুতে দুর্দশাগ্রস্ত গাজাবাসী, বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাইর সভাপতি মারুফ চৌধুরীর সদ্য প্রয়াত পিতার জন্য দোয়া পড়ে মোনাজাত করা হয়। দোয়া পরিচালনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী মাওলানা এ কে মাঊদুদ হাসান।


আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে আরো উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহসভাপতি নিলুফা ইয়াসমীন হাসান, সিরাজুল বাসিত চৌধুরী, যুগ্ম সম্পাদক সৈয়দ ইকবাল, মাহারুন আহমেদ মালা, কোষাদক্ষ সৈয়দ জাফর, কংকন কান্তি ঘোষ, শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক এরিনা সিদ্দিকী, দপ্তর সম্পাদক মিজানুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক তিন জনই উপস্থিত ছিলেন ড. কামরুল হাসান, কামরুল হাসান ও বেলাল রশীদ চৌধুরী। আরো যারা ছিলেন তাঁরা হলেন আবুল কালাম, রাজিয়া বেগম, মাহফুজা রহমান, সৈয়দ মোস্তাফিজুর রহমান, মোস্তফা কামাল মিলন, মির্জা আসাব বেগ, মতিন চৌধুরী, মুকিত চৌধুরী, মনসুর পিয়াস, সাইদা ফারহানা সুবর্ণা, শিরিন উল্লাহ, খাদিজা আহমেদ প্রমুখ।

পরিশেষে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি প্রশান্ত পুরকায়স্থ উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এবং যারা ইফতার মাহফিলে সহযোগিতা করেছেন তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।


কমিউনিটি এর আরও খবর

img

নিউইয়র্ক স্টেট সিনেট সম্মাননা পেলেন গোলাম ফারুক শাহীন

প্রকাশিত :  ১১:১১, ২৩ এপ্রিল ২০২৪

কমিউনিটি সার্ভিস, নান্দনিক ও মানবিক কাজের জন্য সম্মাননা পেয়েছেন নিউইয়র্কে বাংলাদেশী কমিউনিটি এক্টিভিস্ট গোলাম ফারুক শাহীন। গত এক দশকের বেশী সময় নানাভাবে কমিউনিটির মানুষের জন্য কাজ করছেন এই সংগঠক। কোভিড থেকে শুরু করে রমজান এবং বিভিন্ন সময় কমিউনিটির মানুষের জন্য নিরলসভাবে কাজ করায় এবার নিউইয়র্ক স্টেট সিনেট  লংআইল্যানড এলাকার নিউইয়র্কের ফোর্থ সিনেট ডিস্ট্রিক্টের সিনেটর মনিকা আর মার্টিনেজের পক্ষ থেকে সম্মাননা দেয়া হয়েছে গোলাম ফারুক শাহীনকে। খবর বাপসনিঊজ ।

নিউইয়র্কের লংআইল্যান্ডের হাগপ্যাক সিটিতে নিউইয়র্ক স্টেট বিল্ডিংয়ে আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে এই সম্মাননা তুলে দেয়া হয়। কমিউনিটিতে অবদান রাখায় লং আইল্যান্ডের সাফোক কাউন্টিতে প্রথমবারের মত কোন বাংলাদেশী নিউইয়র্ক স্টেটের এমন সম্মাননা পেয়েছেন।

উল্লেখ্য, কোভিডের সময় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কমিউনিটির মানুষকে সেবা দিয়েছিলেন গোলাম ফারুক শাহীন। তাছাড়া প্রতিবারই তিনি পবিত্র রমজানে লংআইল্যান্ডের ব্যাবিলন সিটিতে বিপুল সংখ্যক মানুষের জন্য ইফতারের আয়োজন করে থাকেন গোলাম ফারুক শাহীন ও তাঁর সংগঠন। সেই ধারাবাহিকতায় এবারো পবিত্র রমজানে মুসল্লীদের জন্য ইফতারের আয়োজন করেছেন।

জাতিসংঘের বিভিন্ন কাজে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ন অবদান রাখছেন তিনি। এসব কাজের স্বীকিৃত স্বরুপ তাঁকে এই সম্মাননা দেয়া হয়েছে। নিউইয়র্ক স্টেট বিল্ডিংয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ডিরেক্টর অব ডিস্ট্রিক্ট অপারেশন্স এন্ড প্রোগ্রামস মিস আডিনা বিডেনবেন্ডার। এই সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিনেটরের সহকর্মীবৃন্দ।

এমন অসাধারণ মুহুর্তে সবার কাছ থেকে অভিনন্দিত হয়েছেন গোলাম ফারুক শাহীন। এক প্রতিক্রিয়ায় এই সম্মাননা পর গোলাম ফারুক শাহীন জানান, এই সম্মাননা পাওয়ার পর দায়িত্ব বেড়ে গিয়েছে। ভবিষ্যতে আরো মানবিক কাজ করুতে অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে এই সম্মাননা।

এর আগে সেন্সাস অর্থাৎ আদম সুমারীর কাজও করেছেন তিনি। মসজিদে মসজিদে গিয়ে মুসলমানদের নাম অর্ন্তভূক্ত করেছেন। এছাড়া বাংলাদেশী কমিউনিটির উদ্যেগে ফ্রি ফুড বিতরন করেছেন। লংআইল্যান্ড বাংলাদেশীদের প্রথম ফেসটিভ্যাল উপলক্ষ্যে চমৎকার স্মরনিকা প্রকাশিত হয় “হদয়ে লাংআইল্যান্ড নামে। এর সম্পাদক  ছিলেন গোলাম ফারুক শাহীন। প্রতি বছর বাংলাদেশীসহ বিভিন্ন কমিউনিটির মানুষ নিয়ে স্ট্রিট ফেয়ার করে থাকেন গোলাম ফারুক শাহীন।

কমিউনিটি এর আরও খবর