img

গরমে হজম ক্ষমতা বাড়াতে মেনে চলুন কিছু টিপস

প্রকাশিত :  ২০:৩৯, ০৭ মে ২০২৪

গরমে হজম ক্ষমতা বাড়াতে মেনে চলুন কিছু টিপস

সুস্বাস্থ্যের জন্য হজমশক্তি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এটি বাধাগ্রস্ত হলে বা কোন ধরণের সমস্যা দেখা দিলে পুরো দেহই স্থবির হয়ে পড়তে পারে। গরমে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি না খেলে শরীর পানিশূন্য হয়ে পড়ে। এ কারণে অনেকেই খাবার ভালোভাবে হজম করতে পারেন না। এই সময়ে অনেকে কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যায় ভোগেন। কারও আবার ডায়রিয়া, পেট ফোলাভাব, হজমের সমস্যা দেখা দেয়। যারা এই গরমে হজমের সমস্যায় ভুগছেন তারা আয়ুর্বেদিক কিছু টিপস মেনে চলতে পারেন। তাহলে হজমের সমস্যার পাশাপাশি কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যাও দূর হবে।

ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার :
শরীরকে সবসময় ফিট রাখতে ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার চেষ্টা করবেন। প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় ফল, শাকসবজি, গোটা শস্য, লেবু, বাদাম, বীজ জাতীয় খাবার রাখুন। এসব খাবার অন্ত্র ভালো থাকার পাশাপাশি হজমের সমস্যাও কমাতে সাহায্য করে।

ভেষজ মসলা খান:
ভেষজ মসলা স্বাস্থ্যের জন্য খুব উপকারী। যেমন-ত্রিফলা খেলে হজম শক্তি যেমন বাড়তে থাকবে, তেমনি অন্ত্রও থাকবে পরিস্কার। প্রতিদিনের রান্নায় আদা ব্যবহার করবেন। আদা দিয়ে চা করেও খেতে পারেন। এটি খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য খুব ভালো। মৌরি চা ইত্যাদি খেলে আপনার পেট ফোলা ভাব কমবে। হজম শক্তিও বাড়বে।

দই, আচার, বাটার মিল্ক : ঘরে তৈরি করে দই, আচার, বাটার মিল্ক খেতে পারেন। এতে অন্ত্র ভালো থাকবে। সেই সঙ্গে শরীরে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি পূরণ হবে। প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন। গরমকালে ভারি খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। তা না হলে বদহজম হতে পারে।

খাবার আগে হাঁটাহাঁটি : খাওয়ার কিছুক্ষণ আগে একটু হাঁটাহাঁটি করবেন এবং ভালোভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস নেবেন। তাহলে হজম ক্ষমতা বাড়বে। অন্ত্রও ভালো থাকবে।

পানি : সারাদিন পর্যাপ্ত পরিমানে পানি খাবেন। তাহলে আপনার পরিপাকতন্ত্র ভালো থাকবে। খাবারও খুব দ্রুত হজম হবে।

ব্যায়াম : শরীর সুস্থ রাখতে গরমকালে সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে ব্যায়াম করার চেষ্টা করুন। না পারলে অন্তত সময় করে হাঁটুন। এতে কোষ্ঠকাঠিন্যের ঝুঁকি কমবে।

পর্যাপ্ত ঘুম: সময়মতো খাবার খাবেন। অনেকক্ষণ না খেয়ে থাকবেন না। পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমাবেন। তাহলে শরীর ভালো থাকবে। খাবার ভালোভাবে হজম করতে পারবেন। কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যাও কমবে।

img

স্ট্রেস মোকাবেলা করবেন কিভাবে?

প্রকাশিত :  ১২:৫৪, ২৬ মে ২০২৪

স্ট্রেস বা মানসিক চাপ বেশ পরিচিত একটি শব্দ। সাম্প্রতিক সময়ে এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর, যিনি জীবনের কোনো এক পর্যায়ে মানসিক চাপের শিকার হননি। যার মন আছে তার মনে চোট লাগতেই পারে। শুরুতে টুকটাক মন খারাপ, হতাশা কিংবা অবসাদ, কখনো বা রাগ ও সাময়িক উত্তেজনা- এভাবেই স্ট্রেসের শুরু।

একটি কথা বলা ভালো—আমাদের জীবনে আসে চ্যালেঞ্জ, আসে বাধাবিঘ্ন। আসে প্রতিকূল পরিস্থিতি। আসে হুমকি। আর একে রুখে দেয়ার জন্যে শরীরে যে স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হয় তা হলো স্ট্রেস।

