img

কদরের রাতে যেসব আমল জরুরি

প্রকাশিত :  ০৬:২১, ০৬ এপ্রিল ২০২৪
সর্বশেষ আপডেট: ০৬:২২, ০৬ এপ্রিল ২০২৪

কদরের রাতে যেসব আমল জরুরি

লাইলাতুল কদর। মহিমান্বিত এক রাত। পুরো রমজানের মূল আকর্ষণ হলো শবে কদর। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা মহান রাব্বুল আলামিনের নৈকট্য ও রহমত লাভের আশায় ইবাদত বন্দেগির মাধ্যমে পবিত্র লাইলাতুল কদরের রজনী পালন করবেন। মহিমান্বিত এ রাতেই মহান আল্লাহ বান্দার মুক্তির জন্য নাজিল করেছেন কোরআনুল কারিম।লাইলাতুল কদর হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। এ রাতে ফেরেশতারা ও জিব্রাইল (আ.) আল্লাহর নির্দেশে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়ে অবতরণ করেন। এ রাতের ফজর পর্যন্ত প্রশান্তি বর্ষিত হয়।’ (সুরা কদর: ১-৫)

এই রাতকে ‘লাইলাতুল কদর’বলার কারণ হচ্ছে, এ রাতের পূর্বে আমল না করার কারণে যাদের কোনো সম্মান মর্যাদা, মূল্যায়ন ছিল না তারাও তওবা-ইস্তেগফার ও ইবাদতের মাধ্যমে এ রাতে সম্মানিত ও মহিমান্বিত হয়ে যান। (তাফসিরে মারেফুল কোরআন) রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে সওয়াবের আশায় কদরের রাতে ইবাদতের মধ্যে রাত জাগবে, তার আগের গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।’ (সহিহ বুখারি: ৩৫)

শবে কদরের কিছু মাসনুন আমল এখানে তুলে ধরা হলো—

১) পরিচ্ছন্ন হওয়া: লাইলাতুল কদরের বরকত লাভের প্রধান শর্ত হলো ভেতর ও বাইরের পবিত্রতা লাভ এবং একনিষ্ঠ হয়ে আল্লাহর দরবারে হাজির হওয়া। আল্লামা ইবনে রজব হাম্বলি বলেন—‘উত্তম হলো- যে রাতে কদর অনুসন্ধান করা হবে, তাতে পরিচ্ছন্নতা অর্জন করা, সুগন্ধি ব্যবহার করা, গোসল-সুগন্ধি-উত্তম কাপড়ের মাধ্যমে সৌন্দর্যবর্ধন করা। আর বাহ্যিক সৌন্দর্য সৌন্দর্যের জন্য যথেষ্ট নয়, যদি না মানুষের ভেতরটা সুন্দর হয়। মানুষের ভেতর সুন্দর হয় তওবা ও আল্লাহমুখী হওয়ার মাধ্যমে।’ (লাতায়িফুল মাআরিফ, পৃষ্ঠা- ১৮৯)

২) মাগরিব, এশা ও ফজর নামাজ জামাতে আদায় করা: কদরের রাতে মাগরিব, এশা ও ফজর নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায় করা উচিত। তাহলে হাদিস অনুযায়ী শবে কদরের ফজিলত লাভ হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। হাদিসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি এশা ও ফজর জামাতের সঙ্গে পড়ে, সে যেন সারা রাত দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ে।’ (মুসলিম: ৬৫৬)

৩) রাত জেগে ইবাদত: সারারাত নিজে ইবাদত-বন্দেগি করা এবং পরিবারের সবাইকে ইবাদত করার জন্য জাগিয়ে দেওয়া। বছরের অন্য কোনোরাতে সারারাত জেগে ইবাদত করার ব্যাপারে এত বেশি গুরুত্ব নবীজির জীবনীতে দেখা যায় না। সাধারণত তিনি এশার নামাজের পরে বেশি দেরি করতেন না, দ্রুত ঘুমিয়ে যেতেন এবং মধ্যরাতে জেগে ইবাদত করতেন। কিন্তু শবে কদরে তিনি সারারাত জেগে ইবাদত করতেন এবং পরিবারের অন সদস্যদেরও উদ্বুদ্ধ করতেন। আম্মাজান আয়েশা (রা.) বলেন, ‘যখন রমজানের শেষ ১০ রাত আসত, তখন নবী কারিম (স.) কোমরে কাপড় বেঁধে নেমে পড়তেন (বেশি বেশি ইবাদতের প্রস্তুতি নিতেন) এবং রাত জেগে থাকতেন। আর পরিবার-পরিজনকেও তিনি জাগিয়ে দিতেন।’ (বুখারি: ১০৫৩)

৪) কোরআন তেলাওয়াত করা: পবিত্র কোরআনের তেলাওয়াত কদরের রাতের বিশেষ আমল। কেননা এই রাতেই কোরআন নাজিল হয়েছে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, ‘নিশ্চয় আমি কোরআন নাজিল করেছি লাইলাতুল কদরে।’ (সুরা কদর: ১) পুরো রমজানজুড়েই কোরআন তেলাওয়াতের গুরুত্ব রয়েছে। হাদিসে এসেছে, জিব্রাইল (আ.) প্রত্যেক রমজানে নবীজির সাথে কোরআন তেলাওয়াতে অংশ নিতেন। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ‘রমজান মাসের প্রতি রাতে জিব্রাইল (আ.) রাসুলুল্লাহ (স.)-এর কাছে উপস্থিত হতেন এবং তাঁরা উভয়ই পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করে একে অপরকে শোনাতেন।’ (বুখারি: ৬) সুতরাং রমজানের শেষ দশকে বিশেষ করে বিজোড় রাতগুলোতে আমরা যেন বেশি বেশি কোরআন তেলাওয়াত করি এবং শবে কদরে কোরআন তেলাওয়াতের মতো আমল মিস না করি।

