img

ইয়েমেনের এডেনে নৌকাডুবে ৩৮ অভিবাসনপ্রত্যাশী নিহত

প্রকাশিত :  ০৪:৪৯, ১১ জুন ২০২৪
সর্বশেষ আপডেট: ০৬:২৫, ১১ জুন ২০২৪

ইয়েমেনের এডেনে নৌকাডুবে ৩৮ অভিবাসনপ্রত্যাশী নিহত

ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলবর্তী বন্দর শহর এডেনে নৌকা ডুবে নিহত হয়েছেন ৩৮ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ১০০ জন।

সোমবার পূর্ব এডেনের শাবওয়া প্রশাসনিক অঞ্চলে এই ঘটনা ঘটেছে। এই অভিযাত্রীদের সবাই আফ্রিকার ‘হর্ন অব অফ্রিকা’ অঞ্চলের চার দেশ ইথিওপিয়া, ইরিত্রিয়া, জিবুতি ও সোমালিয়ার বাসিন্দা।’

এডেনের রুদুম অঞ্চলের প্রশাসনিক প্রধান হাদি আল খুরমা রয়টার্সকে এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘মৎসজীবী এবং স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় এই ৩৮ জনের দেহ এবং ৭৮ জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। জীবিতরা জানিয়েছেন, তাদের আরও ১০০ জন সহযাত্রী এখনও নিখোঁজ। আমাদের অনুসন্ধান কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। জাতিসংঘকেও এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

তুরস্ক ও লিবিয়ার পাশপাশি সম্প্রতি ইয়েমেনের এডেন বন্দর শহরও সাগরপথে ইউরোপে যেতে ইচ্ছুক অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ভিড় বাড়ছে। এই অভিবাসনপ্রত্যাশীদের অধিকাংশই আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে আসা।

জাতিসংঘের তথ্য অনুসারে, গত বছর আফ্রিকা ও এশিয়া থেকে এডেন বন্দরে এসেছেন অন্তত ৯৭ হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশী। তাদের সবারই লক্ষ্য লোহিত সাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে গমন। 

সূত্র : রয়টার্স



img

উইঘুর মুসলিমদের ৬৩০ গ্রামের নাম পালটে দিলো চীন

প্রকাশিত :  ১৫:২৪, ১৯ জুন ২০২৪
সর্বশেষ আপডেট: ১৮:৪৮, ১৯ জুন ২০২৪

চীনের উইঘুর মুসলিম অধ্যুষিত শিনজিয়াং প্রদেশে ধর্মীয়, ঐতিহাসিক বা সাংস্কৃতিক চিহ্ন সম্মিলিত শত শত গ্রামের নাম বদলে দিয়েছে চীনা কর্তৃপক্ষ। এসব গ্রামের নাম পরিবর্তন করে সেখানে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির আদর্শের সঙ্গে মিল রয়েছে এমন নাম রাখা হয়েছে। মূলত মুসলিম সংস্কৃতির চিহ্ন মুছে ফেলতে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে চীনা কর্তৃপক্ষ।

দীর্ঘদিন ধরে উইঘুর মুসলিমদের নিয়ে কাজ করা নরওয়ের একটি সংস্থা এবং মানবাধিকার বিষয়ক সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ একত্রে একটি প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানিয়েছে। ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে জাতীয় পরিসংখ্যান বিভাগে নথিভুক্ত ২৫ হাজার গ্রামের নাম নিয়ে গবেষণা চালিয়েছে সংস্থা দুইটি।

সেখানে তারা দেখতে পেয়েছে, তিন হাজার ৬০০ গ্রামের নাম বদলে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ মতে, এর মধ্যে প্রায় ৬৩০টি গ্রাম উইঘুর মুসলিম অধ্যুষিত। তাদের গ্রামের নামের সঙ্গে উইঘুর বা মুসলিম সংস্কৃতি সংশ্লিষ্ট শব্দ যুক্ত ছিল। সেই শব্দগুলো বাদ দিয়ে নতুন নামকরণ করা হয়েছে।

কয়েকটি উদাহরণও দেওয়া হয়েছে প্রতিবেদনে। কোনো কোনো গ্রামের নামের সঙ্গে দুতার শব্দটি যুক্ত ছিল। যা একটি উইঘুর বাদ্যযন্ত্রের নাম। আবার কোনো কোনো নামের সঙ্গে মাজার শব্দটি যুক্ত ছিল। তা বদলে ঐক্য, সম্প্রীতি, ও আনন্দের মতো শব্দ বসানো হয়েছে। এ ধরনের শব্দ চীনের শাসকগোষ্ঠী বিভিন্ন উপলক্ষে ব্যবহার করে। এই শব্দগুলোর সঙ্গে কমিউনিস্ট শাসনের যোগ আছে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন।

এখানেই শেষ নয়, সুফি শব্দ হোজা, হানিকা কিংবা বকসির মতো শব্দও বদলে দেওয়া হয়েছে। অবলুপ্ত করা হয়েছে ১৯৪৯ সালের আগের উইঘুর ইতিহাস।

শিনজিয়াং অঞ্চলে এভাবে আরো বহু গ্রামের নাম বদলে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে বেশ কিছু অন্যান্য ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী অধ্যুষিত গ্রাম আছে বলেও মনে করা হচ্ছে। মূলত ঐতিহ্য ধ্বংস করতেই একাজ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে চীনের প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা হলেও তারা বিষয়টি নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চায়নি বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

চীন-কাজাখস্তান সীমান্তে প্রায় এক কোটি উইঘুর মুসলিম বসবাস করেন। দীর্ঘদিন ধরে তাদের ওপর অত্যাচারের অভিযোগ সামনে আসছে। এ নিয়ে চীনকে সতর্ক করেছে পশ্চিমা বিশ্ব। কিন্তু এখনো পর্যন্ত পরিস্থিতির বড় কোনো পরিবর্তন ঘটেনি বলে মনে করা হচ্ছে।