স্বল্প সময়ের স্ট্রেস আনতে পারে হিতকর ফল। বৈরি পরিবেশ মোকাবেলা করতে মানিয়ে নিতে শেখায় নিজেকে। কিন্তু ক্রনিক স্ট্রেস শরীরের ওপর মনের ওপর আঘাত হানে আর এতে ঘটে মানসিক সমস্যা, যেমন : বিষণ্ণতা দুশ্চিন্তা অনিদ্রা। আর শরীরও রেহাই পায় না। হতে পারে ডায়েবেটিস, হৃদরোগ।

কী করে মোকাবেলা করা যাবে স্ট্রেস?

মাইন্ডফুলনেস বা মনোযোগিতা আর ধ্যান। আত্মমগ্নতা সম্ভব ধ্যানে। এতে থাকা যাবে বর্তমানে। আর মন হবে লক্ষ্যনির্দিষ্ট বা ফোকাসড।

ধ্যান মনকে করে শিথিল, শান্ত করে স্নায়ু। কমায় স্নায়ুর চাপ। চিন্তাভাবনা আর আবেগের ওপর ফিরিয়ে আনে নিয়ন্ত্রণ।

নিয়মিত ব্যায়াম। শরীরচর্চার ফলে নিঃসৃত হয় এন্ডোরফিন, যা প্রকৃতিজাত মুড লিফটার। হতে পারে দ্রুত হাঁটা, ইয়োগা। নিয়মিত ব্যায়াম কমায় স্ট্রেস। আর বাড়ায় সার্বিক কুশল।

সেইসাথে খেতে হবে সুষম খাদ্য। এতে থাকবে প্রচুর ফল সবজি নানা রঙের, হোল গ্রেন, কচি মাংস, মাছ, দুধ, ডিম, বাদাম, পানি। তাতে স্ট্রেস প্রতিহত করার জন্যে শরীর প্রস্তুত হয়।

এড়িয়ে যেতে হবে প্রসেস করা বা প্রক্রিয়াজাত খাবার, কোমল পানীয়, বেশি তেল, চর্বি, চিনি, মিষ্টি। বাদ দিতে হবে ধূমপান আর মদ্যপান।

যথেষ্ট ভালো ঘুম চাই। একটি সুনিদ্রার রাত দরকার স্ট্রেস কমানোর জন্যে।

ঘুমের স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে এজন্যে। ঘুমের জন্যে চাই শান্ত শীতল কোলাহলমুক্ত পরিবেশ, ডিজিটাল ডিভাইসমুক্ত পরিবেশ। ঘুমের দু-তিনটি ঘণ্টা আগে ক্যাফেইন বাদ। ভরপেট খাওয়া বাদ। ঘুমের আগে মোবাইল, টিভি, ফোন থেকে দূরে থাকা।

বাস্তবসম্মত লক্ষ্যে ধাবিত হতে হবে। অবাস্তব প্রত্যাশা সৃষ্টি করে স্ট্রেস।

আয়াসসাধ্য লক্ষ্য স্থির করতে হবে আর ছোট ছোট ধাপে কাজ করে এগিয়ে যেতে হবে।

কার্যকর টাইম ম্যানেজমেন্ট করতে জানলে স্ট্রেস হয় না। টু ডু লিস্ট করুন। কাজ হবে।

প্রিয়জনের সাথে সংযোগ রাখুন। সোশ্যাল সাপোর্ট খুব দরকার। এজন্যে যুক্ত থাকতে হবে পরিবার, প্রতিবেশী আর বন্ধুদের সাথে। অনুভূতি উদ্বেগ সব শেয়ার করতে হবে।

‘না’ বলা শিখতে হবে। নিজের সীমাবদ্ধতা জানতে আর স্বস্তি বোধ না করলে ‘না’ বলতে হবে। বেশি বেশি অঙ্গীকার করা মানে অনেক বেশি স্ট্রেস।

রিলাক্সেশন বা শিথিলায়ন কৌশল আছে নানা রকম। যেমন : ব্রিদিং টেকনিক, প্রাণায়াম, ইয়োগা, ডিপ ব্রিদিং ভালো কিছু টেকনিক স্ট্রেস কমানোর জন্যে।

প্রয়োজনে চাইতে হবে পেশাদার পরামর্শ। মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা মনোবিদের দিক-নির্দেশনা নিতে পারেন।