img

গাজা নিয়ে বিক্ষোভে কেন অভিজাত শিক্ষার্থীরা

প্রকাশিত :  ১০:১৪, ১৩ মে ২০২৪
সর্বশেষ আপডেট: ১১:২৯, ১৩ মে ২০২৪

গাজা নিয়ে বিক্ষোভে কেন অভিজাত শিক্ষার্থীরা

ইয়ান বুরুমা

ফিলিস্তিনি কেফিয়াহ্‌ (বিশেষ ধরনের স্কার্ফ) গলায় জড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ও মর্যাদাপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ক্যাম্পাসে ছাত্রছাত্রীদের আন্দোলন করতে আমরা দেখছি। ‘ফ্রম দ্য রিভার টু দ্য সি, প্যালেস্টাইন উইল বি ফ্রি’ {নদী (এখানে নদী বলতে জর্ডান নদী বোঝানো হচ্ছে) থেকে সাগর (সাগর বলতে এখানে ভূমধ্যসাগর) পর্যন্ত ফিলিস্তিন মুক্ত হবে}—এই স্লোগান দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে যে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছেন, তাঁদের নিয়ে ঠাট্টা–মশকরা বা হাসাহাসি করাটা খুব সোজা।

তাঁরা এমনভাবে ক্যাম্পাস ভবনগুলো ‘মুক্ত’ করার ডাক দিচ্ছেন, যেন তাঁরা একেজন মুক্তিযোদ্ধা। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ আবার (অন্তত একজনের বিষয়ে আমি নিশ্চিত করে বলতে পারছি) কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে আন্দোলনকারীদের জন্য ‘মৌলিক মানবিক ত্রাণ’ হিসেবে খাবার ও পানি দাবি করেছেন।

এসব বিষয় হাসিঠাট্টার বিষয় হতে পারে। তবে এটিও ঠিক, সব রাজনৈতিক বিক্ষোভই কোনো না কোনো লেভেলে একধরনের থিয়েটার হয়ে ওঠে। তারপরও এটি মানতে হবে, গাজায় বিপুলসংখ্যক নিরীহ বেসামরিক নাগরিককে হত্যার বিরুদ্ধে যাঁরা প্রতিবাদ করছেন, তাঁদের সবাই উপহাস করার মতো কাজ করছেন না। তাঁদের বিরুদ্ধে সহিংস আচরণ করা (তা সে পুলিশের দ্বারা হোক কিংবা কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো উন্মত্ত জনতার দ্বারা হোক) কোনোভাবে মেনে নেওয়া যায় না।

সমস্যা হলো, কলেজ ক্যাম্পাসে এর মাধ্যমে ‘জায়নবাদবিরোধী’ অজুহাতের মাঠ দখল প্রায়ই সংকট তৈরি করে। এসব আন্দোলনের মতাদর্শগত ভিত্তি সবকিছুকেই একটির সঙ্গে আরেকটির যোগসাজশ আছে বলে দেখাতে থাকে। আফ্রিকান-আমেরিকানদের বিরুদ্ধে পুলিশের বর্বরতা, বৈশ্বিক উষ্ণতা, মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ, শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ব, আমেরিকান দাসব্যবস্থার ইতিহাস, ইউরোপীয় উপনিবেশবাদ, রূপান্তর ও সমকামভীতি এবং বর্তমানে চলমান ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধ—এর সবগুলোর মধ্যে আন্তসম্পর্ক খোঁজার প্রবণতা এসব আন্দোলনে প্রবলভাবে নিহিত থাকে।

হয়তো এরই ধারাবাহিকতায় ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে ক্রমবর্ধমান সংখ্যক শ্বেতাঙ্গ যুবক চরম ডানপন্থী রাজনৈতিক দলের দিকে ঝুঁকেছে। তাঁরা এমন সব চটকদার গুরুসদৃশ ব্যক্তিত্বের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছে, যাঁরা এই তরুণদের ঘুমিয়ে থাকা পৌরুষকে জাহির করতে এবং নারীদের আগের জায়গায় ফিরিয়ে নিতে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। এটি অশ্বেতাঙ্গ মানুষের বিরুদ্ধে বর্ণবাদী আচরণকে উসকে দিচ্ছে।

নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্র বলছিলেন, ‘ক্লাইমেট জাস্টিসের (জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের সুষম ক্ষতিপূরণ আদায়ের আন্দোলন) শিকড় যেভাবে সাম্রাজ্যবাদ এবং পুঁজিবাদবিরোধী সংগ্রামের মধ্যে গভীরভাবে প্রোথিত, ঠিক একইভাবে এসব আন্দোলনের সঙ্গে ফিলিস্তিনের গণহত্যাবিরোধী আন্দোলনের যোগসূত্র আছে।’

ঊনবিংশ শতাব্দীর একটি ইহুদি জাতীয়তাবাদী আন্দোলন হলো জায়নবাদ। জায়নবাদে ধর্মীয়, ধর্মনিরপেক্ষ, বামপন্থী এবং ডানপন্থী আদর্শের উপাদান রয়েছে। তবে এই জায়নবাদ এখন উপনিবেশবাদ, সাম্রাজ্যবাদ এবং বর্ণবাদের সমার্থক হয়ে উঠেছে। এখন এই ধারণা প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে যে একজন ভালো, মানবিক এবং নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হতে হলে তাকে অবশ্যই ‘জায়নবাদবিরোধী’ হতে হবে।

আবার কিছু লোক মনে করে, জায়নবাদবিরোধিতা মানেই অ্যান্টিসেমেটিক বা ইহুদিবিদ্বেষ। তবে আসলেই সেটি ঠিক কি না, তা পরিষ্কার নয়।

আসলে ইহুদিবাদের বিরোধিতা বা ইসরায়েলি নীতির সমালোচনা আর ইহুদিবিরোধিতা এক নয়। ইসরায়েলের অধিকারকে অস্বীকার করাটা সব ইহুদিকেই জায়নবাদী মনে করার মতো একটি শত্রুভাবাপন্ন মনোভাবের প্রকাশ।

সব ধরনের নিপীড়নকে একটির সঙ্গে আরেকটিকে জড়িয়ে দেওয়ার একটি একাডেমিক পরিভাষা আছে। সেটি হলো ‘ইন্টারসেকশনালিটি’ বা ‘আন্তছেদ’। এই মুহূর্তে ফিলিস্তিনের পক্ষে সক্রিয় বিক্ষোভকারীদের মধ্যকার অনেক শিক্ষার্থী এই চিন্তাধারা গ্রহণ করেছেন।

আত্মপরিচয়ের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মেতে ওঠা রাজনীতির মহাসমুদ্রে নেমে উদার বামপন্থী শিবিরের সব শিক্ষিত সদস্যরা (বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে) অন্তত একটি বিষয়ে একমত। সেটি হলো দাসপ্রথা-পরবর্তী ও ঔপনিবেশিক-পরবর্তী পশ্চিমের একজন সুশীল নাগরিক হওয়ার জন্য যে কাউকে সক্রিয়ভাবে বর্ণবাদবিরোধী হতে হবে; সাম্রাজ্যবাদবিরোধী হতে হবে এবং উপনিবেশবাদবিরোধী হতে হবে।

তার মানে হলো, সুশিক্ষিত ও আলোকিত মানসিকতার মানুষ হতে হলে যে কাউকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে শুরু করে মধ্যপ্রাচ্য পর্যন্ত সবখানের অতীত ও বর্তমানের সব বৈশ্বিক ঘটনাগুলোকে বর্ণবাদবিরোধিতার নিরিখেই পর্যালোচনা করতে হবে।

ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভগুলো কলাম্বিয়া, হার্ভার্ড, ইয়েল, স্ট্যানফোর্ডের মতো সেরা আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কেন শুরু হলো, তা এই বিশ্বদৃষ্টিই হয়তো সঠিকভাবে ব্যাখ্যা করতে পারবে।

এই আন্তছেদের অনুভূতি যে শ্রমজীবী মানুষের বোধ থেকে উৎসারিত হয়েছে তা কিন্তু নয়। বরং এই বোধটি এসেছে সেই শিক্ষিত অভিজাত শ্রেণি থেকে, যাঁরা নিজেদের পশ্চিমা বিশ্বের সামষ্টিক নৈতিক বিবেক হিসেবে ভাবতে অভ্যস্ত।

বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার কারণে এসব শিক্ষার্থীর মধ্যে একধরনের শ্রেণি অপরাধবোধ কাজ করে। সেই অপরাধবোধ থেকে বিবেককে মুক্ত করার একধরনের তাগিদ থেকে তাঁরা ক্যাম্পাসের বিক্ষোভে যুক্ত হয়ে থাকতে পারেন। বিশেষ করে এমন একটি সমাজে, যেখানে ধনী ও দরিদ্রের মধ্যে ব্যবধান বাড়ছে, সেখানে তাঁদের মধ্যে এ ধরনের বোধ কাজ করাটা অমূলক নয়।

উপনিবেশের বিরুদ্ধে সংগ্রাম কিংবা বর্ণবাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ যখন শ্রেণিসংগ্রামের স্থলাভিষিক্ত হয়, তখন সেই সমাজে বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত নাগরিকদের বাস করা সহজ হয়।

অবশ্য এর মধ্যেই শ্রেণিব্যবস্থা তার মতো করে চলতে থাকে। আর বিদ্রোহ প্রায়ই প্রিভিলেজ বা বিশেষাধিকার হাত থেকে ছুটে যাওয়ার ভয় থেকে উদ্ভূত হয়। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সে কারণেই তুলনামূলক অশিক্ষিত শ্বেতাঙ্গদের মনের মধ্যে এই ধারণা ঢুকিয়ে দিতে চেয়েছেন যে আরেক দেশ থেকে উড়ে আসা অভিবাসীরা তাদের চেয়ে ভালো করতে পারে।

সেই ভয় থেকেই তারা ট্রাম্পের পক্ষ নিয়ে আমেরিকান উদার ব্যবস্থার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিল। আমেরিকার অভিজাত প্রতিষ্ঠান এবং পশ্চিমা বিশ্বের অন্যান্য অংশে এই ধরনের কিছু একটা ঘটছে।

এই কিছুদিন আগে পর্যন্ত একটি সুশিক্ষিত শ্বেতাঙ্গ পরিবার থেকে আসা ব্যক্তির জন্য সমাজের উচ্চপর্যায়ের টিকিট বরাদ্দ রাখা ছিল। কিন্তু এখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, প্রকাশনা, জাদুঘর, সাংবাদিকতাসহ উচ্চশিক্ষার প্রয়োজন হয় এমন অন্যান্য ক্ষেত্রে চাকরির জন্য তাঁদের এখন উচ্চশিক্ষিত অশ্বেতাঙ্গ ও নারীদের সঙ্গে অনেক বেশি প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে হচ্ছে। এটি একটি সামগ্রিক ইতিবাচক উন্নয়ন। সবার অন্তর্ভুক্তি এবং ধর্ম-বর্ণের বৈচিত্র্যে বিশ্বাসী যে কারও এই ব্যবস্থাকে সাধুবাদ জানানো উচিত।

কিন্তু উদার-বাম মতাদর্শও (যা কিনা ‘বি-উপনিবেশকরণ’ও জাতিভিত্তিক বিশেষাধিকারের বিলোপের ওপর জোর দেয়) প্রতিরক্ষামূলক প্রতিক্রিয়াশীল অবস্থার দিকে আমাদের নিয়ে যেতে পারে।

হয়তো এরই ধারাবাহিকতায় ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে ক্রমবর্ধমান সংখ্যক শ্বেতাঙ্গ যুবক চরম ডানপন্থী রাজনৈতিক দলের দিকে ঝুঁকেছে। তাঁরা এমন সব চটকদার গুরুসদৃশ ব্যক্তিত্বের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছে, যাঁরা এই তরুণদের ঘুমিয়ে থাকা পৌরুষকে জাহির করতে এবং নারীদের আগের জায়গায় ফিরিয়ে নিতে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। এটি অশ্বেতাঙ্গ মানুষের বিরুদ্ধে বর্ণবাদী আচরণকে উসকে দিচ্ছে।

অন্যদিকে বিশেষাধিকার বজায় রাখার বিষয়ে অভিজাতদের উদ্বেগও তাদের প্রতিক্রিয়াশীল পথে নিয়ে যেতে পারে।

সবচেয়ে ব্যয়বহুল প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিগুলো শিক্ষার্থীরা তাদের নিজেদের বর্ণবাদবিরোধী, সাম্রাজ্যবাদবিরোধী এবং উপনিবেশবাদবিরোধী হিসেবে উপস্থাপনের মাধ্যমে সততা প্রদর্শন করাকে বিশেষাধিকার বঞ্চিত সমাজের রোষ থেকে বাঁচার উপায় হিসেবে দেখতে পারে।

