img

অফলাইন শেয়ারিং: ইন্টারনেট ছাড়াই হোয়াটসঅ্যাপে ছবি-ফাইল পাঠাবেন যেভাবে

প্রকাশিত :  ০৮:২৯, ২৪ এপ্রিল ২০২৪

 অফলাইন শেয়ারিং: ইন্টারনেট ছাড়াই হোয়াটসঅ্যাপে ছবি-ফাইল পাঠাবেন যেভাবে

জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম হোয়াটসঅ্যাপে আসছে নতুন ফিচার। এতে করে ইন্টারনেট ছাড়াই শেয়ার করা যাবে ছবি, ভিডিও ও বিভিন্ন ডকুমেন্ট। এ সম্পর্কিত একটি স্ক্রিনশট ফাঁস হয়েছে। এতে দেখা গেছে, ডেটা কানেকশন ছাড়াই ছবি পাঠানো যাচ্ছে। অনেক সময় মোবাইলে ইন্টারনেট থাকে না। এ সময় সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোও ব্যবহার করা যায় না। তবে আপনি চাইলে ইন্টারনেট ছাড়াও হোয়াটসঅ্যাপে ছবি-ফাইল আদান-প্রদান করতে পারবেন। 

সম্প্রতি মেটার মালিকানাধীন হোয়াটসঅ্যাপ নতুন এক ফিচার নিয়ে কাজ করছে। এই ফিচারের মাধ্যমে অফলাইনে ফাইল ও ডকুমেন্ট ট্রান্সফার করা যাবে। এই সুবিধা আসতে চলেছে শিগগিরই, পরীক্ষা শুরু করে দিয়েছে মেটা।

হোয়াটসঅ্যাপের নতুন ফিচারে উপকৃত হবেন লাখ লাখ মানুষ। এবার অফলাইনে ছবি, ফাইল ও ডকুমেন্ট শেয়ার করা যাবে। স্মার্টফোনে ইন্টারনেট না থাকলেও চাপ নেই। কারণ ডেটা কানেকশন ছাড়াই অন্য ইউজারকে ছবি পাঠাতে পারবেন। কিন্তু তা কী করে সম্ভব? সংস্থার নতুন ফিচারে সেই কাজ করা যাবে। 

সম্প্রতি সেই তথ্য প্রকাশ করেছে হোয়াটসঅ্যাপ বেটা ইনফো। যারা হোয়াটসঅ্যাপের নানা নতুন ফিচার ট্র্যাক করে থাকে।

আরও জানা গেছে, অফলাইনে শেয়ার হওয়া ফাইল সম্পূর্ণ অ্যান্ড-টু-অ্যান্ড এনক্রিপটেড থাকবে অর্থাৎ প্রাইভেসি নিয়েও নিশ্চিন্ত থাকতে পারবেন। তা জানতে পারবেন না অন্য কেউ। ইউজারদের ভরসা পেতে এনক্রিপট হওয়া খুবই জরুরি বলে মনে করা হচ্ছে।

এই ফিচার সম্পর্কিত একটি স্ক্রিনশট ফাঁস হয়েছে। তবে ফিচারের ছোট্ট একটি টুইস্ট রয়েছে। সেটি আবার কী? জানা গেছে, আপনার কাছাকাছি সেই ডিভাইস থাকতে হবে এবং তাতে অফলাইন ফাইল-শেয়ারিং ফিচার চালু থাকতে হবে। তবেই এই ফিচার কাজ করবে। ফাইল শেয়ারিং ফিচার বর্তমানে সব অ্যানড্রয়েড ফোনেই পাওয়া যায়।

কীভাবে হোয়াটসঅ্যাপে ইন্টারনেট ছাড়াই ফাইল ও ছবি শেয়ার করবেন

অফলাইন ফাইল শেয়ারিং ট্রান্সফারের ক্ষেত্রে কোনো রকম ইন্টারনেটের প্রয়োজন পড়ে না। স্ক্যান করে ব্লুটুথের মাধ্যমে দ্রুত সেই ফাইল এক ফোন থেকে আর এক ফোনে চলে যায়। এটি অন/অফ ও করা যায়, সেই ফিচার কাজে লাগিয়েই হোয়াটসঅ্যাপের এই সিস্টেম কাজ করবে। তবে এক্ষেত্রে কয়েকটি জিনিস মাথায় রাখতে হবে।

হোয়াটসঅ্যাপকে আপনার ফোনের গ্যালারি, ফাইল ও ডকুমেন্ট অ্যাক্সেস করার অনুমতি দিতে হবে। যা না দিলে এই ফিচার কাজ করবে না। তবে হোয়াটসঅ্যাপ জানিয়েছে, ইউজারের নম্বর গোপন থাকবে এবং শেয়ার করা ফাইলগুলো এনক্রিপট করা হবে।

শেয়ার ইট অ্যাপের মতোই অনেকটা কাজ করবে এই ফিচার। যার ব্যবহার এখন বেশ কমে গেছে। নেট কানেকশন বা ওয়াইফাই না থাকলেও পাঠানো যাবে ছবি, ভিডিও, ডকুমেন্ট সব। যা ইউজারদের অনেক ডেটা এবং সময় বাঁচাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

কবে আসবে হোয়াটসঅ্যাপের অফলাইন ফাইল শেয়ারিং ফিচার?

