img

গাজায় ত্রাণকর্মী হত্যা : ইসরায়েলের দুই সেনা কর্মকর্তা বরখাস্ত

প্রকাশিত :  ০৫:৫৩, ০৬ এপ্রিল ২০২৪
সর্বশেষ আপডেট: ০৫:৫৬, ০৬ এপ্রিল ২০২৪

গাজায় ত্রাণকর্মী হত্যা : ইসরায়েলের দুই সেনা কর্মকর্তা বরখাস্ত

গাজায় আন্তর্জাতিক ত্রাণ বহরে হামলা ও ৭ ত্রাণকর্মী নিহতের ঘটনায় ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) দুই কর্মকর্তাকে বরখাস্ত এবং তিন জনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বরখাস্ত হওয়া দুই কর্মকর্তার মধ্যে একজন ব্রিগেডিয়ার এবং অপরজন মেজর পদমর্যাদার বলে জানা গেছে। তবে তাদের দু’জনের নাম প্রকাশ করেনি ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী।

শুক্রবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে আইডিএফ।

পরে তেল আবিবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আইডিএফের মুখপাত্র অ্যাডমিরাল ড্যানিয়েল হাগারি বলেন, ‘এটি খুবই গুরুতর একটি ঘটনা এবং এজন্য আমরা দায়ী। এটি ঘটা একেবারেই উচিত হয়নি এবং আমরা কথা দিচ্ছি, ভবিষ্যতে আর এমন ঘটবে না।’

গত ২ এপ্রিল গাজায় যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক খাদ্য সহায়তা সংস্থা ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেনের (ডব্লিউসিকে) ত্রাণবাহী গাড়িতে বোমা হামলা চালায় ইসরায়েলি সেনারা। এতে নিহত হন ডব্লিউসিকের ৭ স্বেচ্ছাসেবী ত্রাণকর্মী। এই ত্রাণকর্মীদের মধ্যে একজন অস্ট্রেলিয়া, তিন জন ব্রিটেন, একজন যুক্তরাষ্ট্র, একজন পোল্যান্ড এবং এবং একজন ফিলিস্তিনের নাগরিক।

দাতব্য সংস্থাটির পক্ষ থেকে হামলার প্রসঙ্গে বলা হয়েছিল, গাজার দেইর এল-বালাহতে ত্রাণ বিতরণের পর, ডব্লিউসিকের লোগোযুক্ত একটি ত্রাণবাহী গাড়িতে করে যাচ্ছিলো দলটি। বিচ্ছিন্ন একটি সড়ক ধরে যাওয়ার সময় তাদের বাহিনীর ওপর হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। সড়কটি ত্রাণ কর্মীরাই ব্যবহার করে।

আরও পড়ুনগাজায় ত্রাণকর্মী নিহতের ঘটনায় ক্ষুব্ধ বাইডেন, বিশ্বজুড়ে নিন্দা

হামলার পর ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছিলেন, ‘যুদ্ধে এটি হয়।’

তবে শুক্রবারের বিবৃতিতে নিজেদের দায় স্বীকার করে আইডিএফ বলেছে, ‘দেইর আল বালাহর একটি গুদামে ত্রাণ খালাসের পর গাড়িটি যখন ফিরে যাচ্ছিল, আমাদের একজন কমান্ডার ভুলবশত ধারণা করেছিলেন যে গাড়িটিতে হামাসের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা রয়েছে। এ কারণেই হামলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।’

‘গাড়ি শনাক্তকরণে ভুল, ত্রুটিপূর্ণ সিদ্ধান্ত এবং কমান্ডারের অদক্ষতা এই গুরুতর ভুলের জন্য দায়ী।’

পৃথক এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ হারজি হালেভি এই ভুলের জন্য ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর দক্ষিণাঞ্চলীয় কমান্ডকে দায়ী করেছেন।

হামলার পর গাজায় নিজেদের ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম স্থগিত করেছিল ডব্লিউসিকে। শুক্রবার আইডিএফের বিবৃতি প্রকাশের পর পাল্টা এক বিবৃতিতে গাজায় ত্রাণকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি।

ডব্লিউসিকের শীর্ষ নির্বাহী এরিন গোর বিবৃতিতে বলেছেন, ‘ইসরায়েলকে অবশ্যই গাজায় ত্রাণ সরবরাহকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে। যতদিন দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না নেওয়া হচ্ছে— গাজায় আমাদের অপারেশন বন্ধ থাকবে।’


সূত্র : আলজাজিরা

img

পাপুয়া নিউ গিনিতে ভূমিধসে জীবিত সমাহিত ২ হাজারেরও বেশি মানুষ

প্রকাশিত :  ০৮:৪২, ২৭ মে ২০২৪
সর্বশেষ আপডেট: ০৮:৪৩, ২৭ মে ২০২৪

পাপুয়া নিউ গিনির একটি গ্রামে ভয়াবহ ভূমিধসে একটি গ্রাম প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। এ ঘটনায় সেখানে জীবিত সমাহিত হয়েছে ২ হাজারেরও বেশি মানুষ। দেশটি জাতিসংঘকে এমন তথ্যই জানিয়েছে।

সোমবার (২৭ মে) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা এএফপি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের একটি প্রত্যন্ত গ্রামে প্রবল ভূমিধসে ২ হাজারেরও বেশি লোক চাপা পড়েছে বলে পাপুয়া নিউ গিনি সোমবার জাতিসংঘকে অবহিত করেছে। মূলত একটি চিঠিতে দেশটি জাতিসংঘকে এই তথ্য জানায় এবং সেই চিঠির একটি অনুলিপি এএফপির হাতে এসেছে।

পাপুয়া নিউ গিনির জাতীয় দুর্যোগ কেন্দ্র রাজধানী পোর্ট মোরেসবিতে অবস্থিত জাতিসংঘের অফিসকে বলেছে, ‘ভূমিধসে ২ হাজারেরও বেশি লোক জীবিত সমাহিত হয়েছে এবং এই ভূমিধস বড় ধরনের ধ্বংসযজ্ঞের সৃষ্টি করেছে।’

গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে পাপুয়া নিউ গিনির এঙ্গা প্রদেশে যে ভূমিধস হয়েছে, তাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রদেশের ৬টিরও বেশি গ্রাম। তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কাওকালাম নামের একটি গ্রাম।

কাওকালাম গ্রামের বাসিন্দা নিঙ্গা রোলে জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৩ টায় এই ভূমিধস ঘটেছে। গভীর রাতে সবাই ঘুমিয়েছিলেন, তাই দুর্যোগের সময় অধিকাংশ মানুষই বাড়ি থেকে বের হতে পারেননি।

দুর্যোগ অফিস বলেছে, ভূমিধসের ফলে ভবন, খাবারের গাছের বাগানের বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে এবং দেশের অর্থনৈতিক লাইফলাইনে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে।

সোমবার সকালে জাতিসংঘের কর্মকর্তারা এই চিঠিটি পেয়েছেন। সেখানে আরও বলা হয়েছে, পোরগেরা মাইনে যাওয়ার প্রধান মহাসড়কটি ‘সম্পূর্ণভাবে অবরুদ্ধ’।

এতে বলা হয়েছে, ‘পরিস্থিতি এখনও অস্থিতিশীল রয়ে গেছে। কারণ ল্যান্ডস্লিপটি ধীরে ধীরে স্থানান্তরিত হচ্ছে, আর এটি উদ্ধারকারী দল এবং বেঁচে থাকা বাসিন্দা উভয়ের জন্যই বিপজ্জনক।’

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর