img

অফিসে বসেই ওজন কমাবেন যেভাবে

প্রকাশিত :  ১২:০১, ০১ জুন ২০২৪

অফিসে বসেই ওজন কমাবেন যেভাবে

অফিসে বসে বসে কাজ সারাদিন ৷ খাওয়া দাওয়া কখনও সময় মতো হয় ৷ আবার কখনও পড়ে যায় লম্বা গ্যাপ ৷ তারপর জাঙ্ক ফুড খাওয়া তো আছেই ৷ কম্পিউটারের পাশে বিভিন্ন ধরণের খাবারের জিনিস সাজিয়ে বসারও অনেকের অভ্যাস রয়েছে ৷ কিন্তু টানা ডেস্ক-এ বসে কাজ করতে করতে দেখবেন, আপনার ভুঁড়ি খুব সহজেই প্রকট হচ্ছে ৷

একটানা কাজ করলে শরীরের ওজন বেড়ে যায়। প্রতিদিন আট-নয় ঘণ্টা এক জায়গায় বসে থাকলে শরীর প্রয়োজনীয় ক্যালরি বার্ন করতে পারে না। ওজন কমাতে অনেকে আবার জিমে যাওয়ার, ডায়েট করার পরিকল্পনা করেন। কিন্তু ঘুরেফিরে সেই ব্যস্ততা আর কাজের জন্য পরিকল্পনা অনুযায়ী কিছুই হয় না।  

অফিসে থেকেও শরীরের অতিরিক্ত চর্বি ঝরিয়ে ফেলা যায়। এজন্য আপনাকে আলাদা করে সময় বের করতে হবে না। কাজ করতে করতেই সহজে কয়েকটি উপায়ে আপনি ওজন কমাতে পারবেন। চলুন জেনে নেই অফিসে বসেই ওজন কমানোর উপায়: 

কাজের মধ্যে বিরতি নিন। এক জায়গায় বসে একটানা কাজ করে যাওয়ার অভ্যাস একেবারেই ভালো নয়। মাঝে মাঝে এক দু’বার নিজের চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ান। স্ট্রেচিং করতে পারেন। দু’-এক পা হেঁটে আসতে পারেন। এতে শরীরের রক্ত চলাচলও ভাল হবে। এতে কাজেও একাগ্রতা বাড়বে। 

কাজ করতে করতে অনেকেই পানি খেতে ভুলে যান। পানির পরিমাণ কমে গেলে ওজন বাড়তে থাকে।  বেশি করে পানি পান করুন। দীর্ঘ সময় এক জায়গায় বসে থাকলে শুধু চর্বি বাড়ে তা নয় হজমেরও সমস্যা হয়। এতে করে আপনার হজমের সমস্যাও যেমন দূর হবে তেমনি ক্যালোরি বার্ন সাহায্য করবে। পটাসিয়াম সমৃদ্ধ খাদ্য বেশি বেশি করে খান। এতে ক্যালোরি বার্ন করার পরিমাণ বাড়বে। অ্যাভোকাডো, নারকেলের পানি এসবে পটাসিয়ামের মাত্রা বেশি থাকে।

নাস্তায় সুষম খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন। বেশি ক্যালোরি যুক্ত খাবার খাওয়া ঠিক নয়। বিশেষ ভাবে যে সব খাবারে সুগার বেশি সেসব খাবারও এড়িয়ে চলুন আপনার তালিকা থেকে। চকোলেট জাতীয় খাবার বা আইসক্রিম খাবেন না।

লিফ্‌ট ব্যবহার করে ওঠানামা করলে সময় বাঁচে। তবে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সিঁড়ি দিয়েও চলাফেরা করতে পারলে ভালো। সিঁড়ি ভাঙা হলো শরীরচর্চার অত্যন্ত কার্যকরী একটি ধাপ। ওজন নিয়ে সচেতন হলে লিফটের বদলে সিঁড়ি ব্যবহার করুন। 

এছাড়াও, কাজের মধ্যে বন্ধু বা বাড়ির মানুষের ফোন আসতেই পারে। কাজের ফাঁকে কাছের মানুষের কথা বললে মনটাও বেশ ভাল লাগে। তবে শরীরের যত্ন নিতে চেয়ারে বসেই ফোনে কথা না বলে, হাঁটতে হাঁটতে গল্প করতে পারেন। তা হলে একসঙ্গে মন এবং শরীরেও যত্ন নেওয়া হয়ে যায়।

পা মেঝে থেকে সামান্য ওপরে তুলে রাখুন। এখন দুই পায়ের পাতাকে ওপর দিকে করে নিজের শরীরের দিকে টেনে ধরুন অন্তত ১০ সেকেন্ড। এখন ছেড়ে দিয়ে ঠিক বিপরীত দিকে অর্থাৎ শরীরের বাইরের দিকে ঠেলে দিন পায়ের পাতাকে। এই ভাবে আরো দশ সেকেন্ড রাখুন। এই ব্যায়ামে আপনার ক্যালোরিও বার্ন হবে আবার পায়ের ব্যথাও কম হবে।


img

কিভাবে খুব দ্রুত রোদে পোড়া ত্বক উজ্জ্বল করে তুলতে পারবেন?

