img

‘বি’ ক্যাটাগরির ৭ শেয়ার কিনে দিশেহারা বিনিয়োগকারীরা

প্রকাশিত :  ১১:১০, ০৭ এপ্রিল ২০২৪
সর্বশেষ আপডেট: ১২:১৭, ০৮ এপ্রিল ২০২৪

‘বি’ ক্যাটাগরির ৭ শেয়ার কিনে দিশেহারা বিনিয়োগকারীরা

দীর্ঘদিন যাবত প্রবল মন্দাভাব বিরাজ করছে দেশের পুঁজিবাজারে। যার কারণে বিনিয়োগকারীদের লোকসান অসহনীয় পর্যায়ে উপনীত হয়েছে। বিদায়ী সপ্তাহে বাজার কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোতে বিনিয়োগকারীরা নতুন করে আশা দেখতে শুরু করেছেন। তারপরও সপ্তাহশেষে ‘বি’ ক্যাটাগরির সাত শেয়ার কিনে বিনিয়োগকারীরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। সপ্তাহশেষে এই সাত শেয়ারে তারা আরও বড় লোকসানের মুখে পড়েছেন।

‘বি’ ক্যাটাগরির এই কোম্পানিগুলো হলো- এমারেল্ড ওয়েল, বিডি থাই অ্যালুমিনিয়াম, গোল্ডেন সন, সেন্ট্রাল ফার্মা, গোল্ডেন হার্ভেস্ট, দেশবন্ধু পলিমার ও একমি পেস্টিসাইডস লিমিটেড। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

কোম্পানিগুলোর মধ্যে এমারেল্ড ওয়েল ও একমি পেস্টিসাইডসের শেয়ারের দাম আগের সপ্তাহেও কমেছে। দুই সপ্তাহ মিলে কোম্পানি দুটির শেয়ার দাম সবচেয়ে বেশি কমেছে।

অন্যদিকে, বিডি থাই অ্যালুমিনিয়াম, গোল্ডেন সন, সেন্ট্রাল ফার্মা, গোল্ডেন হার্ভেস্ট ও দেশবন্ধু পলিমারের শেয়ার দাম আগের সপ্তাহে সামান্য ইতিবাচক ছিল। গেল সপ্তাহে দাম সংশোধন হয়েছে। তারপরও দুই সপ্তাহ মিলে এই কোম্পানিগুলোর শেয়ার দামও কমেছে।

কোম্পানিগুলোর মধ্যে সপ্তাহের ব্যবধানে এমারেল্ড ওয়েলের শেয়ারের দাম কমেছে ১৫.৮৭ শতাংশ, বিডি থাই অ্যালুমিনিয়ামের ১২.৩৬ শতাংশ, গোল্ডেন সনের ১২.১৬ শতাংশ, সেন্ট্রাল ফার্মার ১০.১০ শতাংশ, গোল্ডেন হার্ভেস্টের ৯.৮৪ শতাংশ, দেশবন্ধু পলিমারের ৯.২০ শতাংশ এবং একমি পেস্টিসাইডসের ৮.২৬ শতাংশ।

img

ব্যাংকে আমানত কমেছে ১৩ হাজার কোটি টাকা

প্রকাশিত :  ১১:২১, ২৭ মে ২০২৪

এক মাসের ব্যবধানে ব্যাংক খাতে আমানত কমেছে ১৩ হাজার কোটি টাকা। ব্যাংক একীভূতকরণ আতঙ্কে শেষ ডিসেম্বর থেকে চলতি বছর জানুয়ারি- ১ মাসের ব্যবধানে ব্যাংকের এ আমানত কমেছে। 

বাংলাদেশ ব্যংকের প্রকাশিত ‘ইসলামিক ব্যাংকিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স স্টাটিসটিক’ শীর্ষক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