এটি বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে নেতৃস্থানীয় অবস্থান ধরে রাখার একটি উপায় হতে পারে।

বিশ্ববিদ্যালয় আন্দোলন সত্যি সত্যি ফিলিস্তিনিদের নিজস্ব রাষ্ট্র অর্জনে (যেখানে তারা স্বাধীনভাবে নির্বাচিত সরকারের অধীনে আরও ভালো এবং আরও মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন করতে পারবে) সহায়তা করতে পারবে কি না, তা স্পষ্ট নয়।

সেটি হয়তো কখনোই আন্দোলনকারীদের মূল বিষয় ছিলও না। তবে এটি স্পষ্ট, এই আন্দোলন যতটা না ফিলিস্তিনকে নিয়ে, তার চেয়ে বেশি আমেরিকাকে ঘিরে।



ইয়ান বুরুমা ডাচ বংশোদ্ভূত মার্কিন লেখক ও গবেষক
img

একাদশে কলেজ ভর্তির আবেদন শুরু, জেনে নেন আবেদন প্রক্রিয়া

প্রকাশিত :  ০৪:৫০, ২৬ মে ২০২৪

আজ রোববার (২৫ মে) সকাল ৮টা থেকে অনলাইনে শুরু হয়েছে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন ।  এবারও তিন ধাপে আবেদন গ্রহণ করা হবে। এরমধ্যে প্রথম ধাপে আবেদন প্রক্রিয়া চলবে ২৫ মে থেকে ১১ জুন পর্যন্ত।

ভর্তি নীতিমালা অনুযায়ী—তিন ধাপে আবেদন নেওয়া হবে। ফল প্রকাশ, নিশ্চায়ন ও মাইগ্রেশনের পর শুরু হবে চূড়ান্ত ভর্তি। নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা ১৫-২৫ জুলাই পর্যন্ত ভর্তি হতে পারবেন। এরপর ৩০ জুলাই সারাদেশে একযোগে একাদশ শ্রেণিতে ক্লাস শুরু হবে।

অনলাইনে আবেদন যেভাবে

ভর্তি নীতিমালা অনুযায়ী, চলতি বছর অনলাইনে নির্ধারিত ওয়েবসাইটে (www.xiclassadmission.gov.bd) একাদশ শ্রেণির ভর্তির আবেদনের কার্যক্রম চলবে। অনলাইন ছাড়া শিক্ষার্থীরা ভর্তির আবেদন করতে পারবেন না। এবার আবেদন ফি ১৫০ টাকা।

১৫০ টাকা আবেদন ফি দিয়ে সর্বনিম্ন পাঁচটি এবং সর্বোচ্চ ১০টি কলেজে পছন্দক্রম দিতে পারবেন শিক্ষার্থীরা। একজন শিক্ষার্থী যতগুলো কলেজে আবেদন করবেন, সেগুলোর মধ্য থেকে তার মেধা, কোটা ও পছন্দক্রমের ভিত্তিতে একটিমাত্র কলেজে ভর্তির অবস্থান নির্ধারণ করা হবে।

নির্বাচিত শিক্ষার্থীকে ৩৩৫ টাকা দিয়ে প্রাথমিকভাবে ভর্তি নিশ্চিত করতে হবে। প্রাথমিক ভর্তি নিশ্চিত করার পর তিনি আরও দুই ধাপে মাইগ্রেশন করতে পারবেন। শিক্ষার্থীর পছন্দের কলেজ সিট ফাঁকা থাকা সাপেক্ষে অটো মাইগ্রেশন করা হবে।

গ্রুপ নির্বাচন পদ্ধতি

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের যেকোনো একটিতে আবেদন করতে পারবেন। মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীরা শুধু মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ভর্তির সুযোগ পাবেন। একইভাবে ব্যবসায় শিক্ষার শিক্ষার্থীরা শুধু ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক বিভাগে আবেদনের জন্য যোগ্য বিবেচিত হবে।

মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে বিজ্ঞান গ্রুপে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা গ্রুপের যেকোনোটি এবং সাধারণ ও মুজাব্বিদ মাহির গ্রুপ থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান গ্রুপ ছাড়া যেকোনোটিতে আবেদন করতে পারবেন।

