img

সালমানকে বিয়ে করতে চাওয়া সেই নারী পুলিশ হেফাজতে

প্রকাশিত :  ১০:৩৪, ০৩ জুন ২০২৪

সালমানকে বিয়ে করতে চাওয়া সেই নারী পুলিশ হেফাজতে

মাঝে মধ্যেই প্রিয় তারকার জন্য নানান কাণ্ড ঘটিয়ে বসেন ভক্তরা। এতে বিপাকে পড়েন তারকারা। এবার বলিউডের মোস্ট এলিজেবল ব্যাচেলর সালমান খানের সঙ্গে ঘটে গেল বিব্রতকর এক ঘটনা।   গুগল নিউজে ফলো করুন আরটিভি অনলাইন সম্প্রতি পানভেলের ফার্ম হাউজে গিয়ে সালমানকে বিয়ের দাবিতে হুলুস্থুল কাণ্ড করলেন ২৪ বছর বয়সী এক নারী। যেটার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলেন না এই অভিনেতা।

ঐ নারী বিয়ে করবেন সালমানকে। বিয়ে না করে তার পানাভেল খামারবাড়ি ছেড়ে যাবেন না এক নারী। অবশেষে সেই অচেনা সুন্দরীকে স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন। 

‘ভাইজান’খ্যাত সালমানকে হত্যার জন্য পাকিস্তান থেকে শক্তিশালী আগ্নেয়াস্ত্র এনেছিল লরেন্স বিষ্ণোইয়ের দল। সেই পরিকল্পনা সদ্য ফাঁস করেছে মুম্বাই পুলিশ। তার ২৪ ঘণ্টা পেরোতে না পেরোতেই আবারও নতুন খবর। নায়ককে বিয়ে করতে এক অচেনা নারী তার পানাভেল খামারবাড়িতে হাজির! স্থানীয়রা জানান, ওই নারী নাছোড়বান্দা! সালমানকে বিয়ে না করে তিনি কিছুতেই পানাভেল ছেড়ে যাবেন না!

আনন্দবাজার প্রতিবেদন সূত্র জানায়, রোববার ছুটির ছিল। খোশমেজাজে মুম্বাইও। কাজ কম থাকায় এদিন তারকারাও খোশমেজাজেই থাকেন। আচমকাই এক খবরে নতুন করে নড়েচড়ে বসেন সবাই। অচেনা এক সুন্দরীর আগমন সালমানের খাবারবাড়িতে। কাকতালীয়ভাবে এদিন তার খামারবাড়িতে ছিলেন না সালমান। ফলে ঘটনা বড় আকার ধারণ করার আগেই স্থানীয়রা তাতে হস্তক্ষেপ করেন। 

ওই নারীর দাবি— তিনি সালমানের ‘বিয়িং সালমান’ গ্রুপের সমর্থক। সালমান খানের অন্ধভক্ত। তার অনেক দিনের স্বপ্ন— তিনি নায়ককে বিয়ে করবেন। স্বপ্নপূরণ করতেই তার পানাভেলে আসা। তিনি নিজের স্বপ্নপূরণ না করে যাবেন না। সালমানের খামারবাড়িতে ঢুকতে না পেরে তিনি নাকি গেটের সামনেই বসে পড়েন। হট্টগোল শুরু করে দেন। স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ আসে। তাকে আটক করে নিয়ে যায় পানাভেল তালুকা থানায়। সেখান থেকে ওই নারীকে স্থানীয় এক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

পানাভেল খামারবাড়িতেই তাকে হত্যার নতুন ছক কষেছিলেন অন্ধকার দুনিয়ার বাদশা জানিয়েছে মুম্বাই পুলিশ। কৃষ্ণসার হরিণ হত্যার ঘটনায় বিষ্ণোইয়ের নিশানায় নতুন ছক। একের পর এক খুনের চেষ্টা ব্যর্থ বিষ্ণোইয়ের। পাঞ্জাবি গায়ক সিধু মুসে ওয়ালাকে যে আগ্নেয়াস্ত্রে খুন করা হয়েছিল, সেই আগ্নেয়াস্ত্র ‘ভাইজান’-এর জন্যও নাকি আনানো হয়েছিল। এবার যাতে পরিকল্পনা ব্যর্থ না হয়, তার জন্য লরেন্স বিষ্ণোইয়ের দলের কয়েকজন সালমানের পানভেলের বাড়িতে গিয়ে রেকি পর্যন্ত করে এসেছিলেন বলে জানায় পুলিশ।

img

‘বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থায় চুপ করে বসে থাকতে পারি না’

