img

ইরানের ওপর ব্রিটেন-আমেরিকার নতুন নিষেধাজ্ঞা

প্রকাশিত :  ১৮:২২, ১৮ এপ্রিল ২০২৪
সর্বশেষ আপডেট: ০৪:০২, ১৯ এপ্রিল ২০২৪

ইরানের ওপর ব্রিটেন-আমেরিকার নতুন নিষেধাজ্ঞা

ইহুদিবাদী ইসরায়েলের প্রধান মিত্রদেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য ইরানের ওপর ফের নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছে। ইসরায়েলে ইরানের হামলার পর পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে দেশ দুটি। খবর পলিটিকো ইইউ ও আল জাজিরার।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানের ইউএভি (ড্রোন) উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত ১৬ ব্যক্তি এবং ২টি প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এরা ইরানের শাহেদ ড্রোন নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত। ওই ড্রোন ১৩ এপ্রিলের হামলায় ব্যবহার করা হয়েছে।

যুক্তরাজ্যও ইরানের ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সঙ্গে যুক্ত দেশটির সামরিক বাহিনী-সংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকটি সংস্থা, ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে।

শনিবার রাতে ইসরাইলে প্রত্যাশিত ও অভাবনীয় হামলা চালায় ইরান। ১ এপ্রিল সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে ইরানের কনস্যুলেটে ইসরাইলের বিমান হামলায় কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মকর্তা নিহতের প্রতিশোদ হিসেবে ওই হামলা চালানো হয়।

এ হামলায় তিন শতাধিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইরান। এগুলোর বেশির ভাগই আকাশে ধ্বংস করার দাবি করেছে ইসরাইল। এ হামলা রুখতে ইসরাইলকে সহায়তা করে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জর্ডান।

এ হামলার জবাবে ইরানে পাল্টা হামলা চালানোর ঘোষণা দিয়েছে ইসরাইল। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, নিজেদের সুরক্ষার অধিকার ইসরাইলের রয়েছে।

ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিয়ে এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী জ্যানেট ইয়েলেন বলেছেন, আজকে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে সমন্বয় এবং অংশীদার ও মিত্রদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে আমরা ইসরাইলে ইরানের নজিরবিহীন হামলার জবাব দিতে দ্রুত ও সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছি।

ইরানের মারাত্মক কর্মকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো ব্যাহত ও নস্যাৎ করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক উপকরণগুলো (টুল) ব্যবহার করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি। আগামীতে ইরানের ওপর আরও নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার লক্ষ্যে কর্তৃপক্ষগুলোর তৎপরতা অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।



যুক্তরাজ্য এর আরও খবর

ইংলিশ চ্যানেলে নৌকা ডুবে শিশুসহ নিহত ৫ | JANOMOT | জনমত

ব্রিটেনে আগাম নির্বাচন

img

সরে দাঁড়ালেন ৭৮ ব্রিটিশ এমপি, বিপাকে ঋষি সুনাক

প্রকাশিত :  ১৮:৩১, ২৬ মে ২০২৪
সর্বশেষ আপডেট: ১৮:৩৪, ২৬ মে ২০২৪

আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দিয়ে বড় সমস্যায় পড়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক। ভোটের আগে তার দলের ৭৮ জন সংসদ সদস্য বলেছেন, তারা আগামী নির্বাচনে লড়বেন না। এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া নেতাদের মধ্যে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরাও রয়েছেন।

যুক্তরাজ্যের আইন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারির মধ্যে সাধারণ নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। কিন্তু সুনাকের কনজারভেটিভ পার্টি নির্বাচন স্থগিত করার দাবি জানিয়ে আসছিল। কারণ গত কয়েক মাসে দলটির নেতাদের প্রতি ভোটারদের আস্থা প্রায় তলানিতে পৌঁছেছে। একের পর এক জরিপে দেখা গেছে, ব্রিটিশ রাজনীতির ইতিহাসে রক্ষণশীল পার্টির সবচেয়ে খারাপ ফলাফল হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে পরাজয় নিশ্চিত বলে মনে করছেন দলের একটি বড় অংশ।

কিন্তু কার্যত দলকে উড়িয়ে দিয়ে দ্রুত নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন ঋষি সুনক। তিনি বলেন, আগামী ৪ জুলাই দেশটির সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ভারতীয় বংশোদ্ভূত ঋষি সেখানে প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

পার্টি লাইনের "বিরুদ্ধে" একটি স্ন্যাপ নির্বাচনের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেছিলেন, যুক্তরাজ্যের ভবিষ্যত বেছে নেওয়ার সময় এসেছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর দাবি, তার নেতৃত্বে দেশ আর্থিক সংকট থেকে মুক্তি পাবে।

তবে নির্বাচনের দিন ঘোষণার পর থেকে একের পর এক কনজারভেটিভ এমপিরা আগামী নির্বাচনে লড়তে চান না বলে জানিয়েছেন। এই তালিকায় প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে, প্রাক্তন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী বেন ওয়ালেস, প্রাক্তন চ্যান্সেলর নাদিম জাহাভি এবং সাজিদ জাভিদের মতো নেতারা রয়েছেন।

ব্রিটিশ দৈনিক দ্য টেলিগ্রাফ জানিয়েছে যে ১৯৯৭ সালের সাধারণ নির্বাচন থেকে সরে আসা টোরি এমপির সংখ্যা রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। স্যার টনি ব্লেয়ারের নেতৃত্বে লেবার পার্টি নির্বাচনে বিপুল বিজয় লাভ করে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কনজারভেটিভ পার্টির নেতারা ধরেই নিয়েছেন, নির্বাচনে তাদের পরাজয় নিশ্চিত। তাই বিব্রত এড়াতে আগাম নাম প্রত্যাহার করা হচ্ছে।

এমন পরিস্থিতিতে অনেকটা আত্মগোপনে চলে গেছেন ঋষি সুনক। সপ্তাহান্তে বিরোধীরা যখন প্রচারণায় ব্যস্ত, তখন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী তার বাসভবনে উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠকে ব্যস্ত।

দ্য গার্ডিয়ানকে সূত্র জানায়, নির্বাচনী প্রচারণার প্রথম সপ্তাহান্তে ঋষি সুনক 'অস্বাভাবিক পদক্ষেপ' নিচ্ছেন। প্রকাশ্য অনুষ্ঠানের পরিবর্তে ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টাদের সঙ্গে নির্বাচনী কৌশল নিয়ে আলোচনায় সময় কাটাবেন তিনি।