img

যে কারণে বাদ সাইফউদ্দিন

প্রকাশিত :  ১০:৪৯, ১৪ মে ২০২৪

যে কারণে বাদ সাইফউদ্দিন

অনেক অপেক্ষার পর অবশেষে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণা করা হয়েছে। এই দলে রয়েছে বেশ কয়েকটা চমকও। ইনজুরিতে থাকা তাসকিন আহমেদকে আইসিসির এই মেগা আসরে টাইগারদের সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে দলে জায়গা মেলেনি পেস অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের। তার সঙ্গে প্রতিযোগিতায় উৎরে গেছেন পেসার তানজিম হাসান সাকিব।

৩৬ মিনিটের সংবাদ সম্মলেনে প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেন লিপুকে সবচেয়ে বেশি প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়েছে সাইফুদ্দিনের বাদ পড়া আর তানজীমের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে। প্রধান নির্বাচকের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বাকি দুই নির্বাচক আব্দুর রাজ্জাক ও হান্নান সরকার। 

এক প্রশ্নের উত্তর লিপু বলেন, ‘এখানে সবাই খুব ক্লোজ লড়াই করেছে। যে দলটা দিয়েছিলাম ৩০ তারিখে সেটা এক প্রেক্ষাপটে দিয়েছিলাম। সেখানে দুটো চিন্তা ছিল যে বর্তমান ক্রিকেটারদের নিয়েই দল করা। আর একটা চিন্তা ছিল ইনজুরি থেকে ফেরা ক্রিকেটাররা যেমন সাইফউদ্দিন কেমন করে তা দেখা। তো আমাদের যে আস্থার জায়গাটা। সেখানে সাইফউদ্দিনের চেয়ে তানজিম একটু এগিয়ে ছিল। এজন্য ওকে আমরা দলে রেখেছি।’

সদ্য শেষ হওয়া জিম্বাবুয়ে সিরিজে সাইফুদ্দিন খেলেছেন ৪ ম্যাচ। চট্টগ্রামে প্রথম তিনটি আর ঢাকায় শেষ ম্যাচটি। চট্টগ্রামে প্রথম ম্যাচে ছিলেন দুর্দান্ত, ১৫ রানে নেন ৩ উইকেট। এরপরের তিন ম্যাচে সাইফুদ্দিনের পারফরম্যান্স যথাক্রমে ১ উইকেটে ৩৭, ৩ উইকেটে ৪২ ও ১ উইকেটে ৫৫ রান।

শেষ ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে হাত খুলে রান দেয়াটাই কাল হয়েছে সাইফুদ্দিনের। এই ম্যাচটি বাংলাদেশ হারে শেষ পর্যন্ত। অন্যদিকে তানজীম হাসান সাকিব দুই ম্যাচ খেলেন। চট্টগ্রামে ১ ম্যাচে ২৬ রান দিয়ে নেন ১ উইকেট, ঢাকায় চতুর্থ ম্যাচে ৪২ রান দিয়ে কোনো উইকেট পাননি। 

৪ ম্যাচে সাইফুদ্দিন ৮ উইকেট নিয়েও কেন বাদ? অন্যদিকে মাত্র ১ উইকেট নেওয়া তানজীমে কেন নির্বাচকদের আস্থা? সেই ব্যাখ্যাও দিয়েছেন প্রধান নির্বাচক, ‘সাকিবকে (তানজীম) শ্রীলঙ্কা সিরিজেও আমরা দেখেছি। তার একাগ্রতা, মাঠে দেয়ার চেষ্টা সেটা সাইফুদ্দিনের চেয়ে কিছুটা এগিয়ে রেখেছে।’

‘আমরা যে কারণে সাইফউদ্দিনের দিকে তাকিয়ে ছিলাম যে ডেথ ওভারে ইয়র্কার করা, সেটা ঘরোয়া ক্রিকেটে যেমন ছিল তার চেয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে একটু ব্যতিক্রম মনে হয়েছে। তাই আমরা একটু ভিন্ন চিন্তা করেছি। ৩০ তারিখে যে দলটা দিয়েছিলাম সেখান থেকে একমাত্র এ জায়গাটাতেই পরিবর্তন হয়েছে। আমাদের আসলে সাইফউদ্দিন ও সাকিবের সঙ্গেই লড়াই চলছিল’-আরও যোগ করেন প্রধান নির্বাচক। 

