‘হজ কার্যক্রম ২০২৪’ উদ্বোধন

img

মুসলিমদের ঐক্য ফিলিস্তিনিদের দুর্দশা কমাতে পারে: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত :  ১১:২৯, ০৮ মে ২০২৪

মুসলিমদের ঐক্য ফিলিস্তিনিদের দুর্দশা কমাতে পারে: প্রধানমন্ত্রী

বিশ্বের সব মুসলিম দেশ একসঙ্গে কাজ করলে, ফিলিস্তিনিদের দুঃখ-কষ্ট লাঘবসহ মুসলিমদের জন্য আরও ভালো অবস্থানে পৌঁছানো সহজ হতো বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আজকে যদি আমাদের সকল মুসলিম দেশগুলো এক হয়ে একযোগে কাজ করতে পারতো, তাহলে আমরা এ বিষয়ে আরো অগ্রগামী হতে পারতাম।

আজ বুধবার দুপুরে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সংলগ্ন আশকোনা হজক্যাম্পে ধর্ম মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘হজ কার্যক্রম ২০২৪’-এর উদ্বোধনকালে দেওয়া প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন তিনি।

ওআইসিভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে নিজেকে একমাত্র বোন (সরকার প্রধান) হিসেবে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, “আমার এখানে একটাই কথা- সকলে এক হন এবং এ ধরনের অন্যায় অবিচার যেন আমাদের ওপর না হয়, সেজন্য সকলেই লক্ষ্য রাখবেন।”

আন্তর্জাতিক যে ফোরামে কথা বলেছেন সেখানেই ফিলিস্তিনীদের জন্য তাঁর কন্ঠ ‘সোচ্চার ছিল’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমি প্রতিটি জায়গায় এর প্রতিবাদ করে যাচ্ছি। কারণ ফিলিস্তিনিরা আরব ভূখণ্ডে তাদের জায়গা তারা পাবে, এটা তাদের অধিকার। এই অধিকার কেউ কেড়ে নিতে পারে না। কাজেই সেই অধিকার তাদের দিতে হবে।

১৯৭৪ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি লাহোরে অনুষ্ঠিত ওআইসি শীর্ষ সম্মেলনে জাতির পিতার ভাষণেরও এখানে উদ্ধৃতি তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। জাতির পিতা বলেন, “আরব ভাইদের উপর যে নিদারুণ অবিচার হয়েছে। অবশ্যই তার অবসান ঘটাতে হবে। অন্যায়ভাবে দখলকৃত আরব ভূমি অবশ্যই ছেড়ে দিতে হবে। জেরুজালেমের ওপর আমাদের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করতে হবে।”

তাঁর কন্যা শেখ হাসিনা বলেন, কাজেই জেরুজালেমে মুসলমানদের যে অধিকার, এটা প্রতিষ্ঠা করার কথাও জাতির পিতাই তাঁর বক্তব্যে বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা দেখছেন ফিলিস্তিনে গণহত্যা চালানো হচ্ছে। সেখানে নারী ও ছোট ছোট শিশুদেরকেও রেহাই দেওয়া হচ্ছে না। কাজেই তাদের জন্য, বাংলাদেশের জন্য ও সারাবিশ্বের মুসলিম উম্মাহর জন্য আপনারা (হজ যাত্রী) দোয়া করবেন।

তিনি হজযাত্রীদের কাছে দেশ ও জাতির জন্য দোয়া চেয়ে বলেন, তাঁর সরকার হাজিদের জন্য যে সুযোগ সুবিধা সংবলিত হজ ব্যবস্থাপনা করতে পেরেছে, সেটা ধরে রেখে যেন এটাকে আরও উন্নত করতে পারে- সে দোয়াটা আপনারা করবেন আর দেশের মানুষের জন্য দোয়া করবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন যেন আমাদের মানুষের জন্য গোলা ভরা ধান দেন, পুকুর ভরা মাছ দেন, সুন্দর-উন্নত জীবন দেন, সেই দোয়া করবেন।”

এ সময় তাঁর সরকার হজ ব্যবস্থাপনাকে আরও উন্নত করতে প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, আমি এটুকু বলবো যে আজকে আমরা হজ ব্যবস্থপনাকে উন্নত করেছি, প্রতিবারই যারা যাচ্ছেন যে কোন সমস্যা হচ্ছে সেটাকে আরো উন্নত করার পদক্ষেপ নিচ্ছি। আর এক্ষেত্রে সৌদি সরকার সবসময় আমাদেরকে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। তিনি সৌদি বাদশাহ এবং ক্রাউন প্রিন্সকে এজন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

