img

ডায়াবেটিসে আক্রান্ত কিনা বুঝবেন যেসব লক্ষণে

প্রকাশিত :  ০৬:২১, ২৬ মে ২০২৪

ডায়াবেটিসে আক্রান্ত কিনা বুঝবেন যেসব লক্ষণে

‘ডায়াবেটিস’ শব্দটির সঙ্গে আমরা কমবেশি সবাই পরিচিত। দিন দিন বিশ্বজুড়ে বেড়েই চলছে এতে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাস, স্ট্রেস, উদ্বেগ, মানসিক চাপের কারণে এখন অল্প বয়সেই অনেকেই এই রোগটিতে আক্রান্ত হচ্ছেন। কীভাবে ডায়াবেটিস থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যায় তা নিয়ে বিভিন্ন পরামর্শ দিয়েছেন ধানমন্ডি মেডিনোভা মেডিক্যাল সার্ভিসেস লিমিটেড -এর ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ এবং হেড অব ডায়াবেটিস ডা. মো. এজাজ বারী চৌধুরী। 

ডায়াবেটিস কী?

ডায়াবেটিস মানে রক্তে সুগার বেশি থাকা। ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা না খেয়ে থাকার পর খালি পেটে সুগার ৭ এর বেশি অথবা খাওয়ার ২ ঘণ্টা পরে সুগার ১১ -এর বেশি থাকলে বুঝবেন আপনার ডায়াবেটিস হয়েছে। 

ডায়াবেটিসের লক্ষণ কী কী? 

১) দুর্বল লাগা। 

২) ওজন কমতে থাকা। 

৩) ঘন ঘন পিপাসা পাওয়া/ গলা শুকিয়ে যাওয়া।   

৪) ঘন ঘন ক্ষুধা লাগা/ বেশি বেশি খাওয়া। 

৫) ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া। 

৬) শরীরের যেকোনো ক্ষত শুকাতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সময় লাগা। 

৭) ঘন ঘন ইনফেকশনে ভোগা (বুকের ইনফেকশন, পেটের ইনফেকশন, প্রস্রাবের ইনফেকশন ইত্যাদি)। 

৮) হাত-পা জ্বালাপোড়া করা অথবা অবশ অবশ লাগা। 

৯) চোখে ঝাপসা দেখা। 

উপরের লক্ষণগুলোর এক বা একাধিক আপনি অনুভব করলে অবশ্যই টেস্ট করে নিশ্চিত হয়ে নেবেন আপনার ডায়াবেটিস আছে কিনা। 

তবে ভয়ের বিষয় হচ্ছে, কোনো লক্ষণ প্রকাশ ছাড়াও ডায়াবেটিস শরীরে বাসা বেঁধে ফেলতে পারে। এ জন্য যারা ডায়াবেটিসের ঝুঁকিতে আছেন যেমন- অলস জীবনযাপন, হঠাৎ মুটিয়ে যাওয়া বা ভুঁড়ি বেড়ে যাওয়া, ফাস্টফুড এবং রিচ ফুড আসক্তি, পরিবারে ডায়াবেটিসের ইতিহাস, প্রি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত, ওষুধ খেয়ে প্রেশার নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয় এবং যাদের রক্তে কোলেস্টেরল বেশি এমন ব্যক্তিদের বছরে অন্তত একবার ডায়াবেটিস পরীক্ষা করতে হবে। 

কোন বয়সী মানুষের ডায়াবেটিস হয়? 

ডায়াবেটিসের অনেক প্রকারভেদ বা বৈচিত্র্য আছে। এজন্য যেকোনো বয়সের মানুষই ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হতে পারেন। শিশু থেকে বৃদ্ধ বয়সের যেকোনো কারোরই ডায়াবেটিস হতে পারে। এজন্য ডায়াবেটিস ধরা পড়লে অবশ্যই বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা শুরু করবেন। ওষুধের দোকানদারের দেয়া ওষুধ, অনলাইনে বিক্রি হওয়া ডায়াবেটিস মুক্তির অলৌকিক ওষুধ বা অন্য রোগীর অনুকরণে একই ওষুধ খাবেন না। ডায়াবেটিসের ভুল চিকিৎসা আপনার অসুস্থতাকে বাড়িয়ে দেবে বহুগুণ এবং ডায়াবেটিসের পাশাপাশি লিভার, কিডনি এবং হার্টের রোগীও বানিয়ে দিতে পারে। 

ডায়াবেটিস হলে করণীয় কী?