অ্যানড্রয়েড ও আইওএস ফোনে কবে থেকে এই সুবিধা তার দিনক্ষণ জানা যায়নি। ফিচারটি বর্তমানে হোয়াটসঅ্যাপের পরীক্ষাধীন রয়েছে এবং বেটা ভার্সনে পরীক্ষা করা হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, দ্রুত সবার ডিভাইসে রোল আউট শুরু করা হবে। তবে ফিচারটি লাইভ হলে তার সুবিধা পাওয়ার জন্য অবশ্যই অ্যাপটি লেটেস্ট ভার্সনে আপডেট করে নিতে হবে।

img

পৃথিবীর দুই মেরুর অবস্থান কি বদলাচ্ছে

প্রকাশিত :  ১২:১৬, ১৩ জুন ২০২৪

পৃথিবীর উত্তর মেরু আর দক্ষিণ মেরু নিয়ে অনেকেই অনেক কিছু জানি। সেই মেরুর অবস্থান বদলে যাওয়ার কথা জানিয়েছে বিজ্ঞানীরা। সাধারণভাবে উত্তর মেরু প্রতিবছর প্রায় ১৫ কিলোমিটার গতিতে জায়গা বদল করে। ৯০ দশক থেকে এই গতি বেড়েছে। উত্তর মেরু এখন সাইবেরিয়ার দিকে প্রতিবছর প্রায় ৪৫ কিলোমিটার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। বিজ্ঞানীরা চৌম্বকক্ষেত্রের বিপরীত অবস্থান সম্পর্কে পূর্বাভাস দিয়েছে। এই অবস্থায় পৃথিবীর চৌম্বকীয় উত্তর ও দক্ষিণ মেরু অবস্থান পরিবর্তন করে।

আমরা জানি, পৃথিবীর একটি তরল গলিত কেন্দ্র আছে। সেই কেন্দ্রের বাইরে পুরোটাই লোহা ও নিকেল দ্বারা গঠিত। কেন্দ্র উত্তর ও দক্ষিণ মেরুর মাধ্যমে বিস্তৃত একটি বিদ্যুৎ-চৌম্বকীয় ক্ষেত্র তৈরি করে। এর মাধ্যমে পৃথিবী ক্ষতিকর সৌরকণার বিকিরণ থেকে  রক্ষা পায়। পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্রের যে শক্তি তা নানা কারণে ওঠানামা করে। সৌরঝড়ের কারণে ভূ-চৌম্বকীয় ক্ষেত্র স্থির থাকে। এতে উপগ্রহ, বিমান, জাহাজ ও গাড়ির নেভিগেশন যন্ত্রে সমস্যা তৈরি হয়। সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে চৌম্বকক্ষেত্রের বাঁকবদলের কারণে মেরুর আচরণ বদলে যাচ্ছে। ‘জিওফিজিক্যাল রিসার্চ: স্পেস ফিজিকস’ জার্নালে মেরুর আচরণ নিয়ে একটি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে।

নিম্ন থেকে মাঝারি মাত্রার ভূ-চৌম্বকীয় অবস্থার মধ্যে পার্থক্য বোঝার চেষ্টা করে গবেষকরা। প্রায় ৯৮ শতাংশ এলাকাজুড়ে এমন ধরনের ভূ-চৌম্বকীয় প্রভাব থাকে। পৃথিবীর ওপর থেকে উপগ্রহ পর্যবেক্ষণ বিশ্লেষণ করা হয়। পৃথিবীর চৌম্বক মেরুতে বিভিন্ন পরিবর্তন এসব উপগ্রহ পর্যবেক্ষণ করে। নতুন তথ্য বলছে, উত্তর মেরু প্রতিবছর প্রায় ৪৫ কিলোমিটার উত্তর-উত্তর পশ্চিমে স্থানান্তরিত হচ্ছে।

বিজ্ঞানীদের একজন বলেছে, ‘আমরা সব সময় উত্তর ও দক্ষিণ মেরু অঞ্চলকে স্থির মনে করি। প্রতিসাম্য চৌম্বকীয় ক্ষেত্র বলে অনুমান করি। আসলে দুই মেরু বেশ আলাদা। উত্তর মেরুর অবস্থান প্রায় ৮৪ ডিগ্রি চৌম্বক অক্ষাংশ থেকে ১৬৯ ডিগ্রি চৌম্বক দ্রাঘিমাংশ। দক্ষিণ মেরুর অবস্থান মাইনাস ৭৪ ডিগ্রি থেকে ১৯ ডিগ্রি চৌম্বক দ্রাঘিমাংশ। সোয়ার্ম স্যাটেলাইটের তথ্য বলছে, মেরু চৌম্বকক্ষেত্র গত এক দশক বা তারও বেশি সময় ধরে দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে। চৌম্বকক্ষেত্রের নড়াচড়ার কারণে অনেক জটিলতা তৈরি হতে পারে। আমরা যে জিপিএস ব্যবহার করি তা সঠিকভাবে কাজ নাও করতে পারে।