img

চট্টগ্রামে প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত, এক পাইলট নিহত

প্রকাশিত :  ০৯:৩১, ০৯ মে ২০২৪
সর্বশেষ আপডেট: ১০:৩৬, ০৯ মে ২০২৪

চট্টগ্রামে প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত,  এক পাইলট নিহত

চট্টগ্রামে বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় অসীম জাওয়াদ নামে এক পাইলট নিহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৯ মে) দুপুরে পতেঙ্গার বানৌজা ঈসা খাঁ হাসপাতালে (নেভি হাসপাতাল) চিকিৎসাধীন অবস্থায় পাইলট জাওয়াদ মারা যান। 

অসীম জাওয়াদ ২০০৭ সালে এসএসসি ও ২০০৯ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-ফাইভ পান। ২০১০ সালে বাংলাদেশ এয়ারফোর্স একাডেমিতে (বাফা) যোগদান করেন। ২০১১ সালের ডিসেম্বরে কমিশন লাভ করেন পাইলট অফিসার হিসেবে। তিনি পিটি-৬, এল-৩৯জেডএ, এফ-৭এমবি, এফ-বিজি১ ইত্যাদি বিমান চালিয়েছেন। তিনি ছিলেন এফ-৭এমজি১ এর অপারেশনাল পাইলট ও এলিমেন্ট লিডার।


‘ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে’ জাতিসংঘের মিশনে নিয়োজিত ছিলেন। বিভিন্ন কোর্সের তাগিদে পাড়ি জমিয়েছেন চীন, ভারত, তুরস্ক ও পাকিস্তানে। এখন নিয়োজিত আছেন ফ্লাইং ইনস্ট্রাক্টর'স স্কুল অফ বিএএফএ স্টাফ ইনস্ট্রাক্টর হিসেবে।

নিজের ট্রেনিং জীবনে সকল বিষয়ের শ্রেষ্ঠত্বের জন্য পেয়েছেন ‘সোর্ড অফ অনার’। এসসিপিএসসি থেকে এখন পর্যন্ত তিনিই একমাত্র ‘সোর্ড অফ অনার’ বিজয়ী। ‘ফ্লাইং ইনস্ট্রাক্টরস’ কোর্সে শ্রেষ্ঠত্বের জন্য পেয়েছেন ‘মফিজ ট্রফি’। এছাড়া দায়িত্বশীলতা ও কর্মক্ষেত্রে দক্ষতার জন্য প্রশংসা পেয়েছেন চিফ অফ এয়ার স্টাফ থেকে।

এর আগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। আকাশে আগুন ধরার পর সেটি পতেঙ্গায় কর্ণফুলী নদীর মোহনায় বিধ্বস্ত হয়। এর আগে বিমানের পাইলট ও কো-পাইলট প্যারাসুটে নামেন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পাইলট অসীম জাওয়াদ মারা যান।

চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা ইব্রাহিম খলিল বলেন, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরেই বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান ওয়াইএকে১৩০-এ আগুন ধরে যায়। এ সময় পাইলট ও কো-পাইলট প্যারাসুটে নেমে আসেন। পরে বিমানটি টার্মিনালের বে এরিয়ায় বিধ্বস্ত হয়।

দুই পাইলটকে আহত অবস্থায় পতেঙ্গার বানৌজা ঈসা খাঁ হাসপাতালে (নেভি হাসপাতাল) ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পাইলট অসীম জাওয়াদ মারা যান। আহত কো-পাইলট চিকিৎসাধীন আছেন।

img

ভারী বর্ষণে ডুবল চট্টগ্রাম, দুর্ভোগে নগরবাসী

প্রকাশিত :  ১০:৩৬, ২৭ মে ২০২৪
সর্বশেষ আপডেট: ১০:৩৮, ২৭ মে ২০২৪

প্রবল ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে টানা দুই দিনের ভারি বর্ষণ ও জোয়ারের পানিতে নগরীর নিম্নাঞ্চলসহ অনেক এলাকা ডুবে গেছে। এর মধ্যে চকবাজার, বহদ্দারহাট, আগ্রাবাদ, বেপারিপাড়া, নয়াবাজার, ফইল্যাতলী, বড়পুল, হাজিপাড়া, পান্নাপাড়া, মোগলটুলি, কমার্স কলেজ রোড, বসুন্ধরা আবাসিক, মুরাদপুর, জিইসি, ষোলশহর দুই নম্বর গেট, বাকলিয়া, প্রবর্তক মোড়, বাঁদুরতলাসহ বিভিন্ন এলাকায় কোথাও হাঁটু পানি আবার কোথাও কোমর পানিতে থৈ থৈ করছে।

আজ সোমবার সরেজমিনে দেখা গেছে, বাসা বাড়ির নিচতলায় বসবাসকারীদের আসবাবপত্র পানিতে ভাসছে। জ্বলছে চুলা। দোকানঘর থেকে হাত দিয়ে পানি সেচছেন দোকানিরা। সড়কে রিকশা ছাড়া চার চাকার যানবাহন নেই। অফিসগামী ও শ্রমজীবী মানুষরা দুর্ভোগে পড়েছেন। সুযোগ বুঝে রিকশাচালকরা ডবল ভাড়া হাঁকাচ্ছেন।

নগরীর চকবাজার এলাকার বাসিন্দা সৈয়দ মাহমুদ জামিল বলেন, আমার বাসার ভেতরে-বাইরে কোমর পানি। বাথরুমেও পানি উঠে গেছে। বাচ্চারা বাথরুমেও যেতে পারেনি। সোফা, খাট সব পানিতে ডুবে গেছে। বাচ্চাকে স্কুলে নিয়ে যেতে কোনোভাবে বের হয়েছি। পানি আরও ওঠার সম্ভাবনা আছে।

আগ্রাবাদে প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে চাকরিজীবী মো. শফিক বলেন, চট্টগ্রামকে জলাবদ্ধতা, জলজট মুক্ত করার কোনো উদ্যোগ আজ পর্যন্ত দৃশ্যমান হয়নি। সামান্য বৃষ্টিতে এখানে হাঁটু পানি-কোমর পানি হয়। সামনে বর্ষা, তখন নগরবাসীকে যাতায়াতের জন্য নৌকার ওপর ভরসা রাখতে হবে।