img

মালয়েশিয়ায় ঈদের দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় ৩ বাংলাদেশি নিহত 

প্রকাশিত :  ১৯:৩৪, ১০ এপ্রিল ২০২৪

মালয়েশিয়ায় ঈদের দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় ৩ বাংলাদেশি নিহত 

ঈদের দিনে মালয়েশিয়ার পেরাক প্রদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় ৩ বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও একজন আহত হয়েছেন।

বুধবার (১০ এপ্রিল) বিকেলে দেশটির পেরাক রাজ্যের কাম্পার এলাকায় উত্তর-দক্ষিণ এক্সপ্রেসওয়েতে একটি লরির সঙ্গে ধাক্কা লেগে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

পেরাক প্রদেশের কাম্পার পুলিশপ্রধান নাজরি দাউদ জানান, চালকসহ ৮ জন বহনকারী গাড়িটি ক্যামেরুন হাইল্যান্ড থেকে কুয়ালালামপুরে দিকে যাচ্ছিল। চলন্ত গাড়ির টায়ার ফেটে গেলে চালক নিয়ন্ত্রণ হারায়। এ সময় গাড়িটা একটি লরি সঙ্গে ধাক্কা দিলে দুমড়ে-মুচড়ে যায়।

দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই ৩ জন বাংলাদেশি মারা যায়। নিহতরা হলেন- আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ (৩১), আলী আসকার, মো. সোহেল মিয়া। গাড়ির চালক মো. কবির হোসেন (৩২), মো. সাইফুল ইসলাম (২৫), মো. রাজু মিয়া (২৭) ও সোহেল রানা (৩০) রক্ষা পেলেও মোহাম্মদ সোহেল (২৪) পেটে, মাথায় গুরতর আঘাত পান। আহত যাত্রীদেরকে চিকিৎসার জন্য তাপাহ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

দেশটি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বার্নামা জানিয়েছে, দুর্ঘটনার শিকার হওয়া ৭ জন বাংলাদেশি মালয়েশিয়ার ক্যামেরন হাইল্যান্ড এলাকার বাগানের শ্রমিক ছিলেন।


কমিউনিটি এর আরও খবর

img

ব্রিটেনে রাজনৈতিক আশ্রয় চাওয়া ১০ হাজার বাংলাদেশিকে ফিরতে হবে যে কারণে

প্রকাশিত :  ১৪:০০, ২৩ মে ২০২৪

জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো লন্ডনে, যেখানে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক

আশ্রয়ের আবেদন করেছে তাদের মাত্র ৫ শতাংশের আবেদন সফল হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।

রাজনৈতিক আশ্রয় লাভের যে সুবিধা ব্রিটেনে রয়েছে বাংলাদেশিরা সেটির অপব্যবহারের চেষ্টা করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এজন্য তারা পেছনের দরজা ব্যবহারের চেষ্টা করছে বলে দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

সর্বাধিক আবেদন করেছেন পাকিস্তান থেকে আসা ব্যক্তিরা। তাদের সংখ্যা ১৭ হাজার ৪০০—এর মতো। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারত, যাদের আবেদনের সংখ্যা ৭ হাজার ৪০০।

লন্ডনে বাংলাদেশের হাইকমিশন থেকে জানানো হয়েছে, আগে ইইউর সঙ্গে থাকা চুক্তির আওতায় ব্রিটেন থেকে অবৈধ নাগরিকদের ফেরত পাঠানো হলেও ব্রেক্সিটের পর দেশটির সঙ্গে কোনো চুক্তি ছিল না। তাই এই সমঝোতা করা হয়েছে। তবে, এটি ছাড়াও এতদিন নাগরিকদের ফেরত পাঠানো যেত। তাহলে সমঝোতা স্মারকে নতুন কী সুবিধা পাওয়া যাবে?

