img

ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি জানিয়ে ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি ফিরিয়ে দিলেন শহিদুল আলম

প্রকাশিত :  ১৯:২৪, ০২ জুন ২০২৪

ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি জানিয়ে ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি ফিরিয়ে দিলেন শহিদুল আলম

বাংলাদেশি আলোকচিত্রী ও মানবাধিকারকর্মী শহিদুল আলম যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব দ্য আর্টস অব লন্ডনের (ইউএএল) কাছ থেকে পাওয়া সম্মানজনক ডক্টরেট ডিগ্রি ফেরত দিয়েছেন।

ফিলিস্তিনের গাজাবাসীর প্রতি সংহতি জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এবং এসব শিক্ষার্থীদের প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অবজ্ঞার কারণে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন তিনি।

বিবৃতিতে শহিদুল আলম বলেছেন, তিনি ২০২২ সালের ৮ জুলাই এই সম্মানজনক ডিগ্রি গ্রহণ করেন। কারণ বিশ্ববিদ্যালয়টি অ্যাকাডেমিক স্বাধীনতা এবং বাকস্বাধীনতার ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিল। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ফিলিস্তিনের সঙ্গে সংহতি প্রদর্শন করেছেন। সেই সঙ্গে গাজায় যুদ্ধবিরতির প্রতি সমর্থন জানাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন। বিষয়টি আমাকে আশ্বস্ত করেছিল।

শহিদুল আলম আরও বলেন, কিন্তু এই স্বস্তি কেটে যায় যখন দেখি প্রশাসন, বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়টির বর্তমান উপাচার্যের অবস্থান ভিন্ন। শিক্ষার্থীরা বারবার বলছেন, তাদের কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে। ইসরাইলি বা ইসরাইল অনুষঙ্গী সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে যুক্তরাজ্যের এই বিশ্ববিদ্যালয়টি ইসরাইলের দখলদারি, বর্ণবাদ ও চলমান গণহত্যার অংশীদার।

এই পরিপ্রেক্ষিতে ইউনিভার্সিটি অব আর্টস লন্ডনের সঙ্গে যুক্ত থাকতে চান না বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করেন শহিদুল আলম। তিনি বলেন, সম্মানসূচক ‘ডক্টরেট’ ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি তিনি বিশ্ববিদ্যালয়কে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন।

আলোকচিত্র এবং আন্দোলনের ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ শহিদুল আলমকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করা হয়েছিল। 

শহিদুল আলম একইসঙ্গে দৃক পিকচার লাইব্রেরি, পাঠশালা সাউথ এশিয়ান মিডিয়া ইনস্টিটিউট ও মেজরিটি ওয়ার্ল্ডের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি ১৯৮৩ সালে লন্ডনের বেডফোর্ড কলেজ থেকে জৈব রসায়নে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন। 

যুক্তরাজ্য এর আরও খবর

ইংলিশ চ্যানেলে নৌকা ডুবে শিশুসহ নিহত ৫ | JANOMOT | জনমত

img

নির্বাচনি প্রচার শুরু করলেন রুশনারা আলী

প্রকাশিত :  ১৯:২৩, ১৮ জুন ২০২৪
সর্বশেষ আপডেট: ২১:৩৩, ১৮ জুন ২০২৪

যুক্তরাজ্যে আসন্ন সাধারণ নির্বাচন ঘিরে নির্বাচনি প্রচার শুরু করেছেন লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটসের বেথনাল গ্রিন ও স্টেপনি আসনের লেবার দলীয় প্রার্থী রুশনারা আলী ও তার কর্মী-সমর্থকরা। গত ১৩ জুন পূর্ব লন্ডনের বেথনাল গ্রিনের  মিউজিয়াম পার্কে এ প্রচার অনুষ্ঠান করেন তারা।

উক্ত প্রচার অনুষ্ঠান উপস্থিত ছিলেন রুশনারা আলী, লন্ডন মেয়র সাদিক খান, গ্রেটার লন্ডন অ্যাসেম্বলি মেম্বার উন্মেষ দেশাই ও টাওয়ার হ্যামলেটস্ লেবার পার্টি নেতা কাউন্সিলার সিরাজুল ইসলামসহ আরো অনেকে।

রুশনারা আলী বলেন, “তার দলের নির্বাচনি ইশতেহারে আবাসন সমস্যা, শিক্ষা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। লেবার পার্টি আগামী পাঁচ বছরে ১৫ লাখ বাড়িঘর তৈরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এ ছাড়া অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, ১৩ হাজার অতিরিক্ত পুলিশ নিয়োগ, শিক্ষাক্ষেত্রে বেশি করে শিক্ষক নিয়োগ, স্বাস্থ্যখাতে বিনিয়োগ করে চিকিৎসার জন্য অপেক্ষার তালিকা কমিয়ে আনা ইত্যাদি পরিকল্পনা রয়েছে।”

তার অর্জন সম্বন্ধে তিনি বলেন, বাসস্থান উন্নয়নে তিনি ১৬৫ মিলিয়ন পাউনড জোগাড় করেছেন, কোবিড ১৯ মহামারীর মোকাবেলায় অর্থ যোগান, স্কুলগুলোর জন্যে অনুদান আদায়, রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তন ও উইগোরদের মানবদিকারের জন্যে লড়ে যাচ্ছেন। যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্য উন্নয়ন, বিশেষ করে ব্রিটিশ বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর বাংলাদেশে রপ্তানি বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশের গার্মেন্টস যাতে যুক্তরাজ্যে ও ইউরোপে ট্যারিফ ফ্রি প্রবেশাধিকার পায় সেজন্য কাজ করছেন বলে জানান রুশনারা আলী।

তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশের সঙ্গে একটি বিশাল অ্যাভিয়েশন চুক্তি সম্পন্ন করার কাজ করছি। এই চুক্তির ফলে ব্রিটেন, ফ্রান্স, স্পেন ও জার্মানি শুধু লাভবানই হবে না, বাংলাদেশসহ এসব দেশগুলোতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।”

সাদিক খান বলেন, “রুশনারা আলী পার্লামেন্টে গত ১৪ বছর মধ্যপ্রাচ্যে ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিয়ে কথা বলেছেন, চীনের উইঘুর মুসলমান ও রোহিঙ্গা কমিউনিটির বিষয় উত্থাপন করেছেন, মানবাধিকারের কথা বলেছেন।”

আগামী ৪ জুলাই যুক্তরাজ্যে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সাধারণ নির্বাচন। গত চার মেয়াদের সাংসদ ও ছায়া মন্ত্রিসভার সদস্য রুশনারা আলী এবার নির্বাচিত হলে তিনি হবেন প্রথম বাঙালি বংশোদ্ভুত মন্ত্রী।