img

মালয়েশিয়ায় অভিযানে ২৩ বাংলাদেশিসহ আটক ৮৬ অভিবাসী

প্রকাশিত :  ১১:৩৭, ২৩ মে ২০২৪

মালয়েশিয়ায় অভিযানে ২৩ বাংলাদেশিসহ আটক ৮৬ অভিবাসী

মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে পুলিশ ও ইমিগ্রেশন বিভাগ যৌথভাবে দেশটির সর্বত্র  অভিযান চালাচ্ছে। তবে অধিক অভিযান পরিচালিত হচ্ছে জোহর রাজ্যে।

মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় একযোগে ৩ দিনের অভিযানে ৮৬ জন অভিবাসীকে আটক করেছে ইমিগ্রেশন পুলিশ। ২০ মে থেকে ২২ মে পর্যন্ত অভিযানে ৮৬ অবৈধকে আটক করা হয়।

বুধবার (২২ মে) জোহর স্টেট অভিবাসনের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মো. ফয়জল বিন শামসুদীন এক বিবৃতিতে জানান, জোহর রাজ্যে ও মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের এনফোর্সমেন্ট ডিভিশনের অফিসারদের একটি দল, বাতু পাহাত শাখা এনফোর্সমেন্ট ইউনিট এবং সেগামাত শাখা এনফোর্সমেন্ট ইউনিট ৪২ টি স্থানে অভিযান পরিচালনা করে।

বৈধ পাস/পারমিট ছাড়া কাজ করা এবং বৈধ ভ্রমণ নথি নেই এমন বিদেশিদের বিষয়ে অভিযোগ এবং জনসাধারণের তথ্যের ভিত্তিতে রাজ্যের হটস্পট এলাকায় অপস সাপু, অপস সেলেরা, অপস পিন্টু, অপস মাহির ও অপস পিক আপের মতো বিভিন্ন নামে এ অভিযান চালানো হয়।

জোহর বাহরু জেলায় গ্রেফতারকৃতরা হলেন ইন্দোনেশিয়ার ৩১ জন, মিয়ানমারের ২২, বাংলাদেশের ৯, পাকিস্তানের ৪ এবং  ভারতের ১ জন। এছাড়াও, একজন স্থানীয় ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে যিনি প্রাঙ্গনের মালিক এবং নিয়োগকর্তা।

রাজ্যের বাতু পাহাত জেলায় আটককৃতদের মধ্যে ১৪ জন বাংলাদেশী । সেগামাতে, গ্রেফতারকৃতরা হলেন, ৩ ইন্দোনেশিয়ান মহিলা, ২ পাকিস্তানি এবং একজন ৪০-বছর-বয়সী দাসী, যে তার আসল নিয়োগকর্তার কাছ থেকে পালিয়েছিল।

জানা গেছে, আটককৃতরা ইমিগ্রেশন অ্যাক্ট ১৯৫৯/৬৩ (অ্যাক্ট ১৫৫) এর ধারা ৬(১)(সি) এর অধীনে মালয়েশিয়ায় বৈধ পাসপোর্ট বা পারমিট না থাকা, ১৫(১)(সি) বেশি থাকার জন্য ইমিগ্রেশন অ্যাক্ট ১৯৫৯/৬৩ (অ্যাক্ট ১৫৫), ইমিগ্রেশন রেগুলেশন ১৯৬৩-এর রেগুলেশন ৩৯(বি) যা পাসপোর্ট শর্ত লঙ্ঘন করে এ ধরনের অপরাধ করেছে। এছাড়া, আটককৃত দুই স্থানীয় নাগরিক বিদেশীদের সুরক্ষার জন্য অভিবাসন আইন ১৯৫৯/৬৩ (অ্যাক্ট ১৫৫) এর ধারা ৫৬(১)(ডি) এর অধীনে আইন লঙ্ঘন করেছে। সমস্ত আটককৃতদের তদন্ত ও পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য সেটিয়া ট্রপিকা ইমিগ্রেশন ডিপোতে রাখা হয়েছে।

