img

৩০ ফ্রিল্যান্সিং দেশের র‍্যাঙ্কিংয়ের তলানিতে বাংলাদেশ

প্রকাশিত :  ১২:১৪, ২০ মে ২০২৪
সর্বশেষ আপডেট: ১২:৫৭, ২০ মে ২০২৪

৩০ ফ্রিল্যান্সিং দেশের র‍্যাঙ্কিংয়ের তলানিতে বাংলাদেশ

পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম আউটসোর্সিংয়ের কাজ হয় বাংলাদেশ থেকে এমনটা গত সাড়ে চার বছর ধরে বাংলাদেশ দাবি করে আসছিল। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির ইন্টারনেট সোসাইটির ২০১৯-এর ডিসেম্বরের একটি রিপোর্টে বলা হয়েছিল, পৃথিবীর প্রায় ২৪% আউটসোর্সিংয়ের কাজ করে ভারতের ফ্রিল্যান্সাররা; আর এর পরেই ১৬% কাজের ভাগ নিয়ে বাংলাদেশিদের অবস্থান। বিভিন্ন কান্ট্রি-ব্র্যান্ডিং প্রেজেন্টেশনে এটা বলে এসেছিল বাংলাদেশ এতদিন।

রিপোর্টটি বলছে, ঐতিহ্যগত কাজের মডেল বিশ্বব্যাপী একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের সম্মুখীন হচ্ছে। বর্ধিত অর্থনৈতিক চাপ, একটি ভালো কর্ম—জীবনের ভারসাম্যের আকাঙ্ক্ষা এবং দূরবর্তী কাজের প্রতি প্রবণতার মতো কারণগুলি অনেক কর্মীকে আরো স্বাধীন কাজের ব্যবস্থা খুঁজতে পরিচালিত করেছে। ফলস্বরূপ, বিশ্বব্যাপী ফ্রিল্যান্স কর্মশক্তি অভূতপূর্ব হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে বিশ্বব্যাপী প্রায় অর্ধেক কর্মী এখন ফ্রিল্যান্সার। নিউইয়র্ক, লন্ডন এবং মুম্বাইয়ের মতো শহরের প্রতিভাবান পেশাদাররা আবিষ্কার করছেন যে ফ্রিল্যান্স কাজ আর্থিক পুরস্কার এবং কাজের সন্তুষ্টি প্রদান করে। এই নির্দেশিকাটি সিইও এবং প্রকল্প পরিচালকদের লক্ষ্য করে ফ্রিল্যান্সারদের নিয়োগের জন্য শীর্ষ দেশগুলির রূপরেখা। এই তালিকার প্রতিটি দেশ স্বতন্ত্র সুবিধা প্রদান করে যা এটিকে উচ্চ-মানের ফ্রিল্যান্স প্রতিভা সোর্সিংয়ের জন্য একটি নিখুঁত গন্তব্য করে তোলে।

কিছু দেশ ফ্রিল্যান্সারদের জন্য দুর্দান্ত সুযোগ সুবিধা দেয়। যেমন উচ্চ চাহিদা সহায়ক নীতি এবং সহজ অর্থপ্রদানের পদ্ধতি। আরো ব্যবসার সুযোগের সুবিধা নিতে, অবস্থান নির্বিশেষে বিশ্বব্যাপী ক্লায়েন্ট বেজ প্রসারিত করার বিষয়টি বিবেচনা করা মূল্যবান। এটি কপিরাইটিং, ডেভেলপমেন্ট, ডিজাইন, কোচিং এবং আরো অনেক কিছুসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পেশাদারদের জন্য প্রযোজ্