বিপিএলে দুর্দান্ত পারফর্ম করে নির্বাচকদের নজরে আসেন ইনজুরির সঙ্গে লড়াই করা সাইফুদ্দিন। ৯ ম্যাচে ১৫ উইকেটের পাশাপাশি ব্যাট হাতে করেন ৬৩ রান। ফরচুন বরিশালের চ্যাম্পিয়নে রাখেন বড় ভূমিকা। তবে সেই পারফরম্যান্স ধরে রাখতে পারেননি জিম্বাবুয়ে সিরিজে। তাই তো দলে থেকেও শেষ পর্যন্ত নাই হয়ে গেলেন।

img

হায়দরাবাদকে হারিয়ে আইপিএলের তৃতীয় শিরোপা কলকাতার

প্রকাশিত :  ১৮:৪০, ২৬ মে ২০২৪

পুরো আসরজুড়ে খরুচে বোলিং করে আসা কলকাতার পেসার মিচেল স্টার্ক কোয়ালিফায়ারের পর ফাইনালেও হয়ে উঠলেন দুর্বার। দাপট দেখালেন আন্দ্রে রাসেল, হার্শিত রানাসহ বাকিরাও। হায়দরাবাদকে অল্প রানে আটকে দাপুটে জয়ে আইপিএলের শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট জিতে নিলো কলকাতা।

এর আগে ২০১২ ও ২০১৪ সালে গৌতম গম্ভীরের নেতৃত্বে দুইবার আইপিএলে চ্যাম্পিয়ন হয় বলিউড সুপারস্টার শাহরুখ খানের দল কেকেআর। এরপর ৮ বছর আইপিএলের শিরোপা জিততে পারেনি কেকেআর।

যে কারণে এবারের আসরে সাবেক অধিনায়ক গৌতম গম্ভীরকে কেকেআরের মেন্টরের দায়িত্ব দেন শাহরুখ খান। গৌতম গম্ভীরের পরামর্শে আইপিএলের ১৭তম আসরের শুরু থেকে অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স করে সর্বোচ্চ পয়েন্ট নিয়ে ফাইনালে উঠে যায় কেকেআর। 

আজ রোববার চেন্নাইয়ের এমএ চিদাম্বরাম স্টেডিয়ামে হায়দরাবাদকে ১৮.৩ ওভারে মাত্র ১১৩ রানে অলআউট করে ৮ বছর পর আইপিএলের শিরোপা জিতে কলকাতা নাইট রাইডার্স।

এদিন টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে আন্দ্রে রাসেল, মিচেল স্টার্ক ও হারসিত রানার গতির মুখে পড়ে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পতনের কারণে চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়তে পারেনি প্যাট কামিন্সের নেতৃত্বাধীন সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ২৪ রান করেন অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক কামিন্স। ২৩ বলে ২০ রান করেন এইডেন মার্করাম।

কলকাতার হয়ে ২.৩ ওভারে ১৯ রানে ৩ উইকেট শিকার করেন ক্যারিবীয় তারকা অলরাউন্ডার আন্দ্রে রাসেল। ৩ ওভারে মাত্র ১৪ রানে ২ উইকেট নেন অস্ট্রেলিয়ান তারকা পেসার মিচেল স্টার্ক। ৪ ওভারে ২৪ রানে ২ উইকেট নেন ভারতীয় পেসার হারসিত রানা।

১২০ বলে ১১৩ রানের মামুলি স্কোর তাড়া করতে নেমে ১.২ ওভারে দলীয় ১১ রানে উইকেট হারান ওপেনার সুনীল নারিন। এরপর ভেঙ্কটিশ আইয়ারকে সঙ্গে নিয়ে ৪৪ বলে ৯১ রানের জুটি গড়ে দলকে জয়ের দুয়ারে নিয়ে যান ওপেনার রহমানউল্লাহ গুরবাজ।

জয়ের জন্য ৬৭ বলে কলকাতার প্রয়োজন ছিল মাত্র ১২ রান। খেলার এমন অবস্থায় আউট হয়ে ফেরেন আফগান ওপেনার রহমানউল্লাহ গুরবাজ। তিনি ৩২ বলে ৫টি চার আর ২টি ছক্কার সাহায্যে ৩৯ রান করে ফেরেন। 

চার নম্বর পজিশনে ব্যাটিংয়ে নামা অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ারকে সঙ্গে নিয়ে ৫৮ বল আগেই ৮ উইকেটের জয় নিশ্চিত করেন ভেঙ্কটিশ আইয়ার। তিনি ২৫ বলে ৪টি চার আর ৩টি ছক্কার সাহায্যে ৫১ রান করে অপরাজিত থাকেন।