img

ঈদে প্রিয়জনকে দিতে পারেন যে উপহার

প্রকাশিত :  ০৮:১৬, ০৮ এপ্রিল ২০২৪
সর্বশেষ আপডেট: ০৮:১৮, ০৮ এপ্রিল ২০২৪

ঈদে প্রিয়জনকে দিতে পারেন যে উপহার

ঈদ এলেই উপহার দেওয়া-নেওয়া চলে প্রিয়জনদের মধ্যে। এই উপহার দেওয়ার মাধ্যমে ভালোবাসার জানান দেওয়া হয়। আপনি প্রিয়জনদের প্রতি কতটা যত্নশীল তা বোঝা যাবে উপহারের ধরন দেখে। তবে নিজের সামর্থ্যের চেয়ে বেশি উপহার দিতে যাবেন না। ঈদকে সামনে রেখে প্রিয় কিছু মানুষকে দিতে পারেন ভিন্নরকম উপহার। 

পোশাক

ঈদের উপহারের মধ্যে পোশাকই সবেচয়ে বেশি প্রচলিত। ঈদে প্রিয়জনের মুখে হাসি ফোটাতে চাইলে তার জন্য মানানসই একটি পোশাক উপহার দিতে পারেন। তবে পোশাক কেনার আগে তার পছন্দের ধরন জেনে নিন। অথবা তার কোন ধরনের পোশাক প্রয়োজন তা জেনে নিন। সে অনুযায়ী উপহার দিন।


বই

বই সবচেয়ে ভালো বন্ধু। এটি আমাদের জ্ঞান এবং জানার পরিধি বাড়ায়। তাই ঈদে প্রিয়জনকে বই উপহার দিতে পারেন। ইসলামের ইতিহাস, সংস্কৃতি বা আধ্যাত্মিকতার ওপর লেখা বই উপহার দিতে পারেন। এতে ইসলাম সম্পর্কে তাদের জানাশোনা আরও বৃদ্ধি পাবে।

ঘর সাজানোর উপহার

প্রিয়জনকে ঈদে ঘর সাজানোর জন্য কোনো উপহার দিতে পারেন। এতেও সে দারুণ খুশি হয়ে যাবে। লন্ঠন, ফুলদানি, আঁকা ছবি, শো-পিস ইত্যাদি উপহার দিতে পারেন। এতে তার বাড়ির সৌন্দর্য আরও বৃদ্ধি পাবে এবং সারাবছরই আপনার দেওয়া উপহারটি কাজে লাগবে।

কুকওয়্যার

গৃহিণীরা সবচেয়ে বেশি খুশি হয় সম্ভবত কুকওয়্যার পেলে। তাই এই ঈদে উপহার হিসেবে প্রিয়জনকে এ জাতীয় কিছু দিতে পারেন। তাতে ঈদের সুস্বাদু রান্নায় সেটি কাজে লাগবে। আবার সুন্দর কুকওয়্যার সেট পেলে প্রিয়জনের মুখে হাসিও ফুটে উঠবে।

গয়না বা এক্সেসরিজ

ঈদ উপহারের ক্ষেত্রে গয়না বা এক্সেসরিজ উপহার দিতে পারেন। ঈদে পোশাক ছাড়াও নতুন জুতা, ঘড়ি, চুড়ি, ব্রেসলেট, গলার মালা কিংবা হার, চশমা, বেল্ট, মানিব্যাগ ইত্যাদি হলে মন্দ হয় না। তাই এখান থেকে প্রিয়জনের জন্য মানানসই উপহারটি কিনে দিতে পারেন।


img

স্ট্রেস মোকাবেলা করবেন কিভাবে?

প্রকাশিত :  ১২:৫৪, ২৬ মে ২০২৪

স্ট্রেস বা মানসিক চাপ বেশ পরিচিত একটি শব্দ। সাম্প্রতিক সময়ে এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর, যিনি জীবনের কোনো এক পর্যায়ে মানসিক চাপের শিকার হননি। যার মন আছে তার মনে চোট লাগতেই পারে। শুরুতে টুকটাক মন খারাপ, হতাশা কিংবা অবসাদ, কখনো বা রাগ ও সাময়িক উত্তেজনা- এভাবেই স্ট্রেসের শুরু।

একটি কথা বলা ভালো—আমাদের জীবনে আসে চ্যালেঞ্জ, আসে বাধাবিঘ্ন। আসে প্রতিকূল পরিস্থিতি। আসে হুমকি। আর একে রুখে দেয়ার জন্যে শরীরে যে স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হয় তা হলো স্ট্রেস।

