img

ইসরায়েলের সঙ্গে নতুন আলোচনা প্রত্যাখ্যান হামাসের

প্রকাশিত :  ০৭:১৪, ২৬ মে ২০২৪

ইসরায়েলের সঙ্গে নতুন আলোচনা প্রত্যাখ্যান হামাসের

গাজা অঞ্চলে যুদ্ধবিরতি নিয়ে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের সঙ্গে নতুন করে আলোচনায় বসতে চেয়েছে ইসরায়েল। তবে হামাস বর্বরদের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখান করেছে বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির জ্যেষ্ঠ নেতা ওসামা হামদান।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী মঙ্গলবার (২৮ মে) গাজায় যুদ্ধবিরতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরুর খরব ইসরায়েলি মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়। এ সময় ইসরায়েলের সঙ্গে এমন যুদ্ধবিরতির আলোচনার দরকার নেই বলে মন্তব্য করেন ওসামা হামদান।

শনিবার (২৫ মে) আল-জাজিরা আরবিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হামদান বলেন, গাজা থেকে যত দ্রুত সম্ভব ইসরায়েলের সেনাদের প্রত্যাহার এবং সকল ধরনের আগ্রাসন বন্ধ করতে হবে।

 তিনি জানান, চলতি মাসের প্রথম দিকে হামাস যুদ্ধবিরতির জন্য কাতার ও মিশরের মধ্যস্থতাকারীদের দেওয়া একটি প্রস্তাবে রাজি হয়। কিন্তু ইসরায়েল এই প্রস্তাবে দ্বিমত পোষণ করে।

 তিনি বলেন, ’ইসরায়েলের সঙ্গে আমাদের নতুন করে আলোচনার দরকার নেই। কারণ হামাস আগেই যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে রাজি হয়েছিল; যা ইসরায়েল প্রত্যাখ্যান করেছে। তাই এই আলোচনার অর্থ হলো গাজায় আগ্রাসন চালিয়ে রাখার জন্য ইসরায়েলকে আরও সময় দেওয়া।’

 উল্লেখ্য, ইসরায়েল হামাসকে যে নতুন প্রস্তাব দিয়েছে, তাতে গাজায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতির কথা উল্লেখ নেই। বরং বলা হয়েছে, গাজায় কয়েক মাসের যুদ্ধবিরতির পর ইসরায়েল আবার যুদ্ধ শুরু করতে পারবে। ইসরায়েল হামাসকে ধ্বংস করার আগ পর্যন্ত যুদ্ধ বন্ধ করবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছে। সূত্র: আল-জাজিরা

img

উইঘুর মুসলিমদের ৬৩০ গ্রামের নাম পালটে দিলো চীন

প্রকাশিত :  ১৫:২৪, ১৯ জুন ২০২৪
সর্বশেষ আপডেট: ১৮:৪৮, ১৯ জুন ২০২৪

চীনের উইঘুর মুসলিম অধ্যুষিত শিনজিয়াং প্রদেশে ধর্মীয়, ঐতিহাসিক বা সাংস্কৃতিক চিহ্ন সম্মিলিত শত শত গ্রামের নাম বদলে দিয়েছে চীনা কর্তৃপক্ষ। এসব গ্রামের নাম পরিবর্তন করে সেখানে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির আদর্শের সঙ্গে মিল রয়েছে এমন নাম রাখা হয়েছে। মূলত মুসলিম সংস্কৃতির চিহ্ন মুছে ফেলতে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে চীনা কর্তৃপক্ষ।

দীর্ঘদিন ধরে উইঘুর মুসলিমদের নিয়ে কাজ করা নরওয়ের একটি সংস্থা এবং মানবাধিকার বিষয়ক সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ একত্রে একটি প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানিয়েছে। ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে জাতীয় পরিসংখ্যান বিভাগে নথিভুক্ত ২৫ হাজার গ্রামের নাম নিয়ে গবেষণা চালিয়েছে সংস্থা দুইটি।

সেখানে তারা দেখতে পেয়েছে, তিন হাজার ৬০০ গ্রামের নাম বদলে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ মতে, এর মধ্যে প্রায় ৬৩০টি গ্রাম উইঘুর মুসলিম অধ্যুষিত। তাদের গ্রামের নামের সঙ্গে উইঘুর বা মুসলিম সংস্কৃতি সংশ্লিষ্ট শব্দ যুক্ত ছিল। সেই শব্দগুলো বাদ দিয়ে নতুন নামকরণ করা হয়েছে।

কয়েকটি উদাহরণও দেওয়া হয়েছে প্রতিবেদনে। কোনো কোনো গ্রামের নামের সঙ্গে দুতার শব্দটি যুক্ত ছিল। যা একটি উইঘুর বাদ্যযন্ত্রের নাম। আবার কোনো কোনো নামের সঙ্গে মাজার শব্দটি যুক্ত ছিল। তা বদলে ঐক্য, সম্প্রীতি, ও আনন্দের মতো শব্দ বসানো হয়েছে। এ ধরনের শব্দ চীনের শাসকগোষ্ঠী বিভিন্ন উপলক্ষে ব্যবহার করে। এই শব্দগুলোর সঙ্গে কমিউনিস্ট শাসনের যোগ আছে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন।

এখানেই শেষ নয়, সুফি শব্দ হোজা, হানিকা কিংবা বকসির মতো শব্দও বদলে দেওয়া হয়েছে। অবলুপ্ত করা হয়েছে ১৯৪৯ সালের আগের উইঘুর ইতিহাস।

শিনজিয়াং অঞ্চলে এভাবে আরো বহু গ্রামের নাম বদলে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে বেশ কিছু অন্যান্য ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী অধ্যুষিত গ্রাম আছে বলেও মনে করা হচ্ছে। মূলত ঐতিহ্য ধ্বংস করতেই একাজ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে চীনের প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা হলেও তারা বিষয়টি নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চায়নি বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

চীন-কাজাখস্তান সীমান্তে প্রায় এক কোটি উইঘুর মুসলিম বসবাস করেন। দীর্ঘদিন ধরে তাদের ওপর অত্যাচারের অভিযোগ সামনে আসছে। এ নিয়ে চীনকে সতর্ক করেছে পশ্চিমা বিশ্ব। কিন্তু এখনো পর্যন্ত পরিস্থিতির বড় কোনো পরিবর্তন ঘটেনি বলে মনে করা হচ্ছে।