img

ইসরায়েলের সঙ্গে গুগলের চুক্তি, বিরোধিতা করায় চাকরি গেল ৫০ জনের

প্রকাশিত :  ১১:০৭, ২৪ এপ্রিল ২০২৪

ইসরায়েলের সঙ্গে গুগলের চুক্তি, বিরোধিতা করায় চাকরি গেল ৫০ জনের

দখলদার ইসরায়েল সরকারের সঙ্গে গুগলের ক্লাউড কম্পিউটিং চুক্তির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করায় ২০ জন গুগল কর্মীকে বরখাস্ত করেছে। বিরোধিতাকারী গোষ্ঠীর মতে, এ নিয়ে মোট ৫০ জন কর্মী চাকরি হারিয়েছেন। খবর সিএনএন

নো টেক ফর দ্য অ্যাপার্থাইড’ শীর্ষক এই গোষ্ঠীর প্রতিবাদকারীরা গত সপ্তাহের মঙ্গলবার গুগলের কার্যালয়ে প্রতিবাদ বিক্ষোভ করেন। সোমবার সন্ধ্যায় তারা এক বিবৃতিতে জানান, গুগল ২০ জন কর্মী ছাঁটাই করেছে। এর আগের সপ্তাহে আরও ৩০ জন কর্মী ছাঁটাই করা হয়েছিল।

নো টেক ফর দ্য অ্যাপার্থাইডের দাবি, যাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে, তাদের অনেকেই প্রতিবাদ বিক্ষোভে অংশ নেননি, তারা পাশে দাঁড়িয়ে সমাবেশ দেখেছেন। কর্মক্ষেত্রের এসব তৎপরতায় তারা সক্রিয় ছিলেন না। 

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এভাবে কর্মীদের চাকরিচ্যুত করার মধ্য দিয়ে গুগলের মতো মহিরুহ প্রযুক্তি কোম্পানি আগ্রাসী ও প্রতিশোধমূলক আচরণের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে।

সিএনএনকে দেয়া এক বিবৃতিতে গুগলের মুখপাত্র বলেছেন, সেদিনের প্রতিবাদ বিক্ষোভের কারণে আরও বেশ কিছু কর্মীর চাকরি গেছে। তবে কতজন চাকরি হারিয়েছেন তা তিনি স্পষ্ট করেননি।

গুগলের মুখপাত্র আরও বলেছেন, আবারও নিশ্চিত করা হচ্ছে, যাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে, তারা সবাই ১৬ এপ্রিল গুগল কার্যালয়ের ভেতরে প্রতিবাদ সমাবেশে অংশ নিয়েছিলেন। বিষয়টি সতর্কতার সঙ্গে একাধিকবার নিশ্চিত করা হয়েছে। কিন্তু সেই প্রতিবাদ সমাবেশ আয়োজনকারীদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে, তাদের অনেকে এই সমাবেশ অংশ নেননি বা কার্যালয়ের কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটাননি।

প্রসঙ্গত, ‘প্রজেক্ট নিম্বাস’ নামে গুগল ও অ্যামাজনের সঙ্গে ইসরায়েলের ১২০ কোটি ডলারের ওই চুক্তি রয়েছে। চুক্তির মাধ্যমে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ও সরকারি বিভিন্ন দপ্তরকে ক্লাউড পরিষেবা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইসহ উন্নত প্রযুক্তি সরবরাহ করে গুগল ও অ্যামাজন।

এই চুক্তির বিরোধিতা করে মঙ্গলবার ক্যালিফোর্নিয়ায় অবস্থিত কোম্পানিটির অফিসে শীর্ষ নির্বাহীর কক্ষের সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন ওই কর্মীরা। ওই দিন বিক্ষুব্ধরা প্রায় ১০ ঘণ্টা এই চুক্তির বিরুদ্ধে অবস্থান কর্মসূচি পালনসহ বিক্ষোভ করেন। এই কর্মসূচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। ওই ঘটনার পর বিক্ষোভে জড়িত নয়জনকে অনধিকার প্রবেশের অভিযোগ এনে গ্রেপ্তার করা হয়।

