img

১৬০টিরও বেশি ভূমিকম্পে কাঁপল ইতালির নেপলস

প্রকাশিত :  ০৭:২০, ২২ মে ২০২৪

১৬০টিরও বেশি ভূমিকম্পে কাঁপল ইতালির নেপলস

১৬০টিরও বেশি ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে ইতালির নেপলস। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় এই শহরে ও শহরের আশপাশে গত সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যে এসব ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়। অনেকগুলো ভূমিকম্পের পর শহরটির বাড়িঘর খালি করা হয়েছে এবং বহু স্কুল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সময় সোমবার সন্ধ্যা ও রাতে ১৬০টিরও বেশি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছে। সবচেয়ে শক্তিশালী ৪ দশমিক ৪ মাত্রার কম্পন পোজুলি শহরের কাছে স্থানীয় সময় রাত ৮টার দিকে অনুভূত হয়।

ইতালির ভূপদার্থবিদ্যা ও আগ্নেয়গিরি বিষয়ক জাতীয় ইনস্টিটিউট (আইএনজিভি) বলছে, অঞ্চলটিতে ৪০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প এটি।

নেপলসের মেয়র গায়েতানো মানফ্রেদি স্বীকার করেছেন, বাসিন্দারা ভয় পেয়ে থাকতে পারে। তবে কর্মকর্তারা পরিস্থিতি নজর রাখছে বলে জানান তিনি।

ভূমিকম্পের পর পোজুলিতে শতাধিক তাবু টানানো হয়। কিছু বাসিন্দা রাতের বেশিরভাগ সময় রাস্তাতেই কাটিয়েছে। কেউ কেউ আবার অন্য জায়গায় আত্মীয়দের কাছে চলে যান।

স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, গত কয়েক মাসে কমমাত্রার কয়েকদফা ভূমিকম্প হওয়ার কারণে বেশ কয়েকটি পরিবার এলাকা ছেড়ে যাওয়ার কথা ভাবছে।

একটি গণমাধ্যম নেপলসের এক বাসিন্দার উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছেন, তারা কখনও এত শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভব করেনি।

যদিও ভূমিকম্পে অবকাঠামোগত কোনো উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তারপরও নেপলসের কিছু স্কুল মঙ্গলবার পরিদর্শন করার জন্য বন্ধ রাখা হয় এবং পোজুলিতে নারীদের একটি কারাগার পূর্বসতর্কতা হিসেবে খালি করা হয়।

তবে মেয়র মানফ্রেদি ভবিষ্যতে ‘আরও গুরুতর ভূমিকম্প হতে পারে’ বলে সতর্ক করেছেন।

তিনি বলেন, ‘আমি মানুষকে ভয় না করার জন্য বলতে পারি না। কারণ এটি স্বাভাবিক। তবে আমি নেপলবাসীদের বলতে পারি যে, আমরা (পরিস্থিতির দিকে) মননিবেশ করছি এবং নজরে রাখছি।’

সূত্র: বিবিসি

img

উইঘুর মুসলিমদের ৬৩০ গ্রামের নাম পালটে দিলো চীন

প্রকাশিত :  ১৫:২৪, ১৯ জুন ২০২৪
সর্বশেষ আপডেট: ১৮:৪৮, ১৯ জুন ২০২৪

চীনের উইঘুর মুসলিম অধ্যুষিত শিনজিয়াং প্রদেশে ধর্মীয়, ঐতিহাসিক বা সাংস্কৃতিক চিহ্ন সম্মিলিত শত শত গ্রামের নাম বদলে দিয়েছে চীনা কর্তৃপক্ষ। এসব গ্রামের নাম পরিবর্তন করে সেখানে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির আদর্শের সঙ্গে মিল রয়েছে এমন নাম রাখা হয়েছে। মূলত মুসলিম সংস্কৃতির চিহ্ন মুছে ফেলতে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে চীনা কর্তৃপক্ষ।

দীর্ঘদিন ধরে উইঘুর মুসলিমদের নিয়ে কাজ করা নরওয়ের একটি সংস্থা এবং মানবাধিকার বিষয়ক সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ একত্রে একটি প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানিয়েছে। ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে জাতীয় পরিসংখ্যান বিভাগে নথিভুক্ত ২৫ হাজার গ্রামের নাম নিয়ে গবেষণা চালিয়েছে সংস্থা দুইটি।

সেখানে তারা দেখতে পেয়েছে, তিন হাজার ৬০০ গ্রামের নাম বদলে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ মতে, এর মধ্যে প্রায় ৬৩০টি গ্রাম উইঘুর মুসলিম অধ্যুষিত। তাদের গ্রামের নামের সঙ্গে উইঘুর বা মুসলিম সংস্কৃতি সংশ্লিষ্ট শব্দ যুক্ত ছিল। সেই শব্দগুলো বাদ দিয়ে নতুন নামকরণ করা হয়েছে।

কয়েকটি উদাহরণও দেওয়া হয়েছে প্রতিবেদনে। কোনো কোনো গ্রামের নামের সঙ্গে দুতার শব্দটি যুক্ত ছিল। যা একটি উইঘুর বাদ্যযন্ত্রের নাম। আবার কোনো কোনো নামের সঙ্গে মাজার শব্দটি যুক্ত ছিল। তা বদলে ঐক্য, সম্প্রীতি, ও আনন্দের মতো শব্দ বসানো হয়েছে। এ ধরনের শব্দ চীনের শাসকগোষ্ঠী বিভিন্ন উপলক্ষে ব্যবহার করে। এই শব্দগুলোর সঙ্গে কমিউনিস্ট শাসনের যোগ আছে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন।

এখানেই শেষ নয়, সুফি শব্দ হোজা, হানিকা কিংবা বকসির মতো শব্দও বদলে দেওয়া হয়েছে। অবলুপ্ত করা হয়েছে ১৯৪৯ সালের আগের উইঘুর ইতিহাস।

শিনজিয়াং অঞ্চলে এভাবে আরো বহু গ্রামের নাম বদলে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে বেশ কিছু অন্যান্য ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী অধ্যুষিত গ্রাম আছে বলেও মনে করা হচ্ছে। মূলত ঐতিহ্য ধ্বংস করতেই একাজ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে চীনের প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা হলেও তারা বিষয়টি নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চায়নি বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

চীন-কাজাখস্তান সীমান্তে প্রায় এক কোটি উইঘুর মুসলিম বসবাস করেন। দীর্ঘদিন ধরে তাদের ওপর অত্যাচারের অভিযোগ সামনে আসছে। এ নিয়ে চীনকে সতর্ক করেছে পশ্চিমা বিশ্ব। কিন্তু এখনো পর্যন্ত পরিস্থিতির বড় কোনো পরিবর্তন ঘটেনি বলে মনে করা হচ্ছে।