কারিগরি শিক্ষা বোর্ড থেকে এসএসসি (ভোকেশনাল) ও দাখিল (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরাও সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের যেকোনে গ্রুপে ভর্তির আবেদন করতে পারবেন।

আবেদন, ফল প্রকাশ, নিশ্চায়ন ও ভর্তির সিডিউল

প্রথম ধাপ: এ ধাপে আবেদন শুরু হবে ২৬ মে, চলবে ১১ জুন পর্যন্ত। ১২-১৩ আবেদন যাচাই-বাছাই ও আপত্তি নিষ্পত্তি এবং পছন্দক্রম পরিবর্তনের সুযোগ দেওয়া হবে। একই সময়ে (১২-১৩ জুন) এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনঃনিরীক্ষণে ফলাফল পরিবর্তিত হওয়া শিক্ষার্থীদের আবেদন গ্রহণ করা হবে। ১৪-১৮ জুন ঈদুল আজহা উপলক্ষে অনলাইন সার্ভিস ও কল সেন্টার বন্ধ থাকবে।

২৩ জুন রাত ৮টায় প্রথম ধাপে আবেদনকারীদের ফল প্রকাশ করা হবে। ২৩ জুন ফল প্রকাশের পর থেকে ২৯ জুন রাত ৮টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীর নির্বাচন নিশ্চায়ন করতে হবে। ৪ জুলাই পছন্দক্রম অনুযায়ী প্রথম মাইগ্রেশনের ফল প্রকাশ করা হবে।

দ্বিতীয় ধাপ: ৩০ জুন শুরু হবে দ্বিতীয় ধাপের আবেদন। এ ধাপে আবেদন চলবে ২ জুলাই রাত ৮টা পর্যন্ত। ৪ জুলাই রাত ৮টায় দ্বিতীয় ধাপের ফল প্রকাশ করা হবে। ৫ থেকে ৮ জুলাই রাত ৮টা পর্যন্ত দ্বিতীয় ধাপে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের নিশ্চায়ন প্রক্রিয়া চলবে। ১২ জুলাই দ্বিতীয় মাইগ্রেশনের ফল প্রকাশ করা হবে।

তৃতীয় ধাপ: ৯-১০ জুলাই তৃতীয় ধাপে আবেদন শুরু হবে। ১২ জুলাই তৃতীয় ধাপের ফল প্রকাশ এবং ১৩-১৪ জুলাই তৃতীয় ধাপে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের নিশ্চায়ন করতে হবে।

ভর্তি: ১৫ থেকে ২৫ জুলাই পর্যন্ত তিন ধাপে নির্বাচিত এবং সফলভাবে নিশ্চায়ন করা শিক্ষার্থীদের ভর্তি প্রক্রিয়া চলবে। এরপর ৩০ জুলাই অনুষ্ঠানিকভাবে সারাদেশে একযোগে একাদশ শ্রেণিতে ক্লাস শুরু হবে।

ভর্তি ফি ও সেশন চার্জ

নীতিমালা অনুযায়ী—এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রে ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় বাংলা ও ইংরেজি ভার্সনে ৫ হাজার টাকা, মেট্রোপলিটন (ঢাকা ছাড়া) বাংলা ও ইংরেজি ভার্সনে ৩ হাজার টাকা, জেলায় ২ হাজার টাকা এবং উপজেলা ও মফস্বলে দেড় হাজার টাকা।

নন-এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় বাংলা ভার্সনে সাড়ে ৭ হাজার টাকা, ইংরেজি ভার্সনে সাড়ে ৮ হাজার টাকা, মেট্রোপলিটন (ঢাকা ছাড়া) বাংলা ভার্সনে ৫ হাজার টাকা ও ইংরেজি ভার্সনে ৬ হাজার টাকা, জেলায় বাংলা ভার্সনে ৩ হাজার টাকা ও ইংরেজি ভার্সনে আড়াই হাজার টাকা এবং উপজেলা ও মফস্বলে বাংলা ভার্সনে আড়াই হাজার টাকা ও ইংরেজি ভার্সনে ৩ হাজার টাকা।

শিক্ষা বোর্ড শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ভর্তির প্রাথমিক নিশ্চায়ন করার সময় রেজিস্ট্রেশন ফি বাবদ ১৪২ টাকা, ক্রীড়া ফি বাবদ ৫০ টাকা, রোভার/রেঞ্জার ফি বাবদ ১৫ টাকা, রেড ক্রিসেন্ট ফি ১৬ টাকা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফি ৭ টাকা, বিএনসিসি ফি ৫ টাকা, শিক্ষক কল্যাণ ফি ও অবসর সুবিধা ভাতা ফি ১০০ টাকাসহ মোট ৩৩৫ টাকা নিতে পারবে।

