img

আলো থেকে পানি বাষ্পীভবনের প্রক্রিয়া আবিষ্কার

প্রকাশিত :  ১০:৪৩, ২৮ এপ্রিল ২০২৪
সর্বশেষ আপডেট: ১০:৪৪, ২৮ এপ্রিল ২০২৪

আলো থেকে পানি বাষ্পীভবনের প্রক্রিয়া আবিষ্কার

শক্তির যেমন কোনো ধ্বংস বা বিনাশ নাই তেমনি পানি ব্যবহারে ও পানির কোনো কমতি বা বাড়তি নাই । আদিকালে পানির পরিমাণ যা ছিল এখনো তাই আছে । শুধু ভূপৃষ্ঠ থেকে বায়ুমন্ডলে কিছু পানি যায় আবার বৃষ্টিরুপে ভূপৃষ্ঠে ফিরে আসে।পানিচক্র সংঘটিত করে মূলত সৌর শক্তি। পৃথিবীতে বাষ্পীভূত হওয়া পানির ৮৬ শতাংশই সমুদ্রের পানি, যা পৃথিবীর তাপমাত্রা শীতল রাখতে অবদান রাখে।

সম্প্রতি ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির (এমআইটি) একদল বিজ্ঞানী আবিষ্কার করেছেন, কোনো রকম তাপ ছাড়াই শুধু আলো ব্যবহার করে পানি বাষ্পীভবন করা সম্ভব। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দি ইনডিপেনডেন্ট এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, মেঘ কীভাবে সূর্যের কাছ থেকে বেশি আলো শোষণ করে, তা নিয়ে বহু বছর ধরে বিভ্রান্তিতে রয়েছেন বিজ্ঞানীরা। এই নতুন আবিষ্কারের ফলে প্রায় ৮০ বছরের পুরনো একটি রহস্যের সমাধান হতে পারে।

পারডু ইউনিভার্সিটির মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অধ্যাপক শিউলিন রুয়ান বলেন, ‘তাপের পরিবর্তে আলোর মাধ্যমে পানির বাষ্পীভবন হওয়ার প্রক্রিয়াটি পানি ও আলোর মিথষ্ক্রিয়া সম্পর্কে আমাদের নতুন জ্ঞানের সন্ধান দেবে। এই আবিষ্কার সত্যিই অসাধারণ।’

এই শিক্ষক আরও বলেন, ‘সূর্যের আলো কীভাবে মেঘ, কুয়াশা, সাগর, মহাসাগর ও অন্যান্য জলাশয়ের পানির ও আবহাওয়াকে প্রভাবিত করে, তা সুনির্দিষ্টভাবে জানতে এই আবিষ্কার সহায়তা করবে।’

গবেষকরা জানিয়েছেন, এই আবিষ্কার জলবায়ু পরিবর্তন, আবহাওয়ার পূর্বাভাস, বিশুদ্ধ পানির প্রাকৃতিক উপাদান ইত্যাদি বিষয়ে জানতে নতুন পথ উন্মোচন করবে।

গবেষণার সঙ্গে জড়িত এমআইটি অধ্যাপক গ্যাং চেন বলেন, ‘আমরা এই গবেষণার বিভিন্ন দিক নিয়ে ভেবেছি। এটি নিঃসন্দেহে মৌলিক বিজ্ঞানকে প্রভাবিত করবে। এর মাধ্যমে জলবায়ুর ওপর মেঘের প্রভাব সম্পর্কে বিশদ জানা যাবে।’

‘ফটোমোলিকুলার ইফেক্ট: ভিজিবল লাইট ইন্টারফেস উইথ এয়ার-ওয়াটার ইন্টারফেস’ শীর্ষক গবেষণা প্রবন্ধটি ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেসে (পিএনএএস) প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণা প্রবন্ধটিতে বলা হয়েছে, বিজ্ঞানীরা এ গবেষণার জন্য ১৪টি সুনির্দিষ্ট বিষয়ে শ্রমসাধ্য পরীক্ষা–নিরীক্ষা চালিয়েছেন। এর পর নিশ্চিত হয়েছেন যে, দৃশ্যমান আলোর বর্ণালি থেকে ফোটনগুলো বাতাসের সংস্পর্শে আসা পানির ক্লাস্টারগুলোকে ‘ছিন্ন’ করতে পারে।


