img

জীবন্ত কোষ দিয়ে তৈরি যন্ত্রে সারবে ত্বকের প্রদাহ

প্রকাশিত :  ১১:৫০, ০৯ জুন ২০২৪

জীবন্ত কোষ দিয়ে তৈরি যন্ত্রে সারবে ত্বকের প্রদাহ

বর্তমানে অগণিত মানুষের জীবন বাঁচাতে সাহায্য করছে পেসমেকারসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্র। এসব যন্ত্র কিছুটা ভারী ও অনমনীয় হওয়ায় কখনো কখনো জটিলতা তৈরি করে। এবার বিজ্ঞানীরা সেই সংকট মোকাবিলায় জীবন্ত কোষ ও কৃত্রিম টিস্যু ব্যবহার করে বিশেষ ধরনের বৈদ্যুতিক যন্ত্র তৈরি করছেন।

বস্তুত, শরীরে আলাদাভাবে যন্ত্র বসানো হলেও এগুলোর সঙ্গে কোষের সংযোগ থাকে না। তাই মানুষের কোষের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ থাকবে- এমন যন্ত্র নকশা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা। দীর্ঘ গবেষণার পর জীবন্ত বায়োইলেকট্রিক যন্ত্রের একটি পরীক্ষামূলক সংস্করণ তৈরি করেছেন তারা। যন্ত্রটি অনেক ওয়ানটাইম ব্যান্ডএইডের মতো ত্বকে লাগানো যায়।

বিজ্ঞানী জিয়াউন শি বলেন, ‘মানুষের কোষ জীবন্ত। তাই সেন্সরযুক্ত পাতলা নমনীয় ইলেকট্রনিক সার্কিটযুক্ত যন্ত্র তৈরি করা হয়েছে। এটি ট্যাপিওকা স্টার্চ ও জেলটিন থেকে

তৈরি জেল দিয়ে আচ্ছাদিত থাকে। ফলে যন্ত্রটি ত্বকে স্থাপন করা হলে ব্যাকটেরিয়া কার্যকর উপায়ে প্রদাহ কমায়। যন্ত্রে থাকা সেন্সর ত্বকের তাপমাত্রা ও আর্দ্রতাও পর্যবেক্ষণ করতে পারে।’

এরই মধ্যে ইঁদুরের ওপর যন্ত্রটির কার্যকারিতা পরীক্ষা করেছেন বিজ্ঞানীরা। এটির নাম রাখা হয়েছে অ্যাকটিভ বায়োইনটিগ্রেটেড লিভিং ইলেকট্রনিকস বা অ্যাবেল। এ বিষয়ে বিজ্ঞানী সেহিউন কিম বলেন, এই যন্ত্র ডায়াবেটিস রোগীর ক্ষত দ্রুত সারাতেও ব্যবহার করা যাবে। বিভিন্ন টিস্যু ও কোষের প্রদাহ ও রোগে এই যন্ত্র ব্যবহারের সুযোগ আছে। ভবিষ্যতে এই যন্ত্রের মাধ্যমে মস্তিষ্কের নিউরণের সঙ্গেও সংযোগ করা সম্ভব হবে। -শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়

img

পৃথিবীর দুই মেরুর অবস্থান কি বদলাচ্ছে

প্রকাশিত :  ১২:১৬, ১৩ জুন ২০২৪

পৃথিবীর উত্তর মেরু আর দক্ষিণ মেরু নিয়ে অনেকেই অনেক কিছু জানি। সেই মেরুর অবস্থান বদলে যাওয়ার কথা জানিয়েছে বিজ্ঞানীরা। সাধারণভাবে উত্তর মেরু প্রতিবছর প্রায় ১৫ কিলোমিটার গতিতে জায়গা বদল করে। ৯০ দশক থেকে এই গতি বেড়েছে। উত্তর মেরু এখন সাইবেরিয়ার দিকে প্রতিবছর প্রায় ৪৫ কিলোমিটার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। বিজ্ঞানীরা চৌম্বকক্ষেত্রের বিপরীত অবস্থান সম্পর্কে পূর্বাভাস দিয়েছে। এই অবস্থায় পৃথিবীর চৌম্বকীয় উত্তর ও দক্ষিণ মেরু অবস্থান পরিবর্তন করে।

আমরা জানি, পৃথিবীর একটি তরল গলিত কেন্দ্র আছে। সেই কেন্দ্রের বাইরে পুরোটাই লোহা ও নিকেল দ্বারা গঠিত। কেন্দ্র উত্তর ও দক্ষিণ মেরুর মাধ্যমে বিস্তৃত একটি বিদ্যুৎ-চৌম্বকীয় ক্ষেত্র তৈরি করে। এর মাধ্যমে পৃথিবী ক্ষতিকর সৌরকণার বিকিরণ থেকে  রক্ষা পায়। পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্রের যে শক্তি তা নানা কারণে ওঠানামা করে। সৌরঝড়ের কারণে ভূ-চৌম্বকীয় ক্ষেত্র স্থির থাকে। এতে উপগ্রহ, বিমান, জাহাজ ও গাড়ির নেভিগেশন যন্ত্রে সমস্যা তৈরি হয়। সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে চৌম্বকক্ষেত্রের বাঁকবদলের কারণে মেরুর আচরণ বদলে যাচ্ছে। ‘জিওফিজিক্যাল রিসার্চ: স্পেস ফিজিকস’ জার্নালে মেরুর আচরণ নিয়ে একটি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে।

নিম্ন থেকে মাঝারি মাত্রার ভূ-চৌম্বকীয় অবস্থার মধ্যে পার্থক্য বোঝার চেষ্টা করে গবেষকরা। প্রায় ৯৮ শতাংশ এলাকাজুড়ে এমন ধরনের ভূ-চৌম্বকীয় প্রভাব থাকে। পৃথিবীর ওপর থেকে উপগ্রহ পর্যবেক্ষণ বিশ্লেষণ করা হয়। পৃথিবীর চৌম্বক মেরুতে বিভিন্ন পরিবর্তন এসব উপগ্রহ পর্যবেক্ষণ করে। নতুন তথ্য বলছে, উত্তর মেরু প্রতিবছর প্রায় ৪৫ কিলোমিটার উত্তর-উত্তর পশ্চিমে স্থানান্তরিত হচ্ছে।

বিজ্ঞানীদের একজন বলেছে, ‘আমরা সব সময় উত্তর ও দক্ষিণ মেরু অঞ্চলকে স্থির মনে করি। প্রতিসাম্য চৌম্বকীয় ক্ষেত্র বলে অনুমান করি। আসলে দুই মেরু বেশ আলাদা। উত্তর মেরুর অবস্থান প্রায় ৮৪ ডিগ্রি চৌম্বক অক্ষাংশ থেকে ১৬৯ ডিগ্রি চৌম্বক দ্রাঘিমাংশ। দক্ষিণ মেরুর অবস্থান মাইনাস ৭৪ ডিগ্রি থেকে ১৯ ডিগ্রি চৌম্বক দ্রাঘিমাংশ। সোয়ার্ম স্যাটেলাইটের তথ্য বলছে, মেরু চৌম্বকক্ষেত্র গত এক দশক বা তারও বেশি সময় ধরে দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে। চৌম্বকক্ষেত্রের নড়াচড়ার কারণে অনেক জটিলতা তৈরি হতে পারে। আমরা যে জিপিএস ব্যবহার করি তা সঠিকভাবে কাজ নাও করতে পারে।