প্রকাশিত :  ১১:০২, ১৮ জুলাই ২০২৪

বাংলাদেশের কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে সরব হলেন ভারতীয় সংগীতশিল্পী কবীর সুমন। আজ বৃহস্পতিবার সকালে এক ফেসবুক পোস্টে সব পক্ষকে হানাহানি বন্ধের অনুরোধ করেছেন তিনি।

কবীর সুমন লিখেছেন, ‘...বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থায় চুপ করে বসে থাকতে পারি না। থেকেছি কয়েক দিন, আর পারছি না। কিন্তু অবস্থাটা যে ঠিক কী, কী কী কারণে এমন হলো এবং হচ্ছে, কারা যে এতে জড়িত, তা–ও তো ঠিকমতো জানি না। তা–ও করজোড়ে সব পক্ষকে মিনতি করছি, অনুগ্রহ করে হিংসা, হানাহানি বন্ধ করুন। ঢাকা সরকারকে অনুরোধ করছি, বাংলা ভাষার কসম, শান্তি রক্ষার চেষ্টা অব্যাহত রাখুন। আপনাদের ছাত্রবাহিনী যেন হিংসার আশ্রয় না নেয়।’

ভারতের গণ্ডি পেরিয়ে বাংলাদেশের শ্রোতাদের মধ্যেও জনপ্রিয়তা রয়েছে কবীর সুমনের। তিনি লিখেছেন, ‘আর কী বলি, আমি তো সশরীর যেতে পারছি না ঢাকায়, পারলে যেতাম। রাস্তায় বসে পড়ে সবাইকে শান্তিরক্ষার জন্য আহ্বান করতাম।’

দীর্ঘ পোস্টের শুরুতে তিনি লেখেন, ‘আমি ভারতের নাগরিক। বাংলাদেশ আমাদের প্রতিবেশী। তার বিষয়–আসয়ে নাক গলানোর অধিকার আমার নেই। সেটা করতে চাইও না। তবু বাংলাদেশের অনেকের কাছ থেকে যে ভালোবাসা আমি পেয়েছি, তা ভুলে থাকতেও পারছি না। ভুলবই–বা কেন। ছবি দেখছি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের। মিছিল করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র–ছাত্রীরা। নেপথ্যে শোনা যাচ্ছে কাজী নজরুল ইসলামের ‘কারার ঐ লৌহ–কবাট/ ভেঙে ফেল্ কর্‌রে লোপাট’; মনে হচ্ছে, গানটি এডিট করে বসানো হয়েছে ভিডিওর সঙ্গে। ঠিক কাজই করা হয়েছে। কত সময়ে দেখেছি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র–ছাত্রীরা আমার গানের লাইন লিখে দিয়েছেন দেয়ালে। পশ্চিমবঙ্গে সে তুলনায় কিছুই দেখিনি। বলতে দ্বিধা নেই, মনে মনে আমি বাংলাদেশেরও নাগরিক।’

কবীর সুমনের ভাষ্যে, ‘আমার জীবনের সেরা কাজ এবং আমার জীবনসায়াহ্নের প্রধান কাজ বাংলা খেয়াল বাংলাদেশে চর্চা করা হয়ে থাকে। বাংলাদেশের শিল্পী মরহুম আজাদ রহমান বেশ কিছু বাংলা খেয়াল রচনা করে গেছেন বিভিন্ন রাগে। বাংলা ভাষা আর বাংলা খেয়ালের মাধ্যমে বাংলাদেশের সঙ্গে আমি বাঁধা ভালোবাসার বন্ধনে।’

পোস্টের শেষভাগে তিনি লিখেছেন, ‘হানাহানি বন্ধ হোক। বন্ধ হোক উল্টোপাল্টা কথা বলে দেওয়া। বাঁচুক বাংলাদেশ। বাঁচুন বাংলাদেশের সবাই। জয় বাংলাদেশ, জয় মুক্তিযুদ্ধ, জয় অসংখ্য বাংলাদেশির শাহাদাত ও অপূরণীয় ক্ষতিস্বীকার। জয় বীরাঙ্গনার। জয় বাংলা ভাষার।’

১৯৯২ সালে ‘তোমাকে চাই’ অ্যালবাম প্রকাশ করে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে উঠে আসেন কবীর সুমন। একসময় স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয় হন নিজের মতো করে। নন্দীগ্রাম আর সিঙ্গুর আন্দোলনে দাঁড়িয়েছিলেন মমতার পাশে।

তারপর যাদবপুর কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের টিকিটে সংসদ সদস্য হন। কিন্তু বনিবনা না হওয়ায় পরে তৃণমূল ছাড়েন। তাঁর জন্ম ভারতের ওডিশায়, ১৯৪৯ সালের ১৬ মার্চ।