৫) কিয়ামুল্লাইল করা: রমজানের শেষ দশকের বিশেষ ইবাদতের নাম কিয়ামুল্লাইল। কেননা এর সঙ্গে শবে কদরের সম্পর্ক রয়েছে। একারণেই কিয়ামুল্লাইল শব্দটির সঙ্গে কদর শব্দটি জুড়িয়ে দিয়েছেন রাসুলুল্লাহ (স.)। সহিহ বুখারির বর্ণনায় তিনি ইরশাদ করেছেন,  مَنْ قَامَ لَيْلَةَ القَدْرِ إِيمانًا واحْتِسَابًا، غُفِر لَهُ مَا تقدَّم مِنْ ذنْبِهِ - متفقٌ عَلَيْهِ ‘কদরের রাতে যে কিয়ামুল্লাইল করে বিশ্বাস নিয়ে এবং নাজাতের প্রত্যাশায়, আল্লাহ তাআলা তার পূর্বের গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন।’ (বুখারি: ১৯০১, ২০১৪; মুসলিম: ১৮১৭)

সুতরাং আমরা যেন কদরের রাতে কিয়ামুল্লাইল বা লম্বা সময় ধরে সালাত আদায় করি। লম্বা সময় দাঁড়িয়ে ক্বেরাত পড়া ও দীর্ঘ সেজদা করা কেয়ামুল্লাইলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নবীজির কিয়ামুল্লাইল সম্পর্কে আয়েশা (রা.) বলেন, ‘নামাজে দাঁড়িয়ে নবীজি এত দীর্ঘ সময় তেলাওয়াত করতেন যে, তাঁর পা মোবারক ফুলে যেত।’ (দ্রষ্টব্য- সহিহ মুসলিম: ২৮১৯, ২৮২০)

৬) কদরের রাতের দোয়া: আয়েশা (রা.) রাসুলুল্লাহ (স.)-কে জিজ্ঞেস করেন, হে আল্লাহর রাসুল! আমি যদি জানতে পারি লাইলাতুল কদর কোনটি, তাহলে আমি সে রাতে কী বলব? তিনি বলেন, ‘তুমি বলো, ﺍﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﺇِﻧَّﻚَ ﻋَﻔُﻮٌّ ﺗُﺤِﺐُّ ﺍﻟْﻌَﻔْﻮَ ﻓَﺎﻋْﻒُ ﻋَﻨِّﻲ উচ্চারণ: ‘আল্লা-হুম্মা ইন্নাকা আফুউন তুহিব্বুল আফওয়া ফা’ফু আন্নী’ (আরবি উচ্চারণ দেখে পড়বেন)। অর্থ: ‘হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আপনি ক্ষমাশীল। ক্ষমা করাটা আপনার পছন্দ। অতএব আমাকে ক্ষমা করে দিন।’ (সুনানে তিরমিজি: ৩৫১৩)।

সুতরাং সারাদিন-রাত বেশি বেশি এই দোয়া করবেন। এই দোয়াটি হাঁটা-চলা-শোয়া অবস্থায় করা যায়।

img

দেশে ফিরলেন ৫৬ হাজার ৩৩১ হাজি, মৃত্যু বেড়ে ৬২

প্রকাশিত :  ০৬:৩৭, ০৮ জুলাই ২০২৪

চলতি বছর পবিত্র হজ পালন করতে সৌদি আরবে গিয়ে ৬২ বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে ৪৯ জন পুরুষ এবং নারী রয়েছেন ১৩ জন। আজ সোমবার মধ্যরাত পর্যন্ত দেশে ফিরেছেন ৫৬ হাজার ৩৩১ জন হাজি।

এতে জানানো হয়, সৌদি থেকে ১৪৪টি ফ্লাইটে এসব হাজি বাংলাদেশে এসেছেন। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ৬৬টি ফ্লাইটে ২৪ হাজার ১৪৪ জন, সৌদি এয়ারলাইনসের ৫২টি ফ্লাইটে ১৯ হাজার ৭০২ এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইনস ২৬টি ফ্লাইটে ৯ হাজার ৭১৫ হাজি দেশে ফিরেছেন।

চলতি বছর হজ পালন করতে গিয়ে এখন পর্যন্ত ৬২ জন বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে পুরুষ ৪৯ এবং নারী ১৩ জন।

হজ শেষে গত ২০ জুন থেকে দেশে ফেরার ফ্লাইট শুরু হয়। ওইদিন বাংলাদেশ বিমানের প্রথম ফিরতি ফ্লাইট ৪১৭ হাজি নিয়ে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। আগামী ২২ জুলাই পর্যন্ত হাজিদের ফিরতি ফ্লাইট অব্যাহত থাকবে।

এবার বাংলাদেশ থেকে মোট ৮৫ হাজার ২২৫ জন (ব্যবস্থাপনা সদস্যসহ) হজযাত্রী সৌদি আরবে গেছেন। হজে গিয়ে এখন পর্যন্ত ৪৭ জন বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে পুুরুষ ৩৬ এবং নারী ১১ জন।