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ভারত ফ্রিল্যান্সারদের জন্য দু’টি শীর্ষ গন্তব্য, তাদের বৃহত্ এবং বৈচিত্র্যময় বাজারে বিভিন্ন শিল্পজুড়ে যথেষ্ট সুযোগ প্রদান করে। সিইও ওয়ার্ল্ড-এর গবেষণা অনুসারে ফ্রিল্যান্সারদের নিয়োগের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সেরা দেশ, তারপর ভারত, যুক্তরাজ্য, ফিলিপাইন এবং ইউক্রেন রয়েছে।

অনেকেই জানেন যে ফ্রিল্যান্সাররা বিশ্বব্যাপী কর্মশক্তির একটি বড় অংশ নিয়ে গঠিত। বিশ্বব্যাপী প্রায় ১.৫৭ বিলিয়ন ফ্রিল্যান্সার রয়েছে। ফ্রিল্যান্স প্ল্যাটফর্মের বাজার বিশ্বব্যাপী ৩.৩৯ বিলিয়ন ডলার মূল্যের অনুমান করা হয়। শুধুমাত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেই ফ্রিল্যান্সাররা গত বছর অতিরিক্ত ১০০ মিলিয়ন ডলার উপার্জন করেছে, যা তাদের মোট ডলার ১.৩ ট্রিলিয়ন ডলারে নিয়ে এসেছে। গড়ে, বিশ্বব্যাপী ফ্রিল্যান্সাররা প্রতি ঘণ্টায় ২১ ডলার উপার্জন করে। মজার বিষয় হলো, প্রায় ৭০% ফ্রিল্যান্সারদের বয়স ৩৫ বা তার কম।

ফ্রিল্যান্সাররা অবস্থান নির্বিশেষে যে কাউকে কাজের সুযোগ দেয় এবং কম খরচে সমস্যা সমাধানে সাহায্য করে, বিশেষ করে আইটি টিমের জন্য। ফ্রিল্যান্সিং-এর লাইফস্টাইল সুবিধাগুলিও আকর্ষণীয়, স্বাধীনতার পাশাপাশি রয়েছে নানান সুবিধা। এই পরিসংখ্যানগুলির ওপর ভিত্তি করে, সম্ভবত আরো কর্মী এবং কোম্পানিগুলি একটি কার্যকর সমাধান হিসাবে ফ্রিল্যান্সিং বেছে নেবে।

বেসিসের সাবেক সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর মনে করেন, এর প্রধান কারণ হচ্ছে—নতুন নতুন টেকনোলজিতে আমাদের দক্ষতা অর্জন বা বৃদ্ধি না করা। আমরা এখনো এমন সব পরিষেবা দিয়ে থাকি, যা AI বা RPA ব্যবহার করে ফেলা যায়। ফলে ধীরে ধীরে আমাদের চাহিদা কমছে। ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজিতে আমাদের ছেলেমেয়েদের দক্ষতা বৃদ্ধি করতে না পারলে এই চাহিদা আরো কমবে। বিশ্লেষণধর্মী (analytical) ও সিদ্ধান্ত (decision based) নেওয়ার মতো কাজগুলো করতে পারলে কাজের পারিশ্রমিকও ২-৩ গুণ বৃদ্ধি পাবে। ক্লিপিং পাথ বা ডাটা এন্ট্রির মতো শুধুমাত্র বেসিক কাজের দাম ও চাহিদা দিন দিন কমতেই থাকবে। তাই, অবিলম্বে আমাদের আইটি প্রফেশনালদের নতুন প্রযুক্তিতে দক্ষতা অর্জন ও বৃদ্ধির কাজে মনোনিবেশ করতে হবে। 

