img

দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে ফের রেকর্ড

প্রকাশিত :  ১৬:৩০, ০৬ এপ্রিল ২০২৪

দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে ফের রেকর্ড

দেশের বাজারে ফের সোনার দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এবার ভালো মানের (২২ ক্যারেট) প্রতি ভরিতে বেড়েছে সর্বোচ্চ ১৭৫০ টাকা। এ নিয়ে দেশের বাজারে ভালো মানের সোনা এক ভরি (২২ ক্যারেট) বিক্রি হবে এক লাখ ১৫ হাজার ৮২৪ টাকায়।

সারাদেশে সোনার নতুন এ দর কার্যকর হবে আগামীকাল রবিবার (৭ এপ্রিল) থেকে  ।

শনিবার (৬ এপ্রিল) বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সোনার দাম বাড়ার তথ্য জানায়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবী (পিওর গোল্ড) সোনার মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। সে কারণে সোনার দাম সমন্বয়ের সদ্ধিান্ত নিয়েছে বাজুস।

নতুন মূল্য অনুযায়ী ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম বেড়ে ১ লাখ ১০ হাজার ৫৭৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ৯৪ হাজার ৭৭০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর সনাতন পদ্ধতির এক ভরি সোনার দাম ৭৮ হাজার ৯৬৫ টাকা করা হয়েছে।

তবে, অপরিবর্তীত রয়েছে রুপার দাম। ক্যাটাগরি অনুযায়ী বর্তমানে ২২ ক্যারেটের রুপার দাম ভরি দুই হাজার ১০০ টাকা। ২১ ক্যারেটের রুপার দাম ভরি দুই হাজার ৬ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের রুপার দাম ভরি এক হাজার ৭১৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়। আর সনাতন পদ্ধতির এক ভরি রুপার দাম এক হাজার ২৮৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (২১ মার্চ) দেশের বাজারে সব থেকে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের এক ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) সোনার দাম এক লাফে ২ হাজার ৯১৬ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয় এক লাখ ১৪ হাজার ৭৩ টাকা।

img

ব্যাংকে আমানত কমেছে ১৩ হাজার কোটি টাকা

প্রকাশিত :  ১১:২১, ২৭ মে ২০২৪

এক মাসের ব্যবধানে ব্যাংক খাতে আমানত কমেছে ১৩ হাজার কোটি টাকা। ব্যাংক একীভূতকরণ আতঙ্কে শেষ ডিসেম্বর থেকে চলতি বছর জানুয়ারি- ১ মাসের ব্যবধানে ব্যাংকের এ আমানত কমেছে। 

বাংলাদেশ ব্যংকের প্রকাশিত ‘ইসলামিক ব্যাংকিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স স্টাটিসটিক’ শীর্ষক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

সেখানে দেখা যাচ্ছে: যেখানে শেষ ডিসেম্বরে ব্যাংকিং খাতে আমানত ছিলো ১৭ লাখ ৭০ হাজার ৩৬৩ কোটি টাকা। সেখানে জানুয়ারিতে এসে সেই আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৭ লাখ ৫৭ হাজার ৪২৩ কোটি টাকা। টাকার অঙ্কে প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা কম।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে: ব্যাংক খাতের মোট আমানতের মধ্যে জানুয়ারি শেষে শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোতে রয়েছে ৪ লাখ ১৩ হাজার ৯৬৯ কোটি টাকা। যা গত ডিসেম্বর শেষে ছিল ৪ লাখ ২২ হাজার ৪৬৪ কোটি টাকা।

সে হিসাবে শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোতে জানুয়ারিতে আমানত কমেছে ৮ হাজার ৪৯৫ কোটি টাকা। আর প্রচলিত ধারার ব্যাংকগুলোতে কমেছে ৪ হাজার ৪৪৩ কোটি টাকা।

এমন পরিস্থিতি প্রসঙ্গে ব্যাংকাররা বলছেন, সুদ যোগ হয়ে সব সময় আমানতের স্থিতি বাড়ে। কিন্তু জানুয়ারিতে কেন কমল, তার সুনির্দিষ্ট কারণ বলা কঠিন। গত ডিসেম্বরে বাংলাদেশ ব্যাংক কয়েকটি দুর্বল ব্যাংক একীভূতকরণের সিদ্ধান্ত জানানোর পর না বুঝে অনেকে টাকা তোলা শুরু করেন।

‘‘মার্চে আনুষ্ঠানিক একীভূতকরণ শুরুর পর আতঙ্ক আরও বেড়েছে। হয়তো তারই প্রভাবে আমানত কমেছে।’’

এ প্রসঙ্গে অর্থনীতিবীদ ড. মাহফুজ কবীর বলছেন: একীভূতকরণ নিয়ে অনেক আমানকারীদের মধ্যে ভয় রয়েছে। কোন ব্যাংক কার সঙ্গে একীভূত হয় এবং একীভূত হলে টাকা ফেরত পাওয়া যাবে কি না এমন সন্দেহে অনেকেই টাকা তুলে নিচ্ছেন।

‘‘এর বাইরে মূল্যস্ফীতি বাড়ায় বাড়তি টাকার প্রয়োজন হওয়ায় অনেক গ্রাহক তাদের ফিক্সড ডিপোজিট ভাঙ্গানোসহ অন্যান সঞ্চয়ের টাকা ব্যাংক থেকে তুলে নিচ্ছেন। এটাও আমানত কমার একটি কারণ।’’

এমন পরিস্থিতিতে বেসিক ব্যাংকের পক্ষ থেকে অর্থমন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়ে বলা হয়েছে: ৮ এপ্রিল একটি বেসরকারি ব্যাংকের সঙ্গে একীভূতকরণ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের প্রেক্ষিতে অস্বাভাবিকভাবে আমানত উত্তলন করা হচ্ছে।

এমন পরিস্থিতিতে গভীর সঙ্কটে পড়েছে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকটি।

দুর্বল ব্যাংকের সঙ্গে সবল ব্যাংকের একীভূতকরণ প্রক্রিয়ার আলোচনার মাঝে ৪ ফেব্রুয়ারি ব্যাংকিং খাতে শৃংখলা ফেরাতে ও সুশাসন নিশ্চিত করতে ১৭ দফা রোডম্যাপ ঘোষণা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ১৪ মার্চ পদ্মা ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংক, ৩ এপ্রিল সরকারি খাতের রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংককে (রাকাব) বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সঙ্গে এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংককে (বিডিবিএল) সোনালী ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এরপর ৮ এপ্রিল সিটি ব্যাংকের সঙ্গে বেসিক ব্যাংককে এবং সবশেষ বেসরকারি ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) সঙ্গে ন্যাশনাল ব্যাংককে একীভূত করার সিদ্ধান্ত হয়।