img

রেডমিট কি ক্ষতিকর, কতটুকু খাবেন

প্রকাশিত :  ১২:১৭, ১৩ জুন ২০২৪

রেডমিট কি ক্ষতিকর, কতটুকু খাবেন

মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মীয় দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎসব কুবরানি ঈদ কিছুদিন পরই। এ সময় মুসলিমরা পশু (গরু, ছাগল, দুম্বা) কুরবানির মাধ্যমে স্রষ্টাকে খুশি করার চেষ্টা করেন। ফলে এ সময় খাদ্য তালিকায় ‘রেড মিট’ বা লাল মাংস খাওয়ার পরিমাণও বেড়ে যায়।

\'রেডমিট\' শব্দটি শুনলেই আমরা মনে করি, এটা স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। চলুন আজ জেনে নেই রেডমিট স্বাস্থ্যের ক্ষতিকর কি না; ক্ষতিকর হলে, তা কতটা ক্ষতি করে এবং কতটুকু রেডমিট খাওয়া যেতে পারে।

এ বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন মিরপুর জেনারেল হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পুষ্টিবিদ তারানা জান্নাত মুমু।

রেডমিট প্রাণীজ প্রোটিন, আয়রন, জিঙ্ক, থায়ামিন, রিবোফ্লাভিন, সেলেনিয়াম এবং ভিটামিন বি১২ এর অন্যতম উৎস। এ ছাড়া, রেডমিটে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় সব অত্যাবশ্যক অ্যামাইনো এসিড থাকে।

রেডমিটের মাধ্যমে খুব সহজেই দৈনন্দিন প্রোটিনের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হয়। এটি শরীরের হিমোগ্লোবিন তৈরিতে ভূমিকা রাখে। সার্বিকভাবে রেডমিট স্বাস্থ্যকর খাবার হতে পারে, যদি মাংসের চর্বি বাদ দিয়ে ছোট ছোট টুকরা করে খাওয়া যায়।

কম চর্বিযুক্ত রেডমিড শিশু, কিশোর, তরুণ ও গর্ভবতী নারীর জন্য পুষ্টিকর খাবার। তবে প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় রেডমিট রাখা যাবে না। সপ্তাহে একদিন বা দুদিনের বেশি এবং একসঙ্গে ২-৩ ছোট টুকরার বেশি রেডমিট খাওয়া যাবে না।

একজন সুস্থ ব্যক্তি একদিনে ৮৫ গ্রাম রেডমিট গ্রহণ করতে পারেন কোনো সমস্যা ছাড়াই। এবং মাংস চর্বিমুক্ত হলে ১০০ গ্রামও খেতে পারবেন।

রেডমিট খাওয়ার পরিমাণ বেশি হয়ে গেলে শরীরে বিভিন্ন ধরনের জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।

যেমন:

১. রেডমিটে প্রচুর এলডিএল কোলেস্টেরল, ট্রাইগ্লিসারাইড থাকায় রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।

২. স্যাচুরেটেড ফ্যাট বেশি থাকায় রক্তনালিতে ব্লক সৃষ্টি করে, যার কারণে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোক হতে পারে।

৩. অতিরিক্ত রেডমিট খেলে বদহজম হতে পারে, গ্যাস