img

কোটা পুনর্বহালের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ-মানববন্ধন

প্রকাশিত :  ১০:০৩, ০৬ জুন ২০২৪

কোটা পুনর্বহালের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ-মানববন্ধন

হাইকোর্ট কর্তৃক প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে কোটা পুনর্বহাল আদেশের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন শিক্ষার্থীরা। সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা আধা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের চাকরিতে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে (৯ম থেকে ১৩তম গ্রেড) ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলসংক্রান্ত পরিপত্র অবৈধ ঘোষণা করে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। এই রায়ের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার (৬ জুন) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে ‘বিক্ষুব্ধ ছাত্র সমাজে’র ব্যানারে এ প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, রায় প্রদাণের ক্ষেত্রে ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনকে আমলে নেননি হাইকোর্ট। তাই আদালতের এই রায়কে প্রত্যাখান করছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

কোটা বিরুদ্ধে আন্দোলনরতদের বক্তব্য, জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান হিসেবে নিঃসন্দেহে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান করে শিক্ষার্থীরা। কিন্তু চাকরির ক্ষেত্রে বৈষম্য মানা কষ্টদায়ক। চাকরিতে কোটা বহাল রাখা হলে শিক্ষার্থীরা কঠোর আন্দোলনে যাবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

এদিকে, কোটা পুনর্বহাল আদেশের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীরাও। এদিন বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি বাহাদুর শাহ পার্কের সামনে দিয়ে ঘুরে বাংলাবাজার হয়ে পুনরায় প্রধান ফটকের সামনে এসে শেষ হয়। এরপর সেখানেই সমাবেশ করেন শিক্ষার্থীরা।

বিক্ষোভে শিক্ষার্থীরা হাইকোর্টের রায় প্রত্যাখ্যান করে ‘বঙ্গবন্ধুর বাংলায়, বৈষম্যের ঠাঁই নাই’, ‘শেখ হাসিনার বাংলায়, বৈষম্যের ঠাঁই নাই’, ‘বাতিল করো, বাতিল করো, কোটা পদ্ধতি বাতিল করো’— এসব স্লোগান দিতে থাকেন।

এ সময় জসিম নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, চাকরির ক্ষেত্রে এ ধরনের কোটা যুক্ত করার মধ্য দিয়ে বৈষম্য করা হচ্ছে। আমরা কখনো এটা মেনে নেব না। ২০১৮ সালে আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার সে সময় কোটা পদ্ধতি বাতিল করে। কিন্তু আজকে হাইকোর্ট সেই কোটা পুনর্বহাল করেছেন। আমরা এ রায়কে প্রত্যাখ্যান করছি। মুক্তিযোদ্ধার নাতি-নাতনির কিসের অবদান? তারা কেন এত সুযোগ পাবে? নাতি-নাতনি আর আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীরা সমান।

চাকরিপ্রত্যাশী আরেক শিক্ষার্থী নাইমা আক্তার রিতা বলেন, চাকরির ক্ষেত্রে এ ধরনের কোটা যুক্ত করার ফলে আমাদের সাথে বৈষম্য করা হয়েছে। এটা আমরা কোনোভাবে মেনে নেব না। এ বৈষম্য দূর করার জন্য যদি রাজপথে থাকতে হয়, তাহলে আমরা থাকব।

img

সাতদিন কমতে পারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি, সিদ্ধান্ত বৃহস্পতিবার

প্রকাশিত :  ১২:৪৫, ১৯ জুন ২০২৪

পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটির পরের সপ্তাহে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হতে পারে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এবারের গ্রীষ্মের ছুটি সংক্ষিপ্ত করা হতে পারে। এ ছুটি এক সপ্তাহ কমতে পারে। শিক্ষাপঞ্জি অনুসারে, এবার পবিত্র ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন ছুটি শুরু হয়েছে ১৩ জুন, যা চলার কথা ২ জুলাই পর্যন্ত।

জানতে চাইলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের একজন অতিরিক্ত সচিব জানান, আগামীকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় শিক্ষামন্ত্রীর সভাপতিত্বে একটি বৈঠক হবে। সেখানে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে। পরে মন্ত্রী ব্রিফিং করে আনুষ্ঠানিকভাবে সিদ্ধান্তের কথা জানাবেন। তবে ছুটি সাতদিন কমতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

ছুটি সংক্ষিপ্ত করার পরিকল্পনার কারণ হিসেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুক্তি হলো– নতুন কারিকুলামে চলতি বছরের বেশ গ্যাপ রয়েছে। শীত ও অতি গরমের কারণে এবার ১৫ দিনের মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। সেই ক্ষতি পোষাতে গ্রীষ্মের ছুটি কাটছাঁট করা হবে। সেক্ষেত্রে শীতকালীন ছুটি কিছুটা বাড়তে পারে। পাঠদানের কর্মদিবস সারা বছরব্যাপী কমেছে। এ ছাড়া শনিবারের বন্ধ পুনর্বহাল রাখার কারণে কর্মদিবস কমে যাবে। তাই গ্রীষ্মের ছুটি এক সপ্তাহ কমতে পারে।

চলতি বছরের শিক্ষাপঞ্জি অনুসারে এবার ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মের ছুটি শুরু হয়েছে ১৩ জুন, যা চলার কথা আগামী ২ জুলাই পর্যন্ত। তবে ছুটি কমানোর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করতে গেলে আবারও শিক্ষাপঞ্জিতে কাটছাঁটের প্রয়োজন পড়বে।