img

কম বয়সে উচ্চ রক্তচাপ এড়াতে যা করবেন

প্রকাশিত :  ১০:৩১, ০৯ মে ২০২৪

কম বয়সে উচ্চ রক্তচাপ এড়াতে যা করবেন

উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা কেবল বয়স্কদের থাকে এ ধারণাটি সঠিক নয়। অল্প বয়সের মানুষের মধ্যে রক্তচাপের মাত্রা বাড়ছে। অপেক্ষাকৃত ২০ থেকে ৪০ বছরের কমেও এটি হতে পারে। দেশের অল্প বয়সী জনগোষ্ঠীর প্রায় ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ মানুষ উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন। তাদের মধ্যে ১৭ শতাংশ পুরুষ আর ৯ শতাংশ নারী। 

অল্প বয়সে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ার পেছনে তরুণ প্রজন্মের কিছু বদভ্যাস দায়ী। অতি লবণযুক্ত ফাস্টফুড, প্রক্রিয়াজাত খাবার গ্রহণ, ওজন বৃদ্ধি ও কায়িক শ্রমের অভাব অল্পবয়সী মানুষের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপের প্রবণতা বাড়িয়ে দিচ্ছে। এই তরুণদের ৬৮ শতাংশের উচ্চ রক্তচাপের কোনো উপসর্গ নেই।

চিকিৎসকেরা বলেন, রক্তচাপের মাত্রা বাড়ছে মানেই একই সঙ্গে বাড়ছে হৃদরোগের ঝুঁকিও। অল্প বয়সেই কোনও গুরুতর রোগের আশঙ্কা এড়িয়ে চলতে যে নিয়মগুলো মেনে চলতে পারেন: 

ব্যস্ততার মধ্যে কিছুটা সময় বের করে নিয়মিত শরীরচর্চা করতে পারেন। সপ্তাহে অন্তত চার দিন সাইকেল চালানো, সাঁতার বা যে কোনও খেলাধুলো করতে পারলে ভালো। এছাড়া, সকালে ঘুম থেকে উঠে, বিকেলে ও রাতে খাবার পরে হাঁটাহাঁটি করতে পারলে স্বাস্থ্যর জন্য উপকারী। 

ছোট থেকেই প্রোটিন, ভিটামিন এবং বিভিন্ন খনিজ, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট-সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার অভ্যাস থাকা ভালো। পাশাপাশি, প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং অতিরিক্ত মিষ্টিজাতীয় খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন। না হলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। এই উপাদানগুলি শরীরে পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকলে রক্তচাপের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।  

বয়স কম হলেও নিয়মিত রক্তচাপ মাপতে হবে। বিশেষ করে যদি পরিবারে এমন কোনও রোগ থেকে থাকে, সে ক্ষেত্রে সময় থাকতেই সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। 

তামাক ও তামাকজাত দ্রব্য গ্রহণ থেকে বিরত থাকুন। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।


img

স্ট্রেস মোকাবেলা করবেন কিভাবে?

প্রকাশিত :  ১২:৫৪, ২৬ মে ২০২৪

স্ট্রেস বা মানসিক চাপ বেশ পরিচিত একটি শব্দ। সাম্প্রতিক সময়ে এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর, যিনি জীবনের কোনো এক পর্যায়ে মানসিক চাপের শিকার হননি। যার মন আছে তার মনে চোট লাগতেই পারে। শুরুতে টুকটাক মন খারাপ, হতাশা কিংবা অবসাদ, কখনো বা রাগ ও সাময়িক উত্তেজনা- এভাবেই স্ট্রেসের শুরু।

একটি কথা বলা ভালো—আমাদের জীবনে আসে চ্যালেঞ্জ, আসে বাধাবিঘ্ন। আসে প্রতিকূল পরিস্থিতি। আসে হুমকি। আর একে রুখে দেয়ার জন্যে শরীরে যে স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হয় তা হলো স্ট্রেস।

স্বল্প সময়ের স্ট্রেস আনতে পারে হিতকর ফল। বৈরি পরিবেশ মোকাবেলা করতে মানিয়ে নিতে শেখায় নিজেকে। কিন্তু ক্রনিক স্ট্রেস শরীরের ওপর মনের ওপর আঘাত হানে আর এতে ঘটে মানসিক সমস্যা, যেমন : বিষণ্ণতা দুশ্চিন্তা অনিদ্রা। আর শরীরও রেহাই পায় না। হতে পারে ডায়েবেটিস, হৃদরোগ।

কী করে মোকাবেলা করা যাবে স্ট্রেস?