img

পৃথিবীর দুই মেরুর অবস্থান কি বদলাচ্ছে

প্রকাশিত :  ১২:১৬, ১৩ জুন ২০২৪

পৃথিবীর উত্তর মেরু আর দক্ষিণ মেরু নিয়ে অনেকেই অনেক কিছু জানি। সেই মেরুর অবস্থান বদলে যাওয়ার কথা জানিয়েছে বিজ্ঞানীরা। সাধারণভাবে উত্তর মেরু প্রতিবছর প্রায় ১৫ কিলোমিটার গতিতে জায়গা বদল করে। ৯০ দশক থেকে এই গতি বেড়েছে। উত্তর মেরু এখন সাইবেরিয়ার দিকে প্রতিবছর প্রায় ৪৫ কিলোমিটার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। বিজ্ঞানীরা চৌম্বকক্ষেত্রের বিপরীত অবস্থান সম্পর্কে পূর্বাভাস দিয়েছে। এই অবস্থায় পৃথিবীর চৌম্বকীয় উত্তর ও দক্ষিণ মেরু অবস্থান পরিবর্তন করে।

আমরা জানি, পৃথিবীর একটি তরল গলিত কেন্দ্র আছে। সেই কেন্দ্রের বাইরে পুরোটাই লোহা ও নিকেল দ্বারা গঠিত। কেন্দ্র উত্তর ও দক্ষিণ মেরুর মাধ্যমে বিস্তৃত একটি বিদ্যুৎ-চৌম্বকীয় ক্ষেত্র তৈরি করে। এর মাধ্যমে পৃথিবী ক্ষতিকর সৌরকণার বিকিরণ থেকে  রক্ষা পায়। পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্রের যে শক্তি তা নানা কারণে ওঠানামা করে। সৌরঝড়ের কারণে ভূ-চৌম্বকীয় ক্ষেত্র স্থির থাকে। এতে উপগ্রহ, বিমান, জাহাজ ও গাড়ির নেভিগেশন যন্ত্রে সমস্যা তৈরি হয়। সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে চৌম্বকক্ষেত্রের বাঁকবদলের কারণে মেরুর আচরণ বদলে যাচ্ছে। ‘জিওফিজিক্যাল রিসার্চ: স্পেস ফিজিকস’ জার্নালে মেরুর আচরণ নিয়ে একটি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে।

নিম্ন থেকে মাঝারি মাত্রার ভূ-চৌম্বকীয় অবস্থার মধ্যে পার্থক্য বোঝার চেষ্টা করে গবেষকরা। প্রায় ৯৮ শতাংশ এলাকাজুড়ে এমন ধরনের ভূ-চৌম্বকীয় প্রভাব থাকে। পৃথিবীর ওপর থেকে উপগ্রহ পর্যবেক্ষণ বিশ্লেষণ করা হয়। পৃথিবীর চৌম্বক মেরুতে বিভিন্ন পরিবর্তন এসব উপগ্রহ পর্যবেক্ষণ করে। নতুন তথ্য বলছে, উত্তর মেরু প্রতিবছর প্রায় ৪৫ কিলোমিটার উত্তর-উত্তর পশ্চিমে স্থানান্তরিত হচ্ছে।

বিজ্ঞানীদের একজন বলেছে, ‘আমরা সব সময় উত্তর ও দক্ষিণ মেরু অঞ্চলকে স্থির মনে করি। প্রতিসাম্য চৌম্বকীয় ক্ষেত্র বলে অনুমান করি। আসলে দুই মেরু বেশ আলাদা। উত্তর মেরুর অবস্থান প্রায় ৮৪ ডিগ্রি চৌম্বক অক্ষাংশ থেকে ১৬৯ ডিগ্রি চৌম্বক দ্রাঘিমাংশ। দক্ষিণ মেরুর অবস্থান মাইনাস ৭৪ ডিগ্রি থেকে ১৯ ডিগ্রি চৌম্বক দ্রাঘিমাংশ। সোয়ার্ম স্যাটেলাইটের তথ্য বলছে, মেরু চৌম্বকক্ষেত্র গত এক দশক বা তারও বেশি সময় ধরে দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে। চৌম্বকক্ষেত্রের নড়াচড়ার কারণে অনেক জটিলতা তৈরি হতে পারে। আমরা যে জিপিএস ব্যবহার করি তা সঠিকভাবে কাজ নাও করতে পারে।