img

পৃথিবীর দুই মেরুর অবস্থান কি বদলাচ্ছে

প্রকাশিত :  ১২:১৬, ১৩ জুন ২০২৪

পৃথিবীর উত্তর মেরু আর দক্ষিণ মেরু নিয়ে অনেকেই অনেক কিছু জানি। সেই মেরুর অবস্থান বদলে যাওয়ার কথা জানিয়েছে বিজ্ঞানীরা। সাধারণভাবে উত্তর মেরু প্রতিবছর প্রায় ১৫ কিলোমিটার গতিতে জায়গা বদল করে। ৯০ দশক থেকে এই গতি বেড়েছে। উত্তর মেরু এখন সাইবেরিয়ার দিকে প্রতিবছর প্রায় ৪৫ কিলোমিটার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। বিজ্ঞানীরা চৌম্বকক্ষেত্রের বিপরীত অবস্থান সম্পর্কে পূর্বাভাস দিয়েছে। এই অবস্থায় পৃথিবীর চৌম্বকীয় উত্তর ও দক্ষিণ মেরু অবস্থান পরিবর্তন করে।

আমরা জানি, পৃথিবীর একটি তরল গলিত কেন্দ্র আছে। সেই কেন্দ্রের বাইরে পুরোটাই লোহা ও নিকেল দ্বারা গঠিত। কেন্দ্র উত্তর ও দক্ষিণ মেরুর মাধ্যমে বিস্তৃত একটি বিদ্যুৎ-চৌম্বকীয় ক্ষেত্র তৈরি করে। এর মাধ্যমে পৃথিবী ক্ষতিকর সৌরকণার বিকিরণ থেকে  রক্ষা পায়। পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্রের যে শক্তি তা নানা কারণে ওঠানামা করে। সৌরঝড়ের কারণে ভূ-চৌম্বকীয় ক্ষেত্র স্থির থাকে। এতে উপগ্রহ, বিমান, জাহাজ ও গাড়ির নেভিগেশন যন্ত্রে সমস্যা তৈরি হয়। সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে চৌম্বকক্ষেত্রের বাঁকবদলের কারণে মেরুর আচরণ বদলে যাচ্ছে। ‘জিওফিজিক্যাল রিসার্চ: স্পেস ফিজিকস’ জার্নালে মেরুর আচরণ নিয়ে একটি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে।

নিম্ন থেকে মাঝারি মাত্রার ভূ-চৌম্বকীয় অবস্থার মধ্যে পার্থক্য বোঝার চেষ্টা করে গবেষকরা। প্রায় ৯৮ শতাংশ এলাকাজুড়ে এমন ধরনের ভূ-চৌম্বকীয় প্রভাব থাকে। পৃথিবীর ওপর থেকে উপগ্রহ পর্যবেক্ষণ বিশ্লেষণ করা হয়। পৃথিবীর চৌম্বক মেরুতে বিভিন্ন পরিবর্তন এসব উপগ্রহ পর্যবেক্ষণ করে। নতুন তথ্য বলছে, উত্তর মেরু প্রতিবছর প্রায় ৪৫ কিলোমিটার উত্তর-উত্তর পশ্চিমে স্থানান্তরিত হচ্ছে।

বিজ্ঞানীদের একজন বলেছে, ‘আমরা সব সময় উত্তর ও দক্ষিণ মেরু অঞ্চলকে স্থির মনে করি। প্রতিসাম্য চৌম্বকীয় ক্ষেত্র বলে অনুমান করি। আসলে দুই মেরু বেশ আলাদা। উত্তর মেরুর অবস্থান প্রায় ৮৪ ডিগ্রি চৌম্বক অক্ষাংশ থেকে ১৬৯ ডিগ্রি চৌম্বক দ্রাঘিমাংশ। দক্ষিণ মেরুর অবস্থান মাইনাস ৭৪ ডিগ্রি থেকে ১৯ ডিগ্রি চৌম্বক দ্রাঘিমাংশ। সোয়ার্ম স্যাটেলাইটের তথ্য বলছে, মেরু চৌম্বকক্ষেত্র গত এক দশক বা তারও বেশি সময় ধরে দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে। চৌম্বকক্ষেত্রের নড়াচড়ার কারণে অনেক জটিলতা তৈরি হতে পারে। আমরা যে জিপিএস ব্যবহার করি তা সঠিকভাবে কাজ নাও করতে পারে।