মাইন্ডফুলনেস বা মনোযোগিতা আর ধ্যান। আত্মমগ্নতা সম্ভব ধ্যানে। এতে থাকা যাবে বর্তমানে। আর মন হবে লক্ষ্যনির্দিষ্ট বা ফোকাসড।

ধ্যান মনকে করে শিথিল, শান্ত করে স্নায়ু। কমায় স্নায়ুর চাপ। চিন্তাভাবনা আর আবেগের ওপর ফিরিয়ে আনে নিয়ন্ত্রণ।

নিয়মিত ব্যায়াম। শরীরচর্চার ফলে নিঃসৃত হয় এন্ডোরফিন, যা প্রকৃতিজাত মুড লিফটার। হতে পারে দ্রুত হাঁটা, ইয়োগা। নিয়মিত ব্যায়াম কমায় স্ট্রেস। আর বাড়ায় সার্বিক কুশল।

সেইসাথে খেতে হবে সুষম খাদ্য। এতে থাকবে প্রচুর ফল সবজি নানা রঙের, হোল গ্রেন, কচি মাংস, মাছ, দুধ, ডিম, বাদাম, পানি। তাতে স্ট্রেস প্রতিহত করার জন্যে শরীর প্রস্তুত হয়।

এড়িয়ে যেতে হবে প্রসেস করা বা প্রক্রিয়াজাত খাবার, কোমল পানীয়, বেশি তেল, চর্বি, চিনি, মিষ্টি। বাদ দিতে হবে ধূমপান আর মদ্যপান।

যথেষ্ট ভালো ঘুম চাই। একটি সুনিদ্রার রাত দরকার স্ট্রেস কমানোর জন্যে।

ঘুমের স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে এজন্যে। ঘুমের জন্যে চাই শান্ত শীতল কোলাহলমুক্ত পরিবেশ, ডিজিটাল ডিভাইসমুক্ত পরিবেশ। ঘুমের দু-তিনটি ঘণ্টা আগে ক্যাফেইন বাদ। ভরপেট খাওয়া বাদ। ঘুমের আগে মোবাইল, টিভি, ফোন থেকে দূরে থাকা।

বাস্তবসম্মত লক্ষ্যে ধাবিত হতে হবে। অবাস্তব প্রত্যাশা সৃষ্টি করে স্ট্রেস।

আয়াসসাধ্য লক্ষ্য স্থির করতে হবে আর ছোট ছোট ধাপে কাজ করে এগিয়ে যেতে হবে।

কার্যকর টাইম ম্যানেজমেন্ট করতে জানলে স্ট্রেস হয় না। টু ডু লিস্ট করুন। কাজ হবে।

প্রিয়জনের সাথে সংযোগ রাখুন। সোশ্যাল সাপোর্ট খুব দরকার। এজন্যে যুক্ত থাকতে হবে পরিবার, প্রতিবেশী আর বন্ধুদের সাথে। অনুভূতি উদ্বেগ সব শেয়ার করতে হবে।

‘না’ বলা শিখতে হবে। নিজের সীমাবদ্ধতা জানতে আর স্বস্তি বোধ না করলে ‘না’ বলতে হবে। বেশি বেশি অঙ্গীকার করা মানে অনেক বেশি স্ট্রেস।

রিলাক্সেশন বা শিথিলায়ন কৌশল আছে নানা রকম। যেমন : ব্রিদিং টেকনিক, প্রাণায়াম, ইয়োগা, ডিপ ব্রিদিং ভালো কিছু টেকনিক স্ট্রেস কমানোর জন্যে।

প্রয়োজনে চাইতে হবে পেশাদার পরামর্শ। মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা মনোবিদের দিক-নির্দেশনা নিতে পারেন।