img

ইসরাইলে হামাসের মুহুর্মুহু রকেট হামলা

প্রকাশিত :  ১৪:৩২, ২৬ মে ২০২৪
সর্বশেষ আপডেট: ১৪:৩৯, ২৬ মে ২০২৪

ইসরাইলে হামাসের মুহুর্মুহু রকেট হামলা

দখলদার ইসরাইলের বাণিজ্যিক নগরী তেল আবিবসহ মধ্যাঞ্চলের বেশ কয়েকটি অঞ্চল লক্ষ করে রকেট হামলা চালিয়েছে ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাস। রোববার হামাসের ছোড়া রকেটের শব্দে কেঁপে ওঠে তেল আবিবসহ আশপাশের অঞ্চল। খবর আল-জাজিরার

টাইমস অব ইসরাইল জানিয়েছে, গত ছয় মাসের মধ্যে আজই প্রথমবারের মতো মধ্যাঞ্চলে রকেট ছুড়েছে হামাস। অপর সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্ট জানিয়েছে, এসব রকেট ছোড়া হয়েছে গাজার দক্ষিণের অঞ্চল রাফাহ থেকে।

হামাস রকেট ছোড়ার পর তেল আবিব, পেটাহ তিকবা, হার্জলিয়া এবং রামাত হাসারোনে বিকট শব্দ শোনা গেছে বলেও জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।

তেলআবিবসহ অন্যান্য জায়গায় রকেট ছোড়ার তথ্য নিশ্চিত করেছে হামাস। ম্যাসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে হামাসের সামরিক শাখা আল-কাসেম ব্রিগেডস বলেছে, আমাদের জনগণের ওপর ইহুদিবাদীদের গণহত্যার প্রতিবাদে বড় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে।

ইসরাইলের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, তেল আবিবে অন্তত ১৫টি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

ইসরাইলি আর্মি রেডিও জানিয়েছে, রাফার যে স্থান থেকে রকেটগুলো ছোড়া হয়েছে সেখান থেকে মাত্র কয়েকশ মিটার দূরে অবস্থান করছে ইসরাইলি সেনারা। আর তাদের ফাঁকি দিয়েই সেখান থেকে হামলা চালাতে সমর্থ হয়েছে হামাসের যোদ্ধারা।

এ ঘটনায় ইসরাইলের পক্ষ থেকে কোনো পাল্টা হামলার খবর এখনো পাওয়া যায়নি। 

প্রসঙ্গত, হামাস ইসরাইলের সংঘাত নিয়ে শনিবার যুদ্ধবিরতি আলোচনার সম্ভাবনা বেড়েছে। এ অবস্থার মধ্যেই আজ ইসরাইলে ফের হামলা চালাল হামাস। 

img

উইঘুর মুসলিমদের ৬৩০ গ্রামের নাম পালটে দিলো চীন

প্রকাশিত :  ১৫:২৪, ১৯ জুন ২০২৪
সর্বশেষ আপডেট: ১৮:৪৮, ১৯ জুন ২০২৪

চীনের উইঘুর মুসলিম অধ্যুষিত শিনজিয়াং প্রদেশে ধর্মীয়, ঐতিহাসিক বা সাংস্কৃতিক চিহ্ন সম্মিলিত শত শত গ্রামের নাম বদলে দিয়েছে চীনা কর্তৃপক্ষ। এসব গ্রামের নাম পরিবর্তন করে সেখানে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির আদর্শের সঙ্গে মিল রয়েছে এমন নাম রাখা হয়েছে। মূলত মুসলিম সংস্কৃতির চিহ্ন মুছে ফেলতে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে চীনা কর্তৃপক্ষ।

দীর্ঘদিন ধরে উইঘুর মুসলিমদের নিয়ে কাজ করা নরওয়ের একটি সংস্থা এবং মানবাধিকার বিষয়ক সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ একত্রে একটি প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানিয়েছে। ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে জাতীয় পরিসংখ্যান বিভাগে নথিভুক্ত ২৫ হাজার গ্রামের নাম নিয়ে গবেষণা চালিয়েছে সংস্থা দুইটি।

সেখানে তারা দেখতে পেয়েছে, তিন হাজার ৬০০ গ্রামের নাম বদলে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ মতে, এর মধ্যে প্রায় ৬৩০টি গ্রাম উইঘুর মুসলিম অধ্যুষিত। তাদের গ্রামের নামের সঙ্গে উইঘুর বা মুসলিম সংস্কৃতি সংশ্লিষ্ট শব্দ যুক্ত ছিল। সেই শব্দগুলো বাদ দিয়ে নতুন নামকরণ করা হয়েছে।

কয়েকটি উদাহরণও দেওয়া হয়েছে প্রতিবেদনে। কোনো কোনো গ্রামের নামের সঙ্গে দুতার শব্দটি যুক্ত ছিল। যা একটি উইঘুর বাদ্যযন্ত্রের নাম। আবার কোনো কোনো নামের সঙ্গে মাজার শব্দটি যুক্ত ছিল। তা বদলে ঐক্য, সম্প্রীতি, ও আনন্দের মতো শব্দ বসানো হয়েছে। এ ধরনের শব্দ চীনের শাসকগোষ্ঠী বিভিন্ন উপলক্ষে ব্যবহার করে। এই শব্দগুলোর সঙ্গে কমিউনিস্ট শাসনের যোগ আছে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন।

এখানেই শেষ নয়, সুফি শব্দ হোজা, হানিকা কিংবা বকসির মতো শব্দও বদলে দেওয়া হয়েছে। অবলুপ্ত করা হয়েছে ১৯৪৯ সালের আগের উইঘুর ইতিহাস।

শিনজিয়াং অঞ্চলে এভাবে আরো বহু গ্রামের নাম বদলে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে বেশ কিছু অন্যান্য ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী অধ্যুষিত গ্রাম আছে বলেও মনে করা হচ্ছে। মূলত ঐতিহ্য ধ্বংস করতেই একাজ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে চীনের প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা হলেও তারা বিষয়টি নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চায়নি বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

চীন-কাজাখস্তান সীমান্তে প্রায় এক কোটি উইঘুর মুসলিম বসবাস করেন। দীর্ঘদিন ধরে তাদের ওপর অত্যাচারের অভিযোগ সামনে আসছে। এ নিয়ে চীনকে সতর্ক করেছে পশ্চিমা বিশ্ব। কিন্তু এখনো পর্যন্ত পরিস্থিতির বড় কোনো পরিবর্তন ঘটেনি বলে মনে করা হচ্ছে।