img

এবার মহাজাগতিক বিস্ফোরণের রহস্য জানাবে এআই

প্রকাশিত :  ১৫:০৬, ০৮ জুন ২০২৪

এবার মহাজাগতিক বিস্ফোরণের রহস্য জানাবে এআই

মহাজাগতিক বিস্ফোরণের রহস্য বিশ্লেষণ করতে এবার বিশেষ ধরনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেল ব্যবহার করছেন বিজ্ঞানীরা। যুক্তরাজ্যের ওয়ারউইক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা বর্তমানে এআই মডেলের মাধ্যমে সুপারনোভার বিস্ফোরণের সিমুলেশন তৈরি করছেন। সুপারনোভাকে বাংলায় অতি নবতারা বলা হয়। সুপারনোভা হলো শক্তিশালী ও আলোকিত নাক্ষত্রিক বিস্ফোরণ। এটি কেন বা কীভাবে হয়, তা জানাবে এআই মডেলটি।

গবেষণাটিতে ‘মেশিন লার্নিং’ পদ্ধতি ব্যবহার করার কথা বলেছেন গবেষকরা। এর লক্ষ্য, ‘সুপারনোভা’ নামে পরিচিত তারা বিস্ফোরণের বিভিন্ন ঘটনার সিমুলেশন তৈরি করা, যা থেকে মহাবিশ্বে ক্যালসিয়াম ও লোহার মতো উপাদান ছড়িয়ে পড়ে।

‘ইউনিভার্সিটি অফ ওয়ারউইক’ পরিচালিত এ গবেষণার লক্ষ্য হল, সুপারনোভা কেন ও কীভাবে ঘটে, সে বিষয়ে জোতির্বিদদের বোঝাপড়া বাড়ানোতে সহায়তা করা।

গবেষণার প্রধান লেখক ড. মার্ক ম্যাগি বলেছেন, প্রচলিত একটি মডেলে এ ধরনের সিমুলেশন বানাতে ৯০ মিনিট পর্যন্ত সময় লেগে গেলেও এআইয়ের মাধ্যমে মাত্র কয়েক সেকেন্ডেই হাজার হাজার সুপারনোভা মডেল তৈরির সুযোগ মিলবে।

ইউনিভার্সিটি অফ ওয়্যারইউক বলেছে, এআইয়ের সহায়তায় গবেষণা আরও নির্ভুল হওয়ার সম্ভাবনা জেগেছে, যেখানে সত্যিকারের বিস্ফোরণের মতোই বিভিন্ন মডেল তৈরি করা যাবে।

তারা আরও যোগ করে, মেশিন লার্নিং প্রযুক্তিতে সাম্প্রতিক অগ্রগতির কারণেই এ গবেষণাটি সম্ভব হয়েছে। এ ছাড়া, মহাকাশে বিভিন্ন ধরনের বিস্ফোরণ ও সুপারনোভা নিয়ে ভবিষ্যতে আরও গবেষণা করার সুযোগও বেড়েছে এতে।

“মেশিন লার্নিং প্রযুক্তির সহায়তায় আরও বেশি সুপারনোভা নিয়ে বিস্তারিত পরিসরে ও আগের বিভিন্ন প্রচেষ্টার তুলনায় আরও ধারাবাহিকভাবে গবেষণা করার সুযোগ তৈরি হয়েছে,” বলেন ইউনিভার্সিটি অফ ওয়ারউইকের গবেষক ড. টমাস কিলস্টেইন।