সেখানে দেখা যাচ্ছে: যেখানে শেষ ডিসেম্বরে ব্যাংকিং খাতে আমানত ছিলো ১৭ লাখ ৭০ হাজার ৩৬৩ কোটি টাকা। সেখানে জানুয়ারিতে এসে সেই আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৭ লাখ ৫৭ হাজার ৪২৩ কোটি টাকা। টাকার অঙ্কে প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা কম।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে: ব্যাংক খাতের মোট আমানতের মধ্যে জানুয়ারি শেষে শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোতে রয়েছে ৪ লাখ ১৩ হাজার ৯৬৯ কোটি টাকা। যা গত ডিসেম্বর শেষে ছিল ৪ লাখ ২২ হাজার ৪৬৪ কোটি টাকা।

সে হিসাবে শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোতে জানুয়ারিতে আমানত কমেছে ৮ হাজার ৪৯৫ কোটি টাকা। আর প্রচলিত ধারার ব্যাংকগুলোতে কমেছে ৪ হাজার ৪৪৩ কোটি টাকা।

এমন পরিস্থিতি প্রসঙ্গে ব্যাংকাররা বলছেন, সুদ যোগ হয়ে সব সময় আমানতের স্থিতি বাড়ে। কিন্তু জানুয়ারিতে কেন কমল, তার সুনির্দিষ্ট কারণ বলা কঠিন। গত ডিসেম্বরে বাংলাদেশ ব্যাংক কয়েকটি দুর্বল ব্যাংক একীভূতকরণের সিদ্ধান্ত জানানোর পর না বুঝে অনেকে টাকা তোলা শুরু করেন।

‘‘মার্চে আনুষ্ঠানিক একীভূতকরণ শুরুর পর আতঙ্ক আরও বেড়েছে। হয়তো তারই প্রভাবে আমানত কমেছে।’’

এ প্রসঙ্গে অর্থনীতিবীদ ড. মাহফুজ কবীর বলছেন: একীভূতকরণ নিয়ে অনেক আমানকারীদের মধ্যে ভয় রয়েছে। কোন ব্যাংক কার সঙ্গে একীভূত হয় এবং একীভূত হলে টাকা ফেরত পাওয়া যাবে কি না এমন সন্দেহে অনেকেই টাকা তুলে নিচ্ছেন।

‘‘এর বাইরে মূল্যস্ফীতি বাড়ায় বাড়তি টাকার প্রয়োজন হওয়ায় অনেক গ্রাহক তাদের ফিক্সড ডিপোজিট ভাঙ্গানোসহ অন্যান সঞ্চয়ের টাকা ব্যাংক থেকে তুলে নিচ্ছেন। এটাও আমানত কমার একটি কারণ।’’

এমন পরিস্থিতিতে বেসিক ব্যাংকের পক্ষ থেকে অর্থমন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়ে বলা হয়েছে: ৮ এপ্রিল একটি বেসরকারি ব্যাংকের সঙ্গে একীভূতকরণ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের প্রেক্ষিতে অস্বাভাবিকভাবে আমানত উত্তলন করা হচ্ছে।

এমন পরিস্থিতিতে গভীর সঙ্কটে পড়েছে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকটি।

দুর্বল ব্যাংকের সঙ্গে সবল ব্যাংকের একীভূতকরণ প্রক্রিয়ার আলোচনার মাঝে ৪ ফেব্রুয়ারি ব্যাংকিং খাতে শৃংখলা ফেরাতে ও সুশাসন নিশ্চিত করতে ১৭ দফা রোডম্যাপ ঘোষণা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ১৪ মার্চ পদ্মা ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংক, ৩ এপ্রিল সরকারি খাতের রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংককে (রাকাব) বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সঙ্গে এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংককে (বিডিবিএল) সোনালী ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এরপর ৮ এপ্রিল সিটি ব্যাংকের সঙ্গে বেসিক ব্যাংককে এবং সবশেষ বেসরকারি ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) সঙ্গে ন্যাশনাল ব্যাংককে একীভূত করার সিদ্ধান্ত হয়।