মো. ফয়জল বিন শামসুদীন বলেন, জোহর রাজ্যের অভিবাসন বিভাগ অবৈধ অভিবাসীদের আগমনের সমস্যা মোকাবেলার প্রচেষ্টা জোরদার করতে থাকবে। বৈধ ভ্রমণ নথি এবং পাসপোর্ট/পারমিট ছাড়া বিদেশী কর্মীদের নিয়োগকারী অবৈধ অভিবাসীদের পাশাপাশি নিয়োগকর্তা এবং প্রাঙ্গনের মালিকদের বিরুদ্ধে আপসহীন কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান জোহর স্টেট অভিবাসনের এ ভারপ্রাপ্ত পরিচালক।

img

উইঘুর মুসলিমদের ৬৩০ গ্রামের নাম পালটে দিলো চীন

প্রকাশিত :  ১৫:২৪, ১৯ জুন ২০২৪
সর্বশেষ আপডেট: ১৮:৪৮, ১৯ জুন ২০২৪

চীনের উইঘুর মুসলিম অধ্যুষিত শিনজিয়াং প্রদেশে ধর্মীয়, ঐতিহাসিক বা সাংস্কৃতিক চিহ্ন সম্মিলিত শত শত গ্রামের নাম বদলে দিয়েছে চীনা কর্তৃপক্ষ। এসব গ্রামের নাম পরিবর্তন করে সেখানে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির আদর্শের সঙ্গে মিল রয়েছে এমন নাম রাখা হয়েছে। মূলত মুসলিম সংস্কৃতির চিহ্ন মুছে ফেলতে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে চীনা কর্তৃপক্ষ।

দীর্ঘদিন ধরে উইঘুর মুসলিমদের নিয়ে কাজ করা নরওয়ের একটি সংস্থা এবং মানবাধিকার বিষয়ক সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ একত্রে একটি প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানিয়েছে। ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে জাতীয় পরিসংখ্যান বিভাগে নথিভুক্ত ২৫ হাজার গ্রামের নাম নিয়ে গবেষণা চালিয়েছে সংস্থা দুইটি।

সেখানে তারা দেখতে পেয়েছে, তিন হাজার ৬০০ গ্রামের নাম বদলে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ মতে, এর মধ্যে প্রায় ৬৩০টি গ্রাম উইঘুর মুসলিম অধ্যুষিত। তাদের গ্রামের নামের সঙ্গে উইঘুর বা মুসলিম সংস্কৃতি সংশ্লিষ্ট শব্দ যুক্ত ছিল। সেই শব্দগুলো বাদ দিয়ে নতুন নামকরণ করা হয়েছে।

কয়েকটি উদাহরণও দেওয়া হয়েছে প্রতিবেদনে। কোনো কোনো গ্রামের নামের সঙ্গে দুতার শব্দটি যুক্ত ছিল। যা একটি উইঘুর বাদ্যযন্ত্রের নাম। আবার কোনো কোনো নামের সঙ্গে মাজার শব্দটি যুক্ত ছিল। তা বদলে ঐক্য, সম্প্রীতি, ও আনন্দের মতো শব্দ বসানো হয়েছে। এ ধরনের শব্দ চীনের শাসকগোষ্ঠী বিভিন্ন উপলক্ষে ব্যবহার করে। এই শব্দগুলোর সঙ্গে কমিউনিস্ট শাসনের যোগ আছে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন।

এখানেই শেষ নয়, সুফি শব্দ হোজা, হানিকা কিংবা বকসির মতো শব্দও বদলে দেওয়া হয়েছে। অবলুপ্ত করা হয়েছে ১৯৪৯ সালের আগের উইঘুর ইতিহাস।

শিনজিয়াং অঞ্চলে এভাবে আরো বহু গ্রামের নাম বদলে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে বেশ কিছু অন্যান্য ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী অধ্যুষিত গ্রাম আছে বলেও মনে করা হচ্ছে। মূলত ঐতিহ্য ধ্বংস করতেই একাজ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে চীনের প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা হলেও তারা বিষয়টি নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চায়নি বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

চীন-কাজাখস্তান সীমান্তে প্রায় এক কোটি উইঘুর মুসলিম বসবাস করেন। দীর্ঘদিন ধরে তাদের ওপর অত্যাচারের অভিযোগ সামনে আসছে। এ নিয়ে চীনকে সতর্ক করেছে পশ্চিমা বিশ্ব। কিন্তু এখনো পর্যন্ত পরিস্থিতির বড় কোনো পরিবর্তন ঘটেনি বলে মনে করা হচ্ছে।