প্রকাশিত :  ১১:০৩, ১১ জুলাই ২০২৪

তীব্র তাপদাহে কাজের জন্য বাসা থেকে বের হতেই হয়। অনেকে রোদে বের হওয়ার আগে জেল, ক্রিম, পাউডার, সানস্ক্রিনসহ বিভিন্ন প্রসাধনী ব্যবহার করে থাকে। তবুও অনেকের রোদে পোড়া দাগ দেখা যায়।

রোদে ত্বক পুড়ে গেলে ত্বকের লাবণ্য কমে যায়। এর প্রধান কারণ হলো সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি। এদিকে রোদে পোড়া দাগ নিয়ে অনেকের চিন্তার শেষ নেই। নিয়মিত সানস্ক্রিন লাগানো সত্ত্বেও যাদের ত্বক রোদে পুড়ে গেছে বা ট্যানড হয়ে গেছে, তারা এবার ঘরোয়া উপায়েই ফিরে পেতে পারেন ত্বকের স্বাভাবিক রং। চলুন সে সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিই-

অ্যালোভেরা

আপনার ত্বক রোদে পুড়ে গেলে আপনি অ্যালোভেরা ব্যবহার করতে পারেন। আপনি অ্যালোভেরা দিয়ে আইসকিউব তৈরি করে সেটি নিয়মিত ত্বকে ব্যবহার করতে পারেন। এটি আপানার ত্বকের জ্বালা বন্ধে বেশ কার্যকরী।

অ্যাপল সিডার ভিনেগার

ত্বক রোদে পুড়ে গেলে বা জ্বালা করলে ভরসা রাখুন অ্যাপল সিডার ভিনেগারের উপর। এর জন্য পরিমাণমতো অ্যাপল সিডার ভিনেগারের সাথে পানি মিশিয়ে নিন। মিশ্রণটি এক টুকরা পরিষ্কার কাপড় ভিজিয়ে রোদে পোড়া ত্বক মুছে নিন। অথবা স্প্রে বোতলে নিয়ে প্রয়োজনমতো স্প্রে করতে পারেন।

মধু

মধুর অ্যান্টিসেপটিক গুণ রোদে পোড়া ক্ষতিগ্রস্ত ত্বকের খুবই উপযোগী। রোদে পোড়া ত্বকে মধু লাগিয়ে আলতো করে গজ ব্যান্ডেজ দিয়ে ঢেকে দিন, নিমেষে আরাম পাবেন।

কালো চা

চায়ের ট্যানিক অ্যাসিড ত্বকের পিএইচ ব্যালান্স বজায় রাখে, জ্বালাভাব কমিয়ে ত্বক শীতল করে। টি ব্যাগ দিয়ে চা তৈরি করে নেয়ার পর ব্যাগগুলো ফ্রিজে রেখে ঠান্ডা করুন। তারপর রোদে পোড়া ত্বকে চেপে চেপে লাগিয়ে নিন ঠান্ডা চা। জ্বালাভাব আর ত্বকের ট্যান দুটোই কমবে।

আলুর রস

ত্বকের যেকোনো কালো দাগ দূর করে, চোখের চারপাশের কালচেভাব কমাতে সাহায্য করে আলুর রস। আলু ত্বকে আরাম দেয়ার পাশাপাশি এতে থাকা ব্লিচিং উপাদান ত্বককে উজ্জ্বল করতেও সাহায্য করে। রোদে পোড়া দাগ দূর করতে আলুর রস সরাসরি ত্বকে ব্যবহার করা যায়। অথবা আলু পাতলা করে কেটে তা চোখের ওপরের অংশ ও দাগের ওপর ব্যবহার করা যেতে পারে।

 চালের আটা, টমেটো ও চিনি

টমেটোতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে। টমেটোর সাথে চালের আটা ও চিনি মিশিয়ে আপনি স্ক্রাব করতে পারেন। এতে মুহূর্তেই আপনার ত্বক উজ্জল দেখাবে। এর পাশাপাশি আপনার ত্বকের মরা কোষগুলোও রিমুভ হবে।

চিনি, গ্লিসারিন ও লেবু

রোদে পোড়া ত্বকের জন্য চিনি, গ্লিসারিন ও লেবুর মিশ্রণ বেশ ভালো কাজ করে। এক টেবিল চামচ চিনির সঙ্গে আধা চা চামচ গ্লিসারিন ও এক টেবিল চামচ লেবুর রস মেশান। এটি ঘষে ঘষে লাগান স্ক্রাবের মতো। এই মিশ্রণটি ত্বকে কিছুক্ষণ রেখে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার ব্যবহার করুন।

লেবুর খোসা ও দুধ

লেবু অথবা কমলার খোসা ত্বক ফরসা করতে সাহায্য করে। এগুলোর খোসা শুকিয়ে গুঁড়া করে রাখতে পারেন। এক টেবিল চামচ লেবু কিংবা কমলার খোসা গুঁড়ার সঙ্গে এক টেবিল চামচ কাঁচা দুধ মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। রোদে পোড়া ত্বকে লাগান মিশ্রণটি। শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার ব্যবহার করতে পারেন এই ফেসপ্যাক।

কলা, লেবু ও দুধ

অর্ধেক কলা চটকে এক চা চামচ লেবুর রস ও এক চা চামচ দুধ মেশান। রোদে পোড়া ত্বকে ১৫ মিনিট লাগিয়ে রাখুন মিশ্রণটি। কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

দই ও মধু

দুই টেবিল চামচ টক দইয়ের সঙ্গে এক চা চামচ মধু মিশিয়ে নিন। মিশ্রণটি পুরু করে লাগান রোদে কালচে হয়ে যাওয়া ত্বকে। শুকিয়ে গেলে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এক দিন পর পরই ব্যবহার করতে পারেন এই ফেসপ্যাক।

শসা ও লেবু

অর্ধেক শসা কুচি করে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মেশান। চাইলে ব্লেন্ড করে নিতে পারেন মিশ্রণটি। এটি নিয়মিত ব্যবহারে দূর হবে ত্বকের রোদে পোড়া দাগ।

সূত্র: ফেমিনা