img

কোম্পানীগঞ্জ সীমান্ত থেকে লাশ উদ্ধার হওয়া যুবককে নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল

প্রকাশিত :  ১০:১১, ০৪ জুন ২০২৪
সর্বশেষ আপডেট: ১০:১৩, ০৪ জুন ২০২৪

 কোম্পানীগঞ্জ সীমান্ত থেকে লাশ উদ্ধার হওয়া যুবককে নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল

পাহাড়ি এলাকায় বন্য পশু শিকার করার পর যেভাবে চ্যাংদোলা করে বহন করা হয়, ঠিক সেভাবেই এক তরুণকে বহন করার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। আরেক ভিডিওতে দুই হাত বেঁধে রড দিয়ে বেধড়ক পেটানোর দৃশ্য। অমানুষিক, পৈশাচিক জিঘাংসায় পশুর মতো মানুষ হত্যার এ ভিডিও সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের সীমান্তবর্তী গ্রাম নারাইনপুরের বাসিন্দা নুরুজ্জামিনের (২৩)। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া দুটো ভিডিও নিয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। 

৩ মিনিট ২২ সেকেন্ডের এমন একটি ভিডিও রোববার রাত থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

সুরমা ভয়েস নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে ভিডিওটি ছড়িয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নির্যাতনের শিকার ওই তরুণে নাম নুরুজ্জামিন (২৩)। তিনি কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চিকাডহল গ্রামের মৃত হানিফ আলীর ছেলে। রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ভারত সীমান্ত এলাকা কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার নারাইনপুরের একটি খাল থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, নিহত যুবকের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকালে স্থানীয় কয়েকজন নারাইনপুর এলাকায় মাছ ধরতে যান। মাছ ধরার এক পর্যায়ে তারা খালে লাশটি ভাসমান অবস্থায় দেখতে পান। পরে বিজিবি ও পুলিশকে বিয়ষটি জানানো হয়। খবর পেয়ে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে।

নুর জামিন বিবাহিত। তিনি মোটরসাইকেলে ভাড়ায় যাত্রী পরিবহন করার কাজ করতেন।

তার স্ত্রী স্মৃতি বেগম বলেন, শনিবার রাতে পরিচিত কয়েকজন তার স্বামীকে ডেকে নিয়ে গিয়েছিলেন। এর পর থেকে তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। তাকে কোনোভাবে ভারতে নিয়ে গিয়ে দুর্বৃত্তদের হাতে তুলে মেরে ফেলা হয়েছে বলে দাবি স্মৃতির।

স্থানীয় একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে ভিডিও প্রসঙ্গে আলাপ করলে তাঁরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ধারণ করা ভিডিওটি ভারতের অংশে। নিহত নুরুজ্জামিন হয়তো ভারতে চলে গিয়েছিলেন। সেখানে তাঁকে চোর সন্দেহে মারধর করা হয়েছে।

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম দস্তগীর আহমেদ জানান, নিহত যুবকের শরীরের মাথাসহ বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত ছিল। লাশ উদ্ধারের পর রোববার ময়নাতদন্ত শেষে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এ ঘটনায় নিহত যুবকের মা বাদী হয়ে রোববার রাতে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। ছড়িয়ে পড়া ভিডিও প্রসঙ্গে ওসি বলেন, বিষয়টি পুলিশের নজরে এসেছে। ভিডিওর বিষয়টিও তদন্ত করা হচ্ছে।


img

শাবি শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ, পুলিশের সাথে বাকবিতণ্ডা

প্রকাশিত :  ০৯:১০, ১৮ জুলাই ২০২৪

কোটা সংস্কার নিয়ে নিয়ে আন্দোলনরত শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়কে অবস্থান নিয়েছেন। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১ টা থেকে শাবি ফটকের সামনে এই সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। এতে সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বৃহস্পতিবার সারা দেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি ডেকেছেন। এতে সকাল থেকে সিলেটে যান চলাচল কম। দূরপাল্লার বাস প্রায় বন্ধ রয়েছে। শিক্ষার্থীদের অবরোধের কারণে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কে জরুরী প্রয়োজনেও কেউ যাতায়াত করতে পারছেন না।

এদিকে, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শাবি ক্যাম্পাসে অবস্থান নেয় বিপুল সংখ্যক পুলিশ।

 সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) ক্রাইসিস রেসপন্স টিমের (সিআরটি) সদস্যরাও ক্যাম্পাসের বিভিন্ন রাস্তা ও মোড়ে অবস্থান নিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলের সামনেও পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পুলিশ শিক্ষার্থীদের হল ও ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেয়।

সকাল ১১ টার দিকে কিছু শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে চাইলে ফটকে তাদের আটকে দেয় পুলিশ। এসময় পুলিশের সাথে তাদের উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় ও কিছু ধস্তাধস্তি হয়।

এরপর সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। তীব্র গরমের মধ্যে শিক্ষার্থীরা রাস্তায় অবস্থান নিয়ে কোটা, সরকার ও পুলিশবিরোধী নানা স্লোগান দিচ্ছেন। অবস্থানকালে শাবি ফটকের সামনে এক প্লাটুন বিজিবি আসলে তাদের গাড়ির সামনে শিক্ষার্থীরা ‘ভুয়া ভুয়া’ বলে স্লোগান দিতে শুরু করেন তারা। পরে বিজিবি কিছুটা দূরে গিয়ে অবস্থান নেয়।

এই আন্দোলনের শাবি শাখার সমন্বয়ক আসাদুল্লাহ আল গালিব বলেন, পুলিশ সকাল থেকে হলে হলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার জন্য চাপ দিচ্ছে। তবে সব ভয় ও চাপ উপেক্ষা করে আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

সিলেটে যান ও মানুষ চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে এবং এছাড়া মানুষের জান-মালের নিরাপত্তার জন্য সতর্ক অবস্থানে রয়েছে পুলিশ।

তবে পরিবহন শ্রমিক নেতারা জানিয়েছেন, অনেক চালক ভয়ে বাস বা অন্যান্য গাড়ি নিয়ে সড়কে বের হননি। তবে দূর পাল্লার ও আঞ্চলিক সড়কের কিছু বাস চলাচল করছে।

সিলেট জেলা বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ময়নুল ইসলাম বলেন- আমরা চালকদের চালকদের গাড়ি না চালাতে কোনো নির্দেশনা দিইনি। তবে ভয়ে অনেক চালক গাড়ি নিয়ে রাস্তায় বের হননি। তাই সিলেটে গণপরিবহন চলাচল কিছুটা কম। তবে দূরপাল্লার ও আঞ্চলিক সড়কে কিছু যানবাহন চলাচল করছে।

সড়কে পুলিশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কম দেখতে পাচ্ছেন বলে জানান ময়নুল ইসলাম।

 সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম (গণমাধ্যম) বলেন, অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঠেকাতে শাবিসহ  সিলেটের সব বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে রাখা হয়েছে। এছাড়া মহানগরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও মোড়ে রয়েছে পুলিশ। সাধারণ মানুষের জান-মালের নিরাপত্তায় পুলিশ তৎপর রয়েছে।

সিলেটের খবর এর আরও খবর