১) স্বাস্থ্যকর খাবার একটু রুটিন মাফিক খাওয়া। অল্প কিছু খাবারে নিষেধ থাকলেও অন্য সব স্বাভাবিক খাবারই ডায়াবেটিস রোগী খেতে পারবেন। বয়স, ওজন, উচ্চতা, পেশা, অন্য রোগের উপস্থিতি বিভিন্ন বিষয় বিশ্লেষণ করে প্রত্যেককে খাবার পরিমাপ করে দেয়া হয়।

২) ব্যায়ামকে জীবনের পরম আপন বন্ধু বানিয়ে ফেলা। সপ্তাহে ৫ দিন, অন্তত ৩০ মিনিট করে ঘরে বা বাইরে যেকোনো ধরণের ব্যায়াম করতে হবে।

 ৩) একজন ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা-গ্রহণ করা এবং নিয়মিত তার ফলোআপে থাকা। অনেকেই একবার ডাক্তার দেখিয়ে আবার অসুস্থ হবার আগ পর্যন্ত আর ডাক্তার দেখান না। এতে সুচিকিৎসা এবং সুস্থতা নিশ্চিত করা আপনার ডাক্তারের পক্ষে জটিল হয়ে পড়ে। 

৪) সপ্তাহে অন্তত একদিন সুগার মেপে সেটা লিখে রাখা। মাপতে হবে: নাস্তার আগে, নাস্তার ২ ঘণ্টা পর, দুপুরে খাবার ২ ঘণ্টা পর এবং রাতে খাবার ২ ঘণ্টা পর। 

৫) প্রতি ৩ মাস থেকে ৬ মাস পরপর ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী শরীরের চেকআপ করানো। এর ফলে ডায়াবেটিসের পাশাপাশি শরীরে অন্য কোনো রোগ বাসা বাঁধলেও সেটা ধরা পড়বে এবং তাৎক্ষণিক চিকিৎসা শুরু হওয়ার কারণে আপনি সুস্থ থাকবেন।

৬) হতাশা এবং বিষণ্নতাকে জয় করতে হবে। ডায়াবেটিসের কারণে আপনার জীবনে যেটুকু পরিবর্তন করতে হচ্ছে, তার সবগুলোই আপনার সুস্থতাকে বাড়িয়ে দেবে বহুগুণ।

৭) পরিবারের অন্য সদস্যদেরকে ডায়াবেটিস আক্রান্ত ব্যক্তির পাশে গভীর ভালোবাসা, সহানুভূতি এবং সহমর্মিতা নিয়ে দাঁড়াতে হবে। বয়স্ক মানুষদের স্মৃতিশক্তি কমে যায়, ফলে ওষুধ খাওয়ার ক্ষেত্রে ভুল হয়ে যাওয়া স্বাভাবিক। তাই তার ওষুধ খাওয়ানোর দায়িত্ব বা তদারকির দায়িত্ব অবশ্যই পরিবারের অন্য কাউকে নিতে হবে। 

৮) মোটা হয়ে যাওয়া ডায়াবেটিস রোগীরা যদি তাদের ওজন কমাতে পারেন, তাহলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই সহজ হয়ে যায়। এজন্য খাবারের নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যায়াম অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ তাদের জন্য। 

৯) লাইফস্টাইলের ত্রুটিগুলো সংশোধন করতে হবে। পর্যাপ্ত এবং সঠিক রুটিনে ঘুম খুবই গুরুত্বপূর্ণ।  এছাড়া মানসিক অবসাদ ও দুশ্চিন্তাকে জয় করার চেষ্টা করতে হবে। 

১০) মনে রাখবেন, ডায়াবেটিসের চিকিৎসা শুধু প্রেসক্রিপশনে সীমাবদ্ধ নয়  রোগীর আন্তরিকতাই চিকিৎসাকে সফল করতে পারে। যার ডায়াবেটিস নেই, তার যেমন রক্তের সুগার থাকে, চিকিৎসার মাধ্যমে একজন ডায়াবেটিস রোগীর সুগার লেভেলকেও সেরকম রাখতে হয়। এজন্য নরমাল সুগার পেলেই চিকিৎসা বন্ধ করে দেয়া যাবে না। নিয়মিত ডাক্তার দেখাতে হবে, তিনিই সময় এবং প্রয়োজন বুঝে আপনার চিকিৎসা পরিবর্তন করে দেবেন।


img

কিভাবে খুব দ্রুত রোদে পোড়া ত্বক উজ্জ্বল করে তুলতে পারবেন?

প্রকাশিত :  ১১:০৩, ১১ জুলাই ২০২৪

তীব্র তাপদাহে কাজের জন্য বাসা থেকে বের হতেই হয়। অনেকে রোদে বের হওয়ার আগে জেল, ক্রিম, পাউডার, সানস্ক্রিনসহ বিভিন্ন প্রসাধনী ব্যবহার করে থাকে। তবুও অনেকের রোদে পোড়া দাগ দেখা যায়।

রোদে ত্বক পুড়ে গেলে ত্বকের লাবণ্য কমে যায়। এর প্রধান কারণ হলো সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি। এদিকে রোদে পোড়া দাগ নিয়ে অনেকের চিন্তার শেষ নেই। নিয়মিত সানস্ক্রিন লাগানো সত্ত্বেও যাদের ত্বক রোদে পুড়ে গেছে বা ট্যানড হয়ে গেছে, তারা এবার ঘরোয়া উপায়েই ফিরে পেতে পারেন ত্বকের স্বাভাবিক রং। চলুন সে সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিই-