img

পৃথিবীর দুই মেরুর অবস্থান কি বদলাচ্ছে

প্রকাশিত :  ১২:১৬, ১৩ জুন ২০২৪

পৃথিবীর উত্তর মেরু আর দক্ষিণ মেরু নিয়ে অনেকেই অনেক কিছু জানি। সেই মেরুর অবস্থান বদলে যাওয়ার কথা জানিয়েছে বিজ্ঞানীরা। সাধারণভাবে উত্তর মেরু প্রতিবছর প্রায় ১৫ কিলোমিটার গতিতে জায়গা বদল করে। ৯০ দশক থেকে এই গতি বেড়েছে। উত্তর মেরু এখন সাইবেরিয়ার দিকে প্রতিবছর প্রায় ৪৫ কিলোমিটার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। বিজ্ঞানীরা চৌম্বকক্ষেত্রের বিপরীত অবস্থান সম্পর্কে পূর্বাভাস দিয়েছে। এই অবস্থায় পৃথিবীর চৌম্বকীয় উত্তর ও দক্ষিণ মেরু অবস্থান পরিবর্তন করে।

আমরা জানি, পৃথিবীর একটি তরল গলিত কেন্দ্র আছে। সেই কেন্দ্রের বাইরে পুরোটাই লোহা ও নিকেল দ্বারা গঠিত। কেন্দ্র উত্তর ও দক্ষিণ মেরুর মাধ্যমে বিস্তৃত একটি বিদ্যুৎ-চৌম্বকীয় ক্ষেত্র তৈরি করে। এর মাধ্যমে পৃথিবী ক্ষতিকর সৌরকণার বিকিরণ থেকে  রক্ষা পায়। পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্রের যে শক্তি তা নানা কারণে ওঠানামা করে। সৌরঝড়ের কারণে ভূ-চৌম্বকীয় ক্ষেত্র স্থির থাকে। এতে উপগ্রহ, বিমান, জাহাজ ও গাড়ির নেভিগেশন যন্ত্রে সমস্যা তৈরি হয়। সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে চৌম্বকক্ষেত্রের বাঁকবদলের কারণে মেরুর আচরণ বদলে যাচ্ছে। ‘জিওফিজিক্যাল রিসার্চ: স্পেস ফিজিকস’ জার্নালে মেরুর আচরণ নিয়ে একটি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে।

নিম্ন থেকে মাঝারি মাত্রার ভূ-চৌম্বকীয় অবস্থার মধ্যে পার্থক্য বোঝার চেষ্টা করে গবেষকরা। প্রায় ৯৮ শতাংশ এলাকাজুড়ে এমন ধরনের ভূ-চৌম্বকীয় প্রভাব থাকে। পৃথিবীর ওপর থেকে উপগ্রহ পর্যবেক্ষণ বিশ্লেষণ করা হয়। পৃথিবীর চৌম্বক মেরুতে বিভিন্ন পরিবর্তন এসব উপগ্রহ পর্যবেক্ষণ করে। নতুন তথ্য বলছে, উত্তর মেরু প্রতিবছর প্রায় ৪৫ কিলোমিটার উত্তর-উত্তর পশ্চিমে স্থানান্তরিত হচ্ছে।

বিজ্ঞানীদের একজন বলেছে, ‘আমরা সব সময় উত্তর ও দক্ষিণ মেরু অঞ্চলকে স্থির মনে করি। প্রতিসাম্য চৌম্বকীয় ক্ষেত্র বলে অনুমান করি। আসলে দুই মেরু বেশ আলাদা। উত্তর মেরুর অবস্থান প্রায় ৮৪ ডিগ্রি চৌম্বক অক্ষাংশ থেকে ১৬৯ ডিগ্রি চৌম্বক দ্রাঘিমাংশ। দক্ষিণ মেরুর অবস্থান মাইনাস ৭৪ ডিগ্রি থেকে ১৯ ডিগ্রি চৌম্বক দ্রাঘিমাংশ। সোয়ার্ম স্যাটেলাইটের তথ্য বলছে, মেরু চৌম্বকক্ষেত্র গত এক দশক বা তারও বেশি সময় ধরে দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে। চৌম্বকক্ষেত্রের নড়াচড়ার কারণে অনেক জটিলতা তৈরি হতে পারে। আমরা যে জিপিএস ব্যবহার করি তা সঠিকভাবে কাজ নাও করতে পারে।