img

বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ও নারী উদ্যোক্তাদের ৫০ মিলিয়ন ডলার দিচ্ছে ব্রিটেন

প্রকাশিত :  ১১:১৯, ১৪ মে ২০২৪

বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ও নারী উদ্যোক্তাদের ৫০ মিলিয়ন ডলার দিচ্ছে ব্রিটেন

ব্রিটেনের আর্থিক উন্নয়ন সংস্থা (ডিএফআই) ব্রিটিশ ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট (বিআইআই) ‘প্রভাব বিনিয়োগ’ ছোট ব্যবসা এবং নারী উদ্যোক্তাদের সমর্থন দিতে বাংলাদেশের একটি শীর্ষস্থানীয় এসএমই ব্যাংক ব্র্যাক ব্যাংককে ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করেছে।

এই ঋণটি ক্ষুদ্র এবং ছোট ও মাঝারি উদ্যোগ এবং নারী নেতৃত্বাধীন ব্যবসার বৃদ্ধিকে সমর্থন দেওয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ তহবিল সরবরাহ করবে, যা বাংলাদেশের অর্থনীতির ভিত্তি।

মঙ্গলবার ঢাকায় ব্রিটিশ হাই কমিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিআইআই’র একথা বলা হয়েছে।

ঢাকাস্থ ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক এই অনুষ্ঠানে বলেন, ‘এই বিনিয়োগ বাংলাদেশে অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং টেকসই উন্নয়নে সহায়তার জন্য যুক্তরাজ্যের প্রতিশ্রুতিকে শক্তিশালী করেছে এবং এটি বাংলাদেশের সাথে যুক্তরাজ্যের আধুনিক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের একটি বড় নিদর্শন।’

তিনি বলেন, এটি বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ব্যবসা এবং নারী উদ্যোক্তাদের আরও অর্থনৈতিক সুযোগ গ্রহণ করতে এবং আরও বেশি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে সক্ষম করবে।

বাংলাদেশে প্রায় ১০ মিলিয়ন এমএসএমই রয়েছে। এতে জনসংখ্যার প্রায় ৮০ শতাংশকে নিযুক্ত রয়েছে এবং দেশের শিল্প উৎপাদনের অর্ধেক এই খাত থেকে আসে।

বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও বিশেষ করে নারী উদ্যোক্তাদের টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন এবং দারিদ্র্য নিরসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে এই অর্থয়নকে অপরিহার্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

ব্র্যাক ব্যাংকের তথ্য অনুসারে, এই ধরণের অর্থায়ন একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেখানে দেশের মোট ঋণের মাত্র ২০ শতাংশ নারী-মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানসহ এসএমইতে যাচ্ছে।

বিআইআই’র ঋণের অর্ধেক এমএসএসই খাতে যাবে এবং অবশিষ্টাংশ অর্ধেক নারী উদ্যোক্তাদের কাছে যাবে। যাতে মোট ৩ হাজার ৫শ’এমএসএসই এবং নারী উদ্যোক্তাদের কাছে পৌঁছানো হবে, যাতে তাদের ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা যায়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই বিনিয়োগকালীন কাজ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য লিঙ্গ সমতার ওপর জাতিসংঘের ইউএন এসডিজি ৫, এসডিজি  ৮ সমর্থন দেবে। সেইসাথে শিল্প, উদ্ভাবন এবং অবকাঠামোতে এসডিজি ৯ সমর্থন করে।

যুক্তরাজ্য এর আরও খবর

ইংলিশ চ্যানেলে নৌকা ডুবে শিশুসহ নিহত ৫ | JANOMOT | জনমত

ব্রিটেনে আগাম নির্বাচন

img

সরে দাঁড়ালেন ৭৮ ব্রিটিশ এমপি, বিপাকে ঋষি সুনাক

প্রকাশিত :  ১৮:৩১, ২৬ মে ২০২৪
সর্বশেষ আপডেট: ১৮:৩৪, ২৬ মে ২০২৪

আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দিয়ে বড় সমস্যায় পড়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক। ভোটের আগে তার দলের ৭৮ জন সংসদ সদস্য বলেছেন, তারা আগামী নির্বাচনে লড়বেন না। এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া নেতাদের মধ্যে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরাও রয়েছেন।

যুক্তরাজ্যের আইন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারির মধ্যে সাধারণ নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। কিন্তু সুনাকের কনজারভেটিভ পার্টি নির্বাচন স্থগিত করার দাবি জানিয়ে আসছিল। কারণ গত কয়েক মাসে দলটির নেতাদের প্রতি ভোটারদের আস্থা প্রায় তলানিতে পৌঁছেছে। একের পর এক জরিপে দেখা গেছে, ব্রিটিশ রাজনীতির ইতিহাসে রক্ষণশীল পার্টির সবচেয়ে খারাপ ফলাফল হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে পরাজয় নিশ্চিত বলে মনে করছেন দলের একটি বড় অংশ।

কিন্তু কার্যত দলকে উড়িয়ে দিয়ে দ্রুত নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন ঋষি সুনক। তিনি বলেন, আগামী ৪ জুলাই দেশটির সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ভারতীয় বংশোদ্ভূত ঋষি সেখানে প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

পার্টি লাইনের "বিরুদ্ধে" একটি স্ন্যাপ নির্বাচনের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেছিলেন, যুক্তরাজ্যের ভবিষ্যত বেছে নেওয়ার সময় এসেছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর দাবি, তার নেতৃত্বে দেশ আর্থিক সংকট থেকে মুক্তি পাবে।

তবে নির্বাচনের দিন ঘোষণার পর থেকে একের পর এক কনজারভেটিভ এমপিরা আগামী নির্বাচনে লড়তে চান না বলে জানিয়েছেন। এই তালিকায় প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে, প্রাক্তন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী বেন ওয়ালেস, প্রাক্তন চ্যান্সেলর নাদিম জাহাভি এবং সাজিদ জাভিদের মতো নেতারা রয়েছেন।

ব্রিটিশ দৈনিক দ্য টেলিগ্রাফ জানিয়েছে যে ১৯৯৭ সালের সাধারণ নির্বাচন থেকে সরে আসা টোরি এমপির সংখ্যা রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। স্যার টনি ব্লেয়ারের নেতৃত্বে লেবার পার্টি নির্বাচনে বিপুল বিজয় লাভ করে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কনজারভেটিভ পার্টির নেতারা ধরেই নিয়েছেন, নির্বাচনে তাদের পরাজয় নিশ্চিত। তাই বিব্রত এড়াতে আগাম নাম প্রত্যাহার করা হচ্ছে।

এমন পরিস্থিতিতে অনেকটা আত্মগোপনে চলে গেছেন ঋষি সুনক। সপ্তাহান্তে বিরোধীরা যখন প্রচারণায় ব্যস্ত, তখন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী তার বাসভবনে উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠকে ব্যস্ত।

দ্য গার্ডিয়ানকে সূত্র জানায়, নির্বাচনী প্রচারণার প্রথম সপ্তাহান্তে ঋষি সুনক 'অস্বাভাবিক পদক্ষেপ' নিচ্ছেন। প্রকাশ্য অনুষ্ঠানের পরিবর্তে ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টাদের সঙ্গে নির্বাচনী কৌশল নিয়ে আলোচনায় সময় কাটাবেন তিনি।