অ্যালোভেরা

আপনার ত্বক রোদে পুড়ে গেলে আপনি অ্যালোভেরা ব্যবহার করতে পারেন। আপনি অ্যালোভেরা দিয়ে আইসকিউব তৈরি করে সেটি নিয়মিত ত্বকে ব্যবহার করতে পারেন। এটি আপানার ত্বকের জ্বালা বন্ধে বেশ কার্যকরী।

অ্যাপল সিডার ভিনেগার

ত্বক রোদে পুড়ে গেলে বা জ্বালা করলে ভরসা রাখুন অ্যাপল সিডার ভিনেগারের উপর। এর জন্য পরিমাণমতো অ্যাপল সিডার ভিনেগারের সাথে পানি মিশিয়ে নিন। মিশ্রণটি এক টুকরা পরিষ্কার কাপড় ভিজিয়ে রোদে পোড়া ত্বক মুছে নিন। অথবা স্প্রে বোতলে নিয়ে প্রয়োজনমতো স্প্রে করতে পারেন।

মধু

মধুর অ্যান্টিসেপটিক গুণ রোদে পোড়া ক্ষতিগ্রস্ত ত্বকের খুবই উপযোগী। রোদে পোড়া ত্বকে মধু লাগিয়ে আলতো করে গজ ব্যান্ডেজ দিয়ে ঢেকে দিন, নিমেষে আরাম পাবেন।

কালো চা

চায়ের ট্যানিক অ্যাসিড ত্বকের পিএইচ ব্যালান্স বজায় রাখে, জ্বালাভাব কমিয়ে ত্বক শীতল করে। টি ব্যাগ দিয়ে চা তৈরি করে নেয়ার পর ব্যাগগুলো ফ্রিজে রেখে ঠান্ডা করুন। তারপর রোদে পোড়া ত্বকে চেপে চেপে লাগিয়ে নিন ঠান্ডা চা। জ্বালাভাব আর ত্বকের ট্যান দুটোই কমবে।

আলুর রস

ত্বকের যেকোনো কালো দাগ দূর করে, চোখের চারপাশের কালচেভাব কমাতে সাহায্য করে আলুর রস। আলু ত্বকে আরাম দেয়ার পাশাপাশি এতে থাকা ব্লিচিং উপাদান ত্বককে উজ্জ্বল করতেও সাহায্য করে। রোদে পোড়া দাগ দূর করতে আলুর রস সরাসরি ত্বকে ব্যবহার করা যায়। অথবা আলু পাতলা করে কেটে তা চোখের ওপরের অংশ ও দাগের ওপর ব্যবহার করা যেতে পারে।

 চালের আটা, টমেটো ও চিনি

টমেটোতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে। টমেটোর সাথে চালের আটা ও চিনি মিশিয়ে আপনি স্ক্রাব করতে পারেন। এতে মুহূর্তেই আপনার ত্বক উজ্জল দেখাবে। এর পাশাপাশি আপনার ত্বকের মরা কোষগুলোও রিমুভ হবে।

চিনি, গ্লিসারিন ও লেবু

রোদে পোড়া ত্বকের জন্য চিনি, গ্লিসারিন ও লেবুর মিশ্রণ বেশ ভালো কাজ করে। এক টেবিল চামচ চিনির সঙ্গে আধা চা চামচ গ্লিসারিন ও এক টেবিল চামচ লেবুর রস মেশান। এটি ঘষে ঘষে লাগান স্ক্রাবের মতো। এই মিশ্রণটি ত্বকে কিছুক্ষণ রেখে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার ব্যবহার করুন।

লেবুর খোসা ও দুধ

লেবু অথবা কমলার খোসা ত্বক ফরসা করতে সাহায্য করে। এগুলোর খোসা শুকিয়ে গুঁড়া করে রাখতে পারেন। এক টেবিল চামচ লেবু কিংবা কমলার খোসা গুঁড়ার সঙ্গে এক টেবিল চামচ কাঁচা দুধ মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। রোদে পোড়া ত্বকে লাগান মিশ্রণটি। শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার ব্যবহার করতে পারেন এই ফেসপ্যাক।

কলা, লেবু ও দুধ

অর্ধেক কলা চটকে এক চা চামচ লেবুর রস ও এক চা চামচ দুধ মেশান। রোদে পোড়া ত্বকে ১৫ মিনিট লাগিয়ে রাখুন মিশ্রণটি। কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

দই ও মধু

দুই টেবিল চামচ টক দইয়ের সঙ্গে এক চা চামচ মধু মিশিয়ে নিন। মিশ্রণটি পুরু করে লাগান রোদে কালচে হয়ে যাওয়া ত্বকে। শুকিয়ে গেলে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এক দিন পর পরই ব্যবহার করতে পারেন এই ফেসপ্যাক।

শসা ও লেবু

অর্ধেক শসা কুচি করে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মেশান। চাইলে ব্লেন্ড করে নিতে পারেন মিশ্রণটি। এটি নিয়মিত ব্যবহারে দূর হবে ত্বকের রোদে পোড়া দাগ।

সূত্র: ফেমিনা