তা ছাড়া ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদন বলছে, মাত্র ৫ শতাংশ বাংলাদেশির রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন গৃহীত হয়। তাহলে, বেশির ভাগ আবেদন খারিজ হয় কেন? এ নিয়ে অভিবাসনসংক্রান্ত আইনজীবীরা কী বলছেন?

সমঝোতা স্মারকের তাৎপর্য

আগে থেকেই অবৈধ অভিবাসীদের প্রত্যাবাসনের জন্য ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সঙ্গে বাংলাদেশের একটা স্ট্যান্ডার্ড অপারেশন প্রসিডিওর (আদর্শ কর্ম প্রক্রিয়া) বা এসওপি ছিল। এর আওতায়ই ইউরোপের কোনো দেশে অনুমোদনহীন কোনো বাংলাদেশি থাকলে তাকে দেশে ফেরত পাঠানো হতো।

২০২০ সালের পহেলা ফেব্রুয়ারি থেকে ব্রিটেন আনুষ্ঠানিকভাবে ইইউ থেকে বেরিয়ে যায়। ফলে, দেশটির বেলায় আর এসওপি প্রযোজ্য ছিল না। যে কারণে বিভিন্ন ক্ষেত্রে নতুন করে আলাপ আলোচনা শুরু করতে হয় বলে জানান লন্ডনে বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনিম।

‘দুই দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে অনেক বিষয় আমরা কমিউনিকেট করতে পারছিলাম না, আলাপ আলোচনাও হচ্ছিল না। সে জন্য জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করা হয়।’

জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো লন্ডনে, যেখানে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারকটি সই হয়।

যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তর জানায়, এর ফলে অবৈধ বাংলাদেশিদের প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে একটি বাধা দূর হবে। এত দিন কাউকে ফেরত পাঠাতে হলে বাধ্যতামূলকভাবে তার একটি সাক্ষাৎকার নিতে হতো নিজ দেশের দূতাবাসকে।

এখন থেকে যথেষ্ট তথ্য প্রমাণ থাকলে এই ‘ম্যান্ডাটরি ইন্টারভিউ’—এর প্রয়োজন হবে না বলে উল্লেখ করা হয়েছে স্বরাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইটে।

বাংলাদেশের হাইকমিশনার বলেন, ‘এখন যেহেতু এমআরপি আছে বা ই—পাসপোর্ট আছে এখন ইন্টারভিউয়ের প্রয়োজন পড়ে না।’

এর আগে আলবেনিয়া সরকারের সঙ্গে প্রত্যাবাসন চুক্তি করে ব্রিটেন। সেই চুক্তির পর দেশটি থেকে ছোট ছোট নৌকায় চড়ে যুক্তরাজ্যে অনুপ্রবেশ ৯০ শতাংশ কমে গেছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র দপ্তর।

‘অবৈধ বাংলাদেশির সংখ্যা বেশি নয়’

যুক্তরাজ্যে অবৈধ বাংলাদেশির সংখ্যা অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক কম বলে জানান তাসনিম। তিনি বলেন, ‘২০১২—১৩ সালের দিকে প্রতি মাসে এক থেকে দেড়শ জনকে ফেরত পাঠানো হতো। কিন্তু, এখন প্রতি মাসে মাত্র ছয়—সাতজনের ইন্টারভিউ নিই।’

‘সেখান থেকে হয়তো তিনজনকে পাঠানো হয়,’ যোগ করেন তিনি।

সুনির্দিষ্ট অবস্থান না বলতে পারলেও বাংলাদেশের হাই কমিশনারের ধারণা, যুক্তরাজ্যে অবৈধ অভিবাসীর সংখ্যার তালিকায় দেশটির অবস্থান ২০—এরও পরে হবে। মোট অবৈধ অভিবাসীর সংখ্যার ভিত্তিতে জানা না গেলেও রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থীর দিকে বাংলাদেশ অষ্টম অবস্থানে আছে।

যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের তথ্যে দেখা যায় ২০১০ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ১২ বছরে ১৫ হাজার ৯৫০ বাংলাদেশি রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেছেন। তবে, দ্য টেলিগ্রাফ বলছে এসব আবেদনের ৯৫ শতাংশই খারিজ হয়ে গেছে।

এত আবেদন খারিজ কেন?

বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাজ্যে সাধারণতা তিন ধরনের ভিসা নিয়ে যাওয়া ব্যক্তিরা রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করেন বলে জানাচ্ছে দ্য টেলিগ্রাফ। সংবাদমাধ্যমটির তথ্য, শিক্ষার্থী, শ্রমিক বা ভ্রমণ ভিসায় গিয়ে দেশটিতে স্থায়ীভাবে থাকার প্রত্যাশায় অ্যাসাইলামের আবেদন করেন অনেকে।

যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশ থেকে যাওয়া অভিবাসীদের আইনি সহায়তা দিয়ে থাকেন সিনিয়র কোর্ট অফ ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলসের সলিসিটর আব্দুর রকিব। তিনি জানান, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায় জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী যেসব শর্ত মিললে অ্যাসাইলাম পাওয়া যায়, সেগুলো মিলছে না। নিজ দেশে জীবনের ঝুঁকি আছে, এটি প্রমাণ করতে না পারলে, রাজনৈতিক আশ্রয় পাওয়ার সুযোগ থাকে না।’

আরেকজন আইনজীবী জুয়েল চক্রবর্তী জানান, ‘অনেকে ডকুমেন্ট অনুযায়ী প্রোপার ইন্টারভিউ দিতে পারেন না।’

নতুন সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের খবরে অভিবাসন বিষয়ক আইনজীবীদের উদ্বিগ্ন হয়ে কেউ কেউ ফোন করছেন বলেও জানালেন জুয়েল।

অভিবাসন নীতিমালা ‘কঠোর’ করছে যুক্তরাজ্য

যুক্তরাজ্য সরকারের এক পরিসংখ্যানে দেখা যায় যে, ২০২২ সালে দেশটিতে ৭ লাখ ৪৫ হাজার মানুষ অভিবাসন গ্রহণ করেছে, যেটি যুক্তরাজ্যের অভিবাসন ইতিহাসে সর্বোচ্চ। অভিবাসন কমানোর উদ্দেশ্যে ২০২৩ সালের শেষদিকে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ‘পাঁচ দফা পরিকল্পনা’ ঘোষণা করে। এতে সোশ্যাল কেয়ার ওয়ার্কারদের (সামাজিক সেবা প্রদানকারী) ভিসার ভিত্তিতে স্বামী—স্ত্রী, সন্তানদের নেয়ার সুযোগ বাতিলের কথা জানানো হয়।

একই ভাবে, স্পাউস বা পার্টনার ভিসায় স্বামী, স্ত্রী বা সঙ্গীকে নিতে হলে ওই ব্যক্তির আয়ের যে সীমা নির্ধারিত ছিল তা—ও বাড়ানো হয়।

লন্ডনভিত্তিক অভিবাসন আইনজীবী আব্দুর রকিব বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই এই দেশে অভিবাসনবিরোধী জনমত প্রবল। ফলে এটি রাজনৈতিক অঙ্গীকারেও অগ্রাধিকার পেয়ে আসছে। ‘এখানকার মানুষ এত মাইগ্রেন্ট চায় না। অবৈধভাবে থেকে কম প্রাইসে কাজ করবে, কিছু মৌলিক সুবিধা নেবে। এতে অন্য ব্রিটিশরা বঞ্চিত হবে।’ 

‘পলিটিক্যাল প্রেশার এটা,’ যোগ করেন তিনি।

গত কয়েকটি জাতীয় নির্বাচনে কনজারভেটিভ পার্টি তাদের ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি হিসেবে অভিবাসীর সংখ্যা হ্রাসের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায়, রাকিব মনে করেন, আগামী নির্বাচনের আগে সরকার দেখাতে চায় যে তারা কাজ করছে।

কমিউনিটি এর আরও খবর