img

ইসরাইলের কাছে অস্ত্র বিক্রি বন্ধ করতে চান না ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশিত :  ১৯:০৯, ১২ মে ২০২৪

ইসরাইলের কাছে অস্ত্র বিক্রি বন্ধ করতে চান না ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী

গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় নগরী রাফায় ইসরায়েল পূর্ণ মাত্রায় অভিযান পরিচালনা করলে যুক্তরাষ্ট্র দেশটিতে অস্ত্রের চালান স্থগিতের যে হুঁশিয়ারি দিয়েছে তার সঙ্গে একমত নয় যুক্তরাজ্য সরকার।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন মনে করেন, ইসরাইলের ওপর যুক্তরাজ্যের অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা হামাসকে আরও শক্তিশালী করবে। খবর বিবিসির

ক্যামেরন জানান, গাজার রাফাহ শহরে বড় ধরনের স্থল অভিযানকে সমর্থন করেন না তিনি। তবে দেশটির কাছে অস্ত্র বিক্রির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের পথে হাঁটার পক্ষে না তিনি। 

এদিকে দেশটির প্রধান বিরোধী দল লেবার পার্টির নেতা জনাথন অ্যাশওয়ার্থ বলেছেন, তিনি চান না যুক্তরাজ্যের তৈরি অস্ত্র রাফায় ব্যবহার হোক।

ইসরাইল প্রতিবছর যে অস্ত্র কেনে তার মাত্র ১ শতাংশ যুক্তরাজ্য থেকে যায় বলেও জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্যামেরন।

যু্ক্তরাষ্ট্র এবং পশ্চিমা আরও কয়েকটি দেশ ইসরাইলকে সতর্ক করে বলেছে, যদি তারা রাফায় সর্বাত্মক অভিযান শুরু করে তবে সেখানে গণহারে বেসামরিক ফিলিস্তিনিরা নিহত হবে এবং বড় ধরণের মানবিক বিপর্যয় নেমে আসবে।

এদিকে সব সতর্কবার্তা এবং হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, তিনি তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী রাফায় স্থল অভিযান পরিচালনা করবেন।

ইসরাইলের দাবি, রাফায় হাজারের বেশি হামাস যোদ্ধা অবস্থান করেছে। তাই সেখানে পূর্ণমাত্রায় অভিযান ছাড়া গাজায় হামাসকে নির্মূল করার তাদের লক্ষ্য পূরণ হবে না।

সোমবার থেকে রাফায় আকাশ হামলা শুরু করেছে ইসরাইল। মিশর সীমান্তবর্তী এই নগরীতে স্থল অভিযানের প্রস্তুতিও নিচ্ছে তারা। এজন্য রাফার বাসিন্দা এবং সেখানে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১৪ লাখ ফিলিস্তিনিকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী।

গাজায় ইসরাইলের আকাশ হামলায় তিন ব্রিটিশ ত্রাণকর্মী নিহত হওয়ার পর ক্যামেরন নিজেই ইসরাইলের কাছে অস্ত্র বিক্রি বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

সে কথা উল্লেখ করে ক্যামেরন আরও বলেন, শেষবার আমি যখন ইসরাইলে অস্ত্র বিক্রি বন্ধ করতে বলেছিলাম তার মাত্র কয়েকদিন পর ইরান নিষ্ঠুরভাবে ইসরাইলে হামলা করে বসে। তাই আমি আজ খুব সাধারণ ভাবে ঘোষণা দিতে চাই যে, আমরা আমাদের অস্ত্র রপ্তানির কৌশল পরিবর্তন করলে সেটা হামাসকে আরও শক্তিশালী করবে এবং এটা জিম্মিদের মুক্ত করে আনার চুক্তিকে আরও কঠিন করে তুলবে।

যুক্তরাজ্য এর আরও খবর

ইংলিশ চ্যানেলে নৌকা ডুবে শিশুসহ নিহত ৫ | JANOMOT | জনমত

ব্রিটেনে আগাম নির্বাচন

img

সরে দাঁড়ালেন ৭৮ ব্রিটিশ এমপি, বিপাকে ঋষি সুনাক

প্রকাশিত :  ১৮:৩১, ২৬ মে ২০২৪
সর্বশেষ আপডেট: ১৮:৩৪, ২৬ মে ২০২৪

আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দিয়ে বড় সমস্যায় পড়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক। ভোটের আগে তার দলের ৭৮ জন সংসদ সদস্য বলেছেন, তারা আগামী নির্বাচনে লড়বেন না। এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া নেতাদের মধ্যে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরাও রয়েছেন।

যুক্তরাজ্যের আইন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারির মধ্যে সাধারণ নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। কিন্তু সুনাকের কনজারভেটিভ পার্টি নির্বাচন স্থগিত করার দাবি জানিয়ে আসছিল। কারণ গত কয়েক মাসে দলটির নেতাদের প্রতি ভোটারদের আস্থা প্রায় তলানিতে পৌঁছেছে। একের পর এক জরিপে দেখা গেছে, ব্রিটিশ রাজনীতির ইতিহাসে রক্ষণশীল পার্টির সবচেয়ে খারাপ ফলাফল হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে পরাজয় নিশ্চিত বলে মনে করছেন দলের একটি বড় অংশ।

কিন্তু কার্যত দলকে উড়িয়ে দিয়ে দ্রুত নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন ঋষি সুনক। তিনি বলেন, আগামী ৪ জুলাই দেশটির সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ভারতীয় বংশোদ্ভূত ঋষি সেখানে প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

পার্টি লাইনের "বিরুদ্ধে" একটি স্ন্যাপ নির্বাচনের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেছিলেন, যুক্তরাজ্যের ভবিষ্যত বেছে নেওয়ার সময় এসেছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর দাবি, তার নেতৃত্বে দেশ আর্থিক সংকট থেকে মুক্তি পাবে।

তবে নির্বাচনের দিন ঘোষণার পর থেকে একের পর এক কনজারভেটিভ এমপিরা আগামী নির্বাচনে লড়তে চান না বলে জানিয়েছেন। এই তালিকায় প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে, প্রাক্তন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী বেন ওয়ালেস, প্রাক্তন চ্যান্সেলর নাদিম জাহাভি এবং সাজিদ জাভিদের মতো নেতারা রয়েছেন।

ব্রিটিশ দৈনিক দ্য টেলিগ্রাফ জানিয়েছে যে ১৯৯৭ সালের সাধারণ নির্বাচন থেকে সরে আসা টোরি এমপির সংখ্যা রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। স্যার টনি ব্লেয়ারের নেতৃত্বে লেবার পার্টি নির্বাচনে বিপুল বিজয় লাভ করে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কনজারভেটিভ পার্টির নেতারা ধরেই নিয়েছেন, নির্বাচনে তাদের পরাজয় নিশ্চিত। তাই বিব্রত এড়াতে আগাম নাম প্রত্যাহার করা হচ্ছে।

এমন পরিস্থিতিতে অনেকটা আত্মগোপনে চলে গেছেন ঋষি সুনক। সপ্তাহান্তে বিরোধীরা যখন প্রচারণায় ব্যস্ত, তখন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী তার বাসভবনে উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠকে ব্যস্ত।

দ্য গার্ডিয়ানকে সূত্র জানায়, নির্বাচনী প্রচারণার প্রথম সপ্তাহান্তে ঋষি সুনক 'অস্বাভাবিক পদক্ষেপ' নিচ্ছেন। প্রকাশ্য অনুষ্ঠানের পরিবর্তে ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টাদের সঙ্গে নির্বাচনী কৌশল নিয়ে আলোচনায় সময় কাটাবেন তিনি।