img

রাফা অভিযান বন্ধে আইসিজের আদেশের কয়েক মিনিট পরই হামলা ইসরাইলের

প্রকাশিত :  ১৯:৫৭, ২৪ মে ২০২৪

রাফা অভিযান বন্ধে আইসিজের আদেশের কয়েক মিনিট পরই হামলা ইসরাইলের

গাজার রাফায় ইসরায়েলকে অবিলম্বে অভিযান বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে)। আজ শুক্রবার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টায় এই নির্দেশ জারি করেন জাতিসংঘের শীর্ষ এই আদালত। কিন্তু রায় ঘোষণা কিছুক্ষণের মধ্যেই রাফা শহরের কেন্দ্রে অবস্থিত শাবউরা ক্যাম্পে হামলা চালিয়ে জবাব দিয়ে ইসরায়েলি বাহিনী। 

রাফায় কুয়েত হাসপাতালের কাছে থাকা একজন মানবাধিকারকর্মী জানান, সাবুরা ক্যাম্পে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী। কালো ধোঁয়ায় চারদিক ছেঁয়ে গেছে। হামলার ভয়াবহতা এত বেশি যে হাসপাতালে অবস্থানরত উদ্ধারকারী দলগুলোও ঘটনাস্থলে যেতে পারছে না।

এদিকে, গাজার রাফা এলাকায় হামলা বন্ধ করতে ইসরাইলকে নির্দেশ দিয়েছে জাতিসঙ্ঘের আদালত আইসিজে। আইসিজের প্রধান নওয়াফ সালাম তার রায়ে বলেন, ‘গণহত্যার অভিযোগ তদন্তে জাতিসঙ্ঘের যেকোনো তদন্ত কমিশন, তথ্যানুসন্ধান মিশন বা তদন্ত সংস্থার অবাধে গাজায় প্রবেশ নিশ্চিত করার জন্য ইসরাইলকে অবশ্যই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। আইসিজে এক মাসের মধ্যে অগ্রগতির ব্যাপারে আদালতকে অবহিত করার জন্যও ইসরাইলের প্রতি নির্দেশ জারি করে। আদালত মানবিক সহায়তার জন্য রাফা সীমান্ত ক্রসিং খুলে দিতে ইসরাইলকে নির্দেশ দেয়। আট লাখ লোক বাস্তুচ্যুত হয়েছে। তাদের নিরাপদে এবং মানবিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে বলে ইসরাইলের কথায় তিনি বিশ্বাস করেন না। তিনি বলেন, এর কোনো প্রমাণ নেই। আর এ কারণেই আদালত কঠিনভাবে নির্দেশ দিচ্ছে যে ইসরাইলকে অবিলম্বে রাফায় সামরিক আক্রমণ বন্ধ করতে হবে এবং সেখান থেকে সৈন্য প্রত্যাহার করতে হবে।

আইসিজের আদেশের পর মন্ত্রিসভার জরুরি বৈঠক ডেকেছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। সেখানে ইসরাইলি মন্ত্রীরা বলছেন, ইসরাইল এই আদেশ মানবে না। ইসরাইলের পার্লামেন্টের বিরোধী দলীয় নেতা ইয়ার লাপিদও হামলা চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন।

সূত্র : বিবিসি ও অন্যান্য


img

উইঘুর মুসলিমদের ৬৩০ গ্রামের নাম পালটে দিলো চীন

প্রকাশিত :  ১৫:২৪, ১৯ জুন ২০২৪
সর্বশেষ আপডেট: ১৮:৪৮, ১৯ জুন ২০২৪

চীনের উইঘুর মুসলিম অধ্যুষিত শিনজিয়াং প্রদেশে ধর্মীয়, ঐতিহাসিক বা সাংস্কৃতিক চিহ্ন সম্মিলিত শত শত গ্রামের নাম বদলে দিয়েছে চীনা কর্তৃপক্ষ। এসব গ্রামের নাম পরিবর্তন করে সেখানে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির আদর্শের সঙ্গে মিল রয়েছে এমন নাম রাখা হয়েছে। মূলত মুসলিম সংস্কৃতির চিহ্ন মুছে ফেলতে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে চীনা কর্তৃপক্ষ।

দীর্ঘদিন ধরে উইঘুর মুসলিমদের নিয়ে কাজ করা নরওয়ের একটি সংস্থা এবং মানবাধিকার বিষয়ক সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ একত্রে একটি প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানিয়েছে। ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে জাতীয় পরিসংখ্যান বিভাগে নথিভুক্ত ২৫ হাজার গ্রামের নাম নিয়ে গবেষণা চালিয়েছে সংস্থা দুইটি।

সেখানে তারা দেখতে পেয়েছে, তিন হাজার ৬০০ গ্রামের নাম বদলে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ মতে, এর মধ্যে প্রায় ৬৩০টি গ্রাম উইঘুর মুসলিম অধ্যুষিত। তাদের গ্রামের নামের সঙ্গে উইঘুর বা মুসলিম সংস্কৃতি সংশ্লিষ্ট শব্দ যুক্ত ছিল। সেই শব্দগুলো বাদ দিয়ে নতুন নামকরণ করা হয়েছে।

কয়েকটি উদাহরণও দেওয়া হয়েছে প্রতিবেদনে। কোনো কোনো গ্রামের নামের সঙ্গে দুতার শব্দটি যুক্ত ছিল। যা একটি উইঘুর বাদ্যযন্ত্রের নাম। আবার কোনো কোনো নামের সঙ্গে মাজার শব্দটি যুক্ত ছিল। তা বদলে ঐক্য, সম্প্রীতি, ও আনন্দের মতো শব্দ বসানো হয়েছে। এ ধরনের শব্দ চীনের শাসকগোষ্ঠী বিভিন্ন উপলক্ষে ব্যবহার করে। এই শব্দগুলোর সঙ্গে কমিউনিস্ট শাসনের যোগ আছে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন।

এখানেই শেষ নয়, সুফি শব্দ হোজা, হানিকা কিংবা বকসির মতো শব্দও বদলে দেওয়া হয়েছে। অবলুপ্ত করা হয়েছে ১৯৪৯ সালের আগের উইঘুর ইতিহাস।

শিনজিয়াং অঞ্চলে এভাবে আরো বহু গ্রামের নাম বদলে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে বেশ কিছু অন্যান্য ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী অধ্যুষিত গ্রাম আছে বলেও মনে করা হচ্ছে। মূলত ঐতিহ্য ধ্বংস করতেই একাজ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে চীনের প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা হলেও তারা বিষয়টি নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চায়নি বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

চীন-কাজাখস্তান সীমান্তে প্রায় এক কোটি উইঘুর মুসলিম বসবাস করেন। দীর্ঘদিন ধরে তাদের ওপর অত্যাচারের অভিযোগ সামনে আসছে। এ নিয়ে চীনকে সতর্ক করেছে পশ্চিমা বিশ্ব। কিন্তু এখনো পর্যন্ত পরিস্থিতির বড় কোনো পরিবর্তন ঘটেনি বলে মনে করা হচ্ছে।