img

বাতাসে ভেঙে পড়ল নির্বাচনি প্রচার মঞ্চ, নিহত ৯

প্রকাশিত :  ১২:৪৫, ২৩ মে ২০২৪

বাতাসে ভেঙে পড়ল নির্বাচনি প্রচার মঞ্চ, নিহত ৯

ঝড়ো বাতাসে ভেঙে পড়েছে মেক্সিকোর উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্য নুয়েভো লেওনে একটি নির্বাচনী প্রচারণার মঞ্চ। এ ঘটনায় অন্তত নয়জনের মৃত্যু হয়েছে , আহত হয়েছেন আরও ৫০ জন, জানিয়েছেন রাজ্যটির গভর্নর। 

স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যায় শিল্পাঞ্চল মন্তেরেইয়ের নিকটবর্তী সান পেদ্রো গার্সা গার্সিয়া শহরে সিটিজেন মুভমেন্ট পার্টির প্রচারণা সমাবেশে ঘটনাটি ঘটেছে।

এক সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর স্যামুয়েল গার্সিয়া জানান, এ ঘটনায় প্রায় ৫০ জন আহত হয়েছেন।

নিহতদের মধ্যে আটজন পূর্ণবয়স্ক ও একজন শিশু বলে জানিয়েছেন তিনি।

সামাজিক মাধ্যমে মেক্সিকোর সামাজিক নিরাপত্তা ইনস্টিটিউট জানিয়েছে, স্থানীয় ক্লিনিকগুলোতে বহু আহতকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

মধ্যপন্থি সিটিজেন মুভমেন্ট পার্টির মনোনীত প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হোর্হে আলভারেজ মাইনেজ জানিয়েছেন, দমকা বাতাসের কারণে মঞ্চটি ভেঙে পড়ে।

ঘটনার পর আলভারেজকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল; তবে তিনি ‘ঠিক আছেন’ জানিয়ে বলেছেন, তার প্রচারণা টিমের সদস্যরা আঘাত পেয়েছেন। প্রচারণা তৎপরতা স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

রয়টার্স জানিয়েছে, বুধবার সন্ধ্যায় সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার হওয়া এক ভিডিওতে দেখা গেছে, গভর্নর গার্সিয়া ওই এলাকায় জোরালো বজ্রঝড়ের মধ্যে বাসিন্দাদের বাড়িতে অবস্থান করার বিষয়ে সতর্ক করছেন। খারাপ আবহাওয়ার কারণে ওই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে জানাচ্ছেন তিনি।

আগামী ২ জুন মেক্সিকোতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। জরিপে এই নির্বাচনের প্রার্থীদের মধ্যে আলভারেজ মাইনেজ তৃতীয় স্থানে রয়েছেন। তিনি ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী ক্লদিয়া শিনবাউম এবং দ্বিতীয় স্থানে থাকা সম্মিলিত বিরোধীদলীয় প্রার্থী শোচিত গালভেজের থেকে অনেকটা পিছিয়ে আছেন।

সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে গালভেজ এ ঘটনায় নিহতদের পরিবারের প্রতি শোক প্রকাশ করার পাশাপাশি তার প্রতিদ্বন্দ্বী আলভারেজ মাইনেজের সঙ্গে ‘সংহতি’ প্রকাশ করেছেন।

img

উইঘুর মুসলিমদের ৬৩০ গ্রামের নাম পালটে দিলো চীন

প্রকাশিত :  ১৫:২৪, ১৯ জুন ২০২৪
সর্বশেষ আপডেট: ১৮:৪৮, ১৯ জুন ২০২৪

চীনের উইঘুর মুসলিম অধ্যুষিত শিনজিয়াং প্রদেশে ধর্মীয়, ঐতিহাসিক বা সাংস্কৃতিক চিহ্ন সম্মিলিত শত শত গ্রামের নাম বদলে দিয়েছে চীনা কর্তৃপক্ষ। এসব গ্রামের নাম পরিবর্তন করে সেখানে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির আদর্শের সঙ্গে মিল রয়েছে এমন নাম রাখা হয়েছে। মূলত মুসলিম সংস্কৃতির চিহ্ন মুছে ফেলতে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে চীনা কর্তৃপক্ষ।

দীর্ঘদিন ধরে উইঘুর মুসলিমদের নিয়ে কাজ করা নরওয়ের একটি সংস্থা এবং মানবাধিকার বিষয়ক সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ একত্রে একটি প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানিয়েছে। ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে জাতীয় পরিসংখ্যান বিভাগে নথিভুক্ত ২৫ হাজার গ্রামের নাম নিয়ে গবেষণা চালিয়েছে সংস্থা দুইটি।

সেখানে তারা দেখতে পেয়েছে, তিন হাজার ৬০০ গ্রামের নাম বদলে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ মতে, এর মধ্যে প্রায় ৬৩০টি গ্রাম উইঘুর মুসলিম অধ্যুষিত। তাদের গ্রামের নামের সঙ্গে উইঘুর বা মুসলিম সংস্কৃতি সংশ্লিষ্ট শব্দ যুক্ত ছিল। সেই শব্দগুলো বাদ দিয়ে নতুন নামকরণ করা হয়েছে।

কয়েকটি উদাহরণও দেওয়া হয়েছে প্রতিবেদনে। কোনো কোনো গ্রামের নামের সঙ্গে দুতার শব্দটি যুক্ত ছিল। যা একটি উইঘুর বাদ্যযন্ত্রের নাম। আবার কোনো কোনো নামের সঙ্গে মাজার শব্দটি যুক্ত ছিল। তা বদলে ঐক্য, সম্প্রীতি, ও আনন্দের মতো শব্দ বসানো হয়েছে। এ ধরনের শব্দ চীনের শাসকগোষ্ঠী বিভিন্ন উপলক্ষে ব্যবহার করে। এই শব্দগুলোর সঙ্গে কমিউনিস্ট শাসনের যোগ আছে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন।

এখানেই শেষ নয়, সুফি শব্দ হোজা, হানিকা কিংবা বকসির মতো শব্দও বদলে দেওয়া হয়েছে। অবলুপ্ত করা হয়েছে ১৯৪৯ সালের আগের উইঘুর ইতিহাস।

শিনজিয়াং অঞ্চলে এভাবে আরো বহু গ্রামের নাম বদলে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে বেশ কিছু অন্যান্য ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী অধ্যুষিত গ্রাম আছে বলেও মনে করা হচ্ছে। মূলত ঐতিহ্য ধ্বংস করতেই একাজ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে চীনের প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা হলেও তারা বিষয়টি নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চায়নি বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

চীন-কাজাখস্তান সীমান্তে প্রায় এক কোটি উইঘুর মুসলিম বসবাস করেন। দীর্ঘদিন ধরে তাদের ওপর অত্যাচারের অভিযোগ সামনে আসছে। এ নিয়ে চীনকে সতর্ক করেছে পশ্চিমা বিশ্ব। কিন্তু এখনো পর্যন্ত পরিস্থিতির বড় কোনো পরিবর্তন ঘটেনি বলে মনে করা হচ্ছে।