ভর্তি আবেদনের যোগ্যতা\r\n

২০২২, ২০২৩ ও ২০২৪ সালে দেশের যেকোনো শিক্ষা বোর্ড থেকে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।

বিদেশি কোনো বোর্ড বা অনুরূপ কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে তার সনদের মান নির্ধারণের পর ভর্তির যোগ্য বিবেচিত হবে।

শিক্ষার্থী নির্বাচন পদ্ধতি

ভর্তির জন্য কোনো বাছাই বা ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে না। কেবল শিক্ষার্থীর এসএসসি বা সমমান পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে ভর্তি করা হবে। কলেজ বা সমমানের প্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কলেজ বা সমমানের প্রতিষ্ঠানের ৯৩ শতাংশ আসন সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে, যা মেধার ভিত্তিতে নির্বাচন করা হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য ২ শতাংশ কোটা নূন্যতম যোগ্যতা থাকা সাপেক্ষে সংরক্ষিত থাকবে। অন্যদিকে মোট আসনের ৫ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও নাতি-নাতনিদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।

কলেজ পরিবর্তনের নিয়ম

সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের পূর্বানুমতি ছাড়া একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির পর কোনো শিক্ষার্থীরা ছাড়পত্র (টিসি) ইস্যু করা যাবে না। কিংবা বোর্ডের পূর্বানুমতি ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃক ইস্যুকৃত ছাড়পত্রের বরাতে ভর্তি করা যাবে না।

ছাড়পত্রের (টিসি) মাধ্যমে ভর্তির ক্ষেত্রে কলেজ বা সমমানের প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে এ ধরনের ভর্তিকৃত ছাত্রছাত্রী ভর্তির ১৫ দিনের মধ্যে রেজিস্ট্রেশন ফিসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডে জমা দিতে হবে।

বোর্ডে সরাসরি আবেদন করতে পারবেন যারা

একাদশে ভর্তি প্রক্রিয়াটি পুরোপুরি অনলাইনে হলেও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্ট বোর্ডে ম্যানুয়ালি ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন। প্রবাসীদের সন্তান অথবা বিকেএসপি থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী অথবা খেলাধুলা এবং সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে বিভাগীয় অথবা জাতীয় পর্যায়ে অসামান্য অবদানের জন্য পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য বোর্ডে ম্যানুয়ালি আবেদন করতে পারবেন। এক্ষেত্রে বোর্ড উপযুক্ত প্রমাণপত্র যাচাই-বাছাই করে শিক্ষার্থী ভর্তির ব্যবস্থা করবে।

একাদশ শ্রেণিতে আসন কত

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ১১টি বোর্ডে মোট পাস করেছেন ১৬ লাখ ৭২ হাজার ১৫৩ জন শিক্ষার্থী। দেশের সরকারি-বেসরকারি কলেজ, মাদরাসা, পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মোট আসন প্রায় ৩৪ লাখ। সেই হিসাবে সব শিক্ষার্থী ভর্তি হলেও ফাঁকা থাকবে অর্ধেকের বেশি আসন।

ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক (অতিরিক্ত দায়িত্বে) অধ্যাপক মোহাম্মদ আবুল মনছুর ভূঁঞা জাগো নিউজকে জানান, সারাদেশে ৯ হাজার ২০০টির মতো কলেজ ও মাদরাসায় একাদশ শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ রয়েছে। মোট আসন সংখ্যা ২২ লাখেরও কিছু বেশি।

তিনি বলেন, এটা তো গেলো কলেজ-মাদরাসার হিসাব। সরকারি-বেসরকারি পলিটেকনিকে অনেক শিক্ষার্থী ভর্তি হয়। সেখানেও তো প্রায় আড়াই লাখ আসন রয়েছে। ভোকেশনাল যেটাকে আমরা বলি, সেখানেও এইচএসসিতে (ভোকেশনাল) পড়ার সুযোগ রয়েছে ৯ লাখের বেশি শিক্ষার্থীর। সবমিলিয়ে প্রায় ৩৪ লাখ আসন রয়েছে।