img

ভানুয়াতু দ্বীপপুঞ্জে আঘাত হেনেছে শক্তিশালী ভূমিকম্প

প্রকাশিত :  ০৪:৪৩, ২৬ মে ২০২৪

ভানুয়াতু দ্বীপপুঞ্জে আঘাত হেনেছে শক্তিশালী ভূমিকম্প

দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশ ভানুয়াতুতে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৪। রোববার (২৬ মে) দেশটিতে এই ভূমিকম্প আঘাত হানে।

অবশ্য ভূমিকম্পের জেরে সুনামি সতর্কতা জারির কোনও খবর পাওয়া যায়নি। রোববার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার ভানুয়াতু দ্বীপপুঞ্জে ৬.৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে বলে ইউরোপীয় ভূমধ্যসাগরীয় সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইএমএসসি) জানিয়েছে।

সংস্থাটি জানিয়েছে, ভূমিকম্পটি ভূপৃষ্ঠের ২৫ কিলোমিটার (১৫.৫৩ মাইল) গভীরতায় আঘাত হানে।

এর আগে গত বছরের ডিসেম্বরের শুরুতে ৭ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে দেশটি। শক্তিশালী এ ভূমিকম্পের পর সেখানে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয় বলে সেসময় জানিয়েছিল মার্কিন ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস।

ভানুয়াতুতে ৭.১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, সুনামি সতর্কতা জারি

উল্লেখ্য, প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশ ভানুয়াতুতে প্রায়ই ভূমিকম্প সংঘটিত হয়ে থাকে। নিম্নাঞ্চলের এ দ্বীপ রাষ্ট্রটিতে ৩ লাখ ২০ হাজার মানুষ বসবাস করেন। বিশ্বে প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ যে কয়েকটি দেশ রয়েছে সেগুলোর মধ্যে ভানুয়াতু অন্যতম।

মূলত দেশটি প্রায়ই ভূমিকম্প, ঝড়, বন্যা ও সুনামির কবলে পড়ে থাকে।

img

উইঘুর মুসলিমদের ৬৩০ গ্রামের নাম পালটে দিলো চীন

প্রকাশিত :  ১৫:২৪, ১৯ জুন ২০২৪
সর্বশেষ আপডেট: ১৮:৪৮, ১৯ জুন ২০২৪

চীনের উইঘুর মুসলিম অধ্যুষিত শিনজিয়াং প্রদেশে ধর্মীয়, ঐতিহাসিক বা সাংস্কৃতিক চিহ্ন সম্মিলিত শত শত গ্রামের নাম বদলে দিয়েছে চীনা কর্তৃপক্ষ। এসব গ্রামের নাম পরিবর্তন করে সেখানে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির আদর্শের সঙ্গে মিল রয়েছে এমন নাম রাখা হয়েছে। মূলত মুসলিম সংস্কৃতির চিহ্ন মুছে ফেলতে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে চীনা কর্তৃপক্ষ।

দীর্ঘদিন ধরে উইঘুর মুসলিমদের নিয়ে কাজ করা নরওয়ের একটি সংস্থা এবং মানবাধিকার বিষয়ক সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ একত্রে একটি প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানিয়েছে। ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে জাতীয় পরিসংখ্যান বিভাগে নথিভুক্ত ২৫ হাজার গ্রামের নাম নিয়ে গবেষণা চালিয়েছে সংস্থা দুইটি।

সেখানে তারা দেখতে পেয়েছে, তিন হাজার ৬০০ গ্রামের নাম বদলে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ মতে, এর মধ্যে প্রায় ৬৩০টি গ্রাম উইঘুর মুসলিম অধ্যুষিত। তাদের গ্রামের নামের সঙ্গে উইঘুর বা মুসলিম সংস্কৃতি সংশ্লিষ্ট শব্দ যুক্ত ছিল। সেই শব্দগুলো বাদ দিয়ে নতুন নামকরণ করা হয়েছে।

কয়েকটি উদাহরণও দেওয়া হয়েছে প্রতিবেদনে। কোনো কোনো গ্রামের নামের সঙ্গে দুতার শব্দটি যুক্ত ছিল। যা একটি উইঘুর বাদ্যযন্ত্রের নাম। আবার কোনো কোনো নামের সঙ্গে মাজার শব্দটি যুক্ত ছিল। তা বদলে ঐক্য, সম্প্রীতি, ও আনন্দের মতো শব্দ বসানো হয়েছে। এ ধরনের শব্দ চীনের শাসকগোষ্ঠী বিভিন্ন উপলক্ষে ব্যবহার করে। এই শব্দগুলোর সঙ্গে কমিউনিস্ট শাসনের যোগ আছে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন।

এখানেই শেষ নয়, সুফি শব্দ হোজা, হানিকা কিংবা বকসির মতো শব্দও বদলে দেওয়া হয়েছে। অবলুপ্ত করা হয়েছে ১৯৪৯ সালের আগের উইঘুর ইতিহাস।

শিনজিয়াং অঞ্চলে এভাবে আরো বহু গ্রামের নাম বদলে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে বেশ কিছু অন্যান্য ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী অধ্যুষিত গ্রাম আছে বলেও মনে করা হচ্ছে। মূলত ঐতিহ্য ধ্বংস করতেই একাজ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে চীনের প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা হলেও তারা বিষয়টি নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চায়নি বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

চীন-কাজাখস্তান সীমান্তে প্রায় এক কোটি উইঘুর মুসলিম বসবাস করেন। দীর্ঘদিন ধরে তাদের ওপর অত্যাচারের অভিযোগ সামনে আসছে। এ নিয়ে চীনকে সতর্ক করেছে পশ্চিমা বিশ্ব। কিন্তু এখনো পর্যন্ত পরিস্থিতির বড় কোনো পরিবর্তন ঘটেনি বলে মনে করা হচ্ছে।