img

গুজরাটে ‌‘গেমিং জোনে’ ভয়াবহ আগুন, শিশুসহ নিহত ২৭

প্রকাশিত :  ০৪:৫৬, ২৬ মে ২০২৪

গুজরাটে ‌‘গেমিং জোনে’ ভয়াবহ আগুন, শিশুসহ নিহত ২৭

ভারতের গুজরাট রাজ্যের রাজকোটে একটি গেমিং জোনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কমপক্ষে ২৭ জন নিহত হয়েছে। এছাড়া আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ৯ জনই শিশু।  এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। 

স্থানীয় সময় শনিবার সন্ধ্যায় রাজকোটের টিআরপি গেম জোনে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। খবর এনডিটিভি, হিন্দুস্তান টাইস।

সেখানে এখনো কাজ করছেন দমকলের কর্মীরা। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। রাজকোটের পুলিশ কমিশনার রাজু ভার্গভ জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় সন্ধ্যার দিকে টিআরপি গেমিং জোনে আগুন লাগে।

তিনি বলেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। তবে উদ্ধার অভিযান এখনো চলছে। ইতোমধ্যেই বেশ কয়েকজনের মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এগুলো ময়না তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

যুবরাজ সিং সোলাঙ্কি নামের এক ব্যক্তি ওই গেমিং জোনটি চালাতেন। পুলিশ কমিশনার জানিয়েছেন, এই ঘটনায় গাফিলতির কারণে একটি মামলা দায়ের করা হচ্ছে। উদ্ধারকাজ শেষ হওয়ার পরেই আরও তদন্ত করা হবে।

তবে আগুন লাগার কারণ এখনো জানা যায়নি। এদিকে দমকল বাহিনী জানিয়েছে, অস্থায়ী কাঠামোগুলো ভেঙে পড়ছে। এর ফলে আগুন নেভানোর ক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছিল। বেশ কিছু সূত্র জানিয়েছে, ঘটনার সময় ওই এলাকায় অনেক শিশু ছিল। তাদের মধ্যে অন্তত ১৫ থেকে ২০ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র পটেল জানিয়েছেন, অবিলম্বে উদ্ধারকাজের জন্য পৌরসভা কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যারা আহত হয়েছেন তাদের উদ্ধারে যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

img

উইঘুর মুসলিমদের ৬৩০ গ্রামের নাম পালটে দিলো চীন

প্রকাশিত :  ১৫:২৪, ১৯ জুন ২০২৪
সর্বশেষ আপডেট: ১৮:৪৮, ১৯ জুন ২০২৪

চীনের উইঘুর মুসলিম অধ্যুষিত শিনজিয়াং প্রদেশে ধর্মীয়, ঐতিহাসিক বা সাংস্কৃতিক চিহ্ন সম্মিলিত শত শত গ্রামের নাম বদলে দিয়েছে চীনা কর্তৃপক্ষ। এসব গ্রামের নাম পরিবর্তন করে সেখানে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির আদর্শের সঙ্গে মিল রয়েছে এমন নাম রাখা হয়েছে। মূলত মুসলিম সংস্কৃতির চিহ্ন মুছে ফেলতে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে চীনা কর্তৃপক্ষ।

দীর্ঘদিন ধরে উইঘুর মুসলিমদের নিয়ে কাজ করা নরওয়ের একটি সংস্থা এবং মানবাধিকার বিষয়ক সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ একত্রে একটি প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানিয়েছে। ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে জাতীয় পরিসংখ্যান বিভাগে নথিভুক্ত ২৫ হাজার গ্রামের নাম নিয়ে গবেষণা চালিয়েছে সংস্থা দুইটি।

সেখানে তারা দেখতে পেয়েছে, তিন হাজার ৬০০ গ্রামের নাম বদলে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ মতে, এর মধ্যে প্রায় ৬৩০টি গ্রাম উইঘুর মুসলিম অধ্যুষিত। তাদের গ্রামের নামের সঙ্গে উইঘুর বা মুসলিম সংস্কৃতি সংশ্লিষ্ট শব্দ যুক্ত ছিল। সেই শব্দগুলো বাদ দিয়ে নতুন নামকরণ করা হয়েছে।

কয়েকটি উদাহরণও দেওয়া হয়েছে প্রতিবেদনে। কোনো কোনো গ্রামের নামের সঙ্গে দুতার শব্দটি যুক্ত ছিল। যা একটি উইঘুর বাদ্যযন্ত্রের নাম। আবার কোনো কোনো নামের সঙ্গে মাজার শব্দটি যুক্ত ছিল। তা বদলে ঐক্য, সম্প্রীতি, ও আনন্দের মতো শব্দ বসানো হয়েছে। এ ধরনের শব্দ চীনের শাসকগোষ্ঠী বিভিন্ন উপলক্ষে ব্যবহার করে। এই শব্দগুলোর সঙ্গে কমিউনিস্ট শাসনের যোগ আছে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন।

এখানেই শেষ নয়, সুফি শব্দ হোজা, হানিকা কিংবা বকসির মতো শব্দও বদলে দেওয়া হয়েছে। অবলুপ্ত করা হয়েছে ১৯৪৯ সালের আগের উইঘুর ইতিহাস।

শিনজিয়াং অঞ্চলে এভাবে আরো বহু গ্রামের নাম বদলে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে বেশ কিছু অন্যান্য ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী অধ্যুষিত গ্রাম আছে বলেও মনে করা হচ্ছে। মূলত ঐতিহ্য ধ্বংস করতেই একাজ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে চীনের প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা হলেও তারা বিষয়টি নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চায়নি বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

চীন-কাজাখস্তান সীমান্তে প্রায় এক কোটি উইঘুর মুসলিম বসবাস করেন। দীর্ঘদিন ধরে তাদের ওপর অত্যাচারের অভিযোগ সামনে আসছে। এ নিয়ে চীনকে সতর্ক করেছে পশ্চিমা বিশ্ব। কিন্তু এখনো পর্যন্ত পরিস্থিতির বড় কোনো পরিবর্তন ঘটেনি বলে মনে করা হচ্ছে।