স্বল্প সময়ের স্ট্রেস আনতে পারে হিতকর ফল। বৈরি পরিবেশ মোকাবেলা করতে মানিয়ে নিতে শেখায় নিজেকে। কিন্তু ক্রনিক স্ট্রেস শরীরের ওপর মনের ওপর আঘাত হানে আর এতে ঘটে মানসিক সমস্যা, যেমন : বিষণ্ণতা দুশ্চিন্তা অনিদ্রা। আর শরীরও রেহাই পায় না। হতে পারে ডায়েবেটিস, হৃদরোগ।

কী করে মোকাবেলা করা যাবে স্ট্রেস?

মাইন্ডফুলনেস বা মনোযোগিতা আর ধ্যান। আত্মমগ্নতা সম্ভব ধ্যানে। এতে থাকা যাবে বর্তমানে। আর মন হবে লক্ষ্যনির্দিষ্ট বা ফোকাসড।

ধ্যান মনকে করে শিথিল, শান্ত করে স্নায়ু। কমায় স্নায়ুর চাপ। চিন্তাভাবনা আর আবেগের ওপর ফিরিয়ে আনে নিয়ন্ত্রণ।

নিয়মিত ব্যায়াম। শরীরচর্চার ফলে নিঃসৃত হয় এন্ডোরফিন, যা প্রকৃতিজাত মুড লিফটার। হতে পারে দ্রুত হাঁটা, ইয়োগা। নিয়মিত ব্যায়াম কমায় স্ট্রেস। আর বাড়ায় সার্বিক কুশল।

সেইসাথে খেতে হবে সুষম খাদ্য। এতে থাকবে প্রচুর ফল সবজি নানা রঙের, হোল গ্রেন, কচি মাংস, মাছ, দুধ, ডিম, বাদাম, পানি। তাতে স্ট্রেস প্রতিহত করার জন্যে শরীর প্রস্তুত হয়।

এড়িয়ে যেতে হবে প্রসেস করা বা প্রক্রিয়াজাত খাবার, কোমল পানীয়, বেশি তেল, চর্বি, চিনি, মিষ্টি। বাদ দিতে হবে ধূমপান আর মদ্যপান।

যথেষ্ট ভালো ঘুম চাই। একটি সুনিদ্রার রাত দরকার স্ট্রেস কমানোর জন্যে।

ঘুমের স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে এজন্যে। ঘুমের জন্যে চাই শান্ত শীতল কোলাহলমুক্ত পরিবেশ, ডিজিটাল ডিভাইসমুক্ত পরিবেশ। ঘুমের দু-তিনটি ঘণ্টা আগে ক্যাফেইন বাদ। ভরপেট খাওয়া বাদ। ঘুমের আগে মোবাইল, টিভি, ফোন থেকে দূরে থাকা।

বাস্তবসম্মত লক্ষ্যে ধাবিত হতে হবে। অবাস্তব প্রত্যাশা সৃষ্টি করে স্ট্রেস।

আয়াসসাধ্য লক্ষ্য স্থির করতে হবে আর ছোট ছোট ধাপে কাজ করে এগিয়ে যেতে হবে।

কার্যকর টাইম ম্যানেজমেন্ট করতে জানলে স্ট্রেস হয় না। টু ডু লিস্ট করুন। কাজ হবে।

প্রিয়জনের সাথে সংযোগ রাখুন। সোশ্যাল সাপোর্ট খুব দরকার। এজন্যে যুক্ত থাকতে হবে পরিবার, প্রতিবেশী আর বন্ধুদের সাথে। অনুভূতি উদ্বেগ সব শেয়ার করতে হবে।

‘না’ বলা শিখতে হবে। নিজের সীমাবদ্ধতা জানতে আর স্বস্তি বোধ না করলে ‘না’ বলতে হবে। বেশি বেশি অঙ্গীকার করা মানে অনেক বেশি স্ট্রেস।

রিলাক্সেশন বা শিথিলায়ন কৌশল আছে নানা রকম। যেমন : ব্রিদিং টেকনিক, প্রাণায়াম, ইয়োগা, ডিপ ব্রিদিং ভালো কিছু টেকনিক স্ট্রেস কমানোর জন্যে।

প্রয়োজনে চাইতে হবে পেশাদার পরামর্শ। মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা মনোবিদের দিক-নির্দেশনা নিতে পারেন।