img

জগন্নাথপুরে কুশিয়ারা-নলজুর নদীর পানি বৃদ্ধি, যানচলাচল বন্ধ

প্রকাশিত :  ১০:১৭, ১০ জুন ২০২৪

 জগন্নাথপুরে কুশিয়ারা-নলজুর নদীর পানি বৃদ্ধি, যানচলাচল বন্ধ

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরের নিম্নাঞ্চল বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে। বেশ কয়েকটি গ্রামীণ সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।  এ উপজেলার প্রায় অর্ধশতাধিক গ্রামের কয়েক লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

জানা গেছে, কয়েকদিনের বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কুশিয়ারা ও নলজুর নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। এতে উপজেলার জগন্নাথপুর-বেগমপুর সড়ক, লাউতলা-রসুলগঞ্জ সড়কসহ বেশ কয়েকটি গ্রামীণ সড়ক তলিয়ে গেছে।

ফলে উপজেলার পাইলগাঁও ইউনিয়নের আলাগদি, জালালপুর, খানপুর, আলীপুর, রানীগঞ্জ ইউনিয়নের রানীগঞ্জ বাজার, রানীনগর, নোয়াগাঁও, আলমপুর, রৌয়াইল, চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়নের ভুরাখালি, দাসনোয়াগাঁও, গাদিয়ালা, বেরী, জগন্নাথপুর পৌরসভার যাত্রাপাশা, শেরপুর, পশ্চিম ভবানীপুর, কলকলিয়া ইউনিয়নের শ্রীধরপাশা, জগদীশপুর, কামারখাল, গলাখাইসহ প্রায় অর্ধশতাধিক গ্রামের কয়েক লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।রানীগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী আলাল মিয়া বলেন, কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বাজারের একাংশ তলিয়ে গেছে। এতে করে ক্রেতারা দোকানে আসতে পারছেন না। এতে ঈদের বাজারে আমাদের লোকসান হচ্ছে।

চিলাউড়া-হলিদপুর ইউনিয়নের কবিরপুর গ্রামের বাসিন্দা জাহেদ মিয়া বলেন, আমাদের এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। অনেকের বাড়িতে পানি উঠায় তারা আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।রানীগঞ্জ ইউনিয়নের ইছগাঁও গ্রামের মির্জা রিপন মিয়া বলেন, জগন্নাথপুর-বেগমপুর সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় তিনদিন ধরে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে দুর্ভোগ বেড়েছে।

জগন্নাথপুরের ইউএনও আল-বশিরুল ইসলাম বলেন, আমরা সার্বক্ষণিক বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। আশ্রয়কেন্দ্রের ব্যবস্থাসহ জরুরি যোগাযোগে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে তবে হাওরগুলোতে পানি প্রবেশ করায় নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে।


img

বাহুবলে নির্জন ঝোপে নবজাতক ফেলে যান বোরকা পরা নারী

প্রকাশিত :  ১০:০৭, ১৭ জুলাই ২০২৪

বোরকা পরা এক নারী নির্জন ঝোপে কিছু একটা ফেলে চলে যাচ্ছিলেন। এ দৃশ্য দেখে ফেলেন স্থানীয় কয়েকজন। ওই নারীর গতিবিধি দেখে তাদের সন্দেহ হয়। পরে তারা এগিয়ে ঝোপে গিয়ে দেখেন, কাপড়ে মোড়ানো অবস্থায় এক নবজাতক নড়াচড়া করছে। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়।

পুলিশ এসে স্থানীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের সহযোগিতায় নবজাতককে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। রোববার সন্ধ্যার আগে হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার উজিরপুর গ্রামে এমন ঘটনা ঘটে।

উজিরপুর গ্রামের বাসিন্দা উস্তার মিয়া বলেন, রোববার সন্ধ্যার দিকে রাস্তার পাশে ঝোপে কী যেন ফেলে দ্রুত চলে যান এক বোরকা পরা নারী। এ দৃশ্য প্রথমে তার নজরে আসে। পরে তিনি ও আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে নবজাতকের সন্ধান পান।

পুলিশ ও সমাজসেবা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, রোববার সন্ধ্যার আগমুহূর্তে উজিরপুর গ্রামের একটি নির্জন ঝোপে কালো বোরকা পরা এক নারী কাপড়ে মোড়ানো বস্তুসদৃশ কিছু একটা ফেলে দ্রুত চলে যাচ্ছিলেন। এ দৃশ্য দেখেন স্থানীয় কয়েকজন। পরে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন, কাপড়ে মোড়ানো অবস্থায় এক নবজাতক নড়াচড়া করছে। পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ এসে বাহুবল উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে বিষয়টি জানায়। পরে ওই নবজাতককে উদ্ধার করে প্রথমে বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নবজাতককে হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। ওই নবজাতক হাসপাতালটির নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন।

হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা মঈন উদ্দিন চৌধুরী বলেন, নবজাতকটি অপরিণত বয়সে জন্ম নিয়েছে। তাই তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। তবে নবজাতকটি বর্তমানে ভালো আছে।

বাহুবল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, যে নারী বোরকা পরা অবস্থায় শিশুটিকে ঝোপে ফেলে যান, তাকে এখনো শনাক্ত করা যায়নি। তবে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় শিশুটির দায়িত্ব নিয়ে চিকিৎসা ও পরিচর্চা করছে। শিশুটি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠলে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাহুবল উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আজিজুর রহমান বলেন, তারা ওই নবজাতকের চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন। ওই নবজাতকের পরিচয় শনাক্ত না হলে বা দাবিদার পাওয়া না গেলে তাকে সিলেট ছোটমণি নিবাসে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

সিলেটের খবর এর আরও খবর