img

পৃথিবীর দুই মেরুর অবস্থান কি বদলাচ্ছে

প্রকাশিত :  ১২:১৬, ১৩ জুন ২০২৪

পৃথিবীর উত্তর মেরু আর দক্ষিণ মেরু নিয়ে অনেকেই অনেক কিছু জানি। সেই মেরুর অবস্থান বদলে যাওয়ার কথা জানিয়েছে বিজ্ঞানীরা। সাধারণভাবে উত্তর মেরু প্রতিবছর প্রায় ১৫ কিলোমিটার গতিতে জায়গা বদল করে। ৯০ দশক থেকে এই গতি বেড়েছে। উত্তর মেরু এখন সাইবেরিয়ার দিকে প্রতিবছর প্রায় ৪৫ কিলোমিটার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। বিজ্ঞানীরা চৌম্বকক্ষেত্রের বিপরীত অবস্থান সম্পর্কে পূর্বাভাস দিয়েছে। এই অবস্থায় পৃথিবীর চৌম্বকীয় উত্তর ও দক্ষিণ মেরু অবস্থান পরিবর্তন করে।

আমরা জানি, পৃথিবীর একটি তরল গলিত কেন্দ্র আছে। সেই কেন্দ্রের বাইরে পুরোটাই লোহা ও নিকেল দ্বারা গঠিত। কেন্দ্র উত্তর ও দক্ষিণ মেরুর মাধ্যমে বিস্তৃত একটি বিদ্যুৎ-চৌম্বকীয় ক্ষেত্র তৈরি করে। এর মাধ্যমে পৃথিবী ক্ষতিকর সৌরকণার বিকিরণ থেকে  রক্ষা পায়। পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্রের যে শক্তি তা নানা কারণে ওঠানামা করে। সৌরঝড়ের কারণে ভূ-চৌম্বকীয় ক্ষেত্র স্থির থাকে। এতে উপগ্রহ, বিমান, জাহাজ ও গাড়ির নেভিগেশন যন্ত্রে সমস্যা তৈরি হয়। সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে চৌম্বকক্ষেত্রের বাঁকবদলের কারণে মেরুর আচরণ বদলে যাচ্ছে। ‘জিওফিজিক্যাল রিসার্চ: স্পেস ফিজিকস’ জার্নালে মেরুর আচরণ নিয়ে একটি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে।

নিম্ন থেকে মাঝারি মাত্রার ভূ-চৌম্বকীয় অবস্থার মধ্যে পার্থক্য বোঝার চেষ্টা করে গবেষকরা। প্রায় ৯৮ শতাংশ এলাকাজুড়ে এমন ধরনের ভূ-চৌম্বকীয় প্রভাব থাকে। পৃথিবীর ওপর থেকে উপগ্রহ পর্যবেক্ষণ বিশ্লেষণ করা হয়। পৃথিবীর চৌম্বক মেরুতে বিভিন্ন পরিবর্তন এসব উপগ্রহ পর্যবেক্ষণ করে। নতুন তথ্য বলছে, উত্তর মেরু প্রতিবছর প্রায় ৪৫ কিলোমিটার উত্তর-উত্তর পশ্চিমে স্থানান্তরিত হচ্ছে।

বিজ্ঞানীদের একজন বলেছে, ‘আমরা সব সময় উত্তর ও দক্ষিণ মেরু অঞ্চলকে স্থির মনে করি। প্রতিসাম্য চৌম্বকীয় ক্ষেত্র বলে অনুমান করি। আসলে দুই মেরু বেশ আলাদা। উত্তর মেরুর অবস্থান প্রায় ৮৪ ডিগ্রি চৌম্বক অক্ষাংশ থেকে ১৬৯ ডিগ্রি চৌম্বক দ্রাঘিমাংশ। দক্ষিণ মেরুর অবস্থান মাইনাস ৭৪ ডিগ্রি থেকে ১৯ ডিগ্রি চৌম্বক দ্রাঘিমাংশ। সোয়ার্ম স্যাটেলাইটের তথ্য বলছে, মেরু চৌম্বকক্ষেত্র গত এক দশক বা তারও বেশি সময় ধরে দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে। চৌম্বকক্ষেত্রের নড়াচড়ার কারণে অনেক জটিলতা তৈরি হতে পারে। আমরা যে জিপিএস ব্যবহার করি তা সঠিকভাবে কাজ নাও করতে পারে।