সার্বিক বিমান পরিবহনের উন্নয়নে তাঁর সরকারের পদক্ষেপের উল্লেখ করে তিনি বলেন, সৌদি এয়ারলাইন্সে যেমন তেমনি নিজস্ব বিমানেও আমরা এখন হজযাত্রী আনা নেওয়া করতে পারি। আজকে আমরা ই-হজ ব্যবস্থাপনা করতে পেরেছি। কেননা ডিজিটাল বাংলাদেশ আমরা বাস্তবায়ন করেছি। আমাদের আগামী দিনের লক্ষ্য হচ্ছে আমরা স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তুলবো। এরপর আর কোন কষ্ট করতে হবেনা আপনারা ঘরে বসেই সব ব্যবস্থা পাবেন। সোজা প্লেনে উঠবেন, চলে যাবেন। সেই ধরনের ব্যবস্থা আমরা করতে চাই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে মালপত্র নেওয়া বা ওখান থেকে মালপত্র নিয়ে আসা বা জমজমের পানি নিয়ে আসার সব ব্যবস্থা আমরা করে দিয়েছি। মক্কা-মদিনায় হজ অফিস স্থাপন করা সহ জেদ্দায় আলাদাভাবে টার্মিনালে জায়গা ভাড়া নিয়ে আমাদের হাজিরা যাতে সেখানে গিয়ে অবস্থান করতে পারেন সেই ব্যবস্থাটাও করেছি। আমরা যখন সরকারে এসেছি তখন থেকেই এই ব্যবস্থাটা নিয়েছি এবং প্রতিবছর টার্মিনালে এই ব্যবস্থাটা আমরা রাখি। কারণ আগে যাত্রীদের এখানে সেখানে ফুটপাতে বসে থাকতে হোত।

এদেশে যার যার ধর্ম সে সে পালন করবে, শান্তির ধর্ম  ইসলাম এবং আমাদের মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা:) আমাদের সে শিক্ষাই দিয়ে গেছেন উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, কাজেই আমাদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে এ ধরনের কাজ যেন কেউ না করেন। মদ, জুয়া, দুর্নীতি, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ করে মুষ্টিমেয় লোক আমাদের পবিত্র ধর্মের নামে যে বদনাম দিয়ে যায় সেটাই দু:খজনক। আমি এটারও প্রতিবাদ করি সবসময়। কারণ আমরা শান্তিতে বিশ্বাস করতে চাই। মানুষের উন্নয়ন করতে চাই।

ধর্মমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী মুহাম্মদ ফারুক খান, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম, ধর্ম মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ হুছামুদ্দিন চৌধুরী ও বাংলাদেশে সৌদি রাষ্ট্রদূত ঈসা ইউসুফ ঈসা আল দুহাইলান বক্তৃতা করেন।

হজ এজেন্সি এসোসিয়েশন বাংলাদেশ (হাব) সভাপতি এম শাহাদাত হোসাইন তসলিম ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মু. আ. হামিদ জমাদ্দার ও বক্তৃতা করেন। দু’জন হজযাত্রী অনুষ্ঠানে নিজস্ব অভিব্যক্তিও ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ২০২৪ সালের হজ ব্যবস্থাপনা নিয়ে একটি অডিও ভিজ্যুয়াল পরিবেশনা প্রদর্শিত হয় এবং শেষে দেশ-জাতি ও হজ যাত্রীদের সার্বিক মঙ্গল কামণায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

img

দেশে ফিরলেন ৫৬ হাজার ৩৩১ হাজি, মৃত্যু বেড়ে ৬২

প্রকাশিত :  ০৬:৩৭, ০৮ জুলাই ২০২৪

চলতি বছর পবিত্র হজ পালন করতে সৌদি আরবে গিয়ে ৬২ বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে ৪৯ জন পুরুষ এবং নারী রয়েছেন ১৩ জন। আজ সোমবার মধ্যরাত পর্যন্ত দেশে ফিরেছেন ৫৬ হাজার ৩৩১ জন হাজি।

এতে জানানো হয়, সৌদি থেকে ১৪৪টি ফ্লাইটে এসব হাজি বাংলাদেশে এসেছেন। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ৬৬টি ফ্লাইটে ২৪ হাজার ১৪৪ জন, সৌদি এয়ারলাইনসের ৫২টি ফ্লাইটে ১৯ হাজার ৭০২ এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইনস ২৬টি ফ্লাইটে ৯ হাজার ৭১৫ হাজি দেশে ফিরেছেন।

চলতি বছর হজ পালন করতে গিয়ে এখন পর্যন্ত ৬২ জন বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে পুরুষ ৪৯ এবং নারী ১৩ জন।

হজ শেষে গত ২০ জুন থেকে দেশে ফেরার ফ্লাইট শুরু হয়। ওইদিন বাংলাদেশ বিমানের প্রথম ফিরতি ফ্লাইট ৪১৭ হাজি নিয়ে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। আগামী ২২ জুলাই পর্যন্ত হাজিদের ফিরতি ফ্লাইট অব্যাহত থাকবে।

এবার বাংলাদেশ থেকে মোট ৮৫ হাজার ২২৫ জন (ব্যবস্থাপনা সদস্যসহ) হজযাত্রী সৌদি আরবে গেছেন। হজে গিয়ে এখন পর্যন্ত ৪৭ জন বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে পুুরুষ ৩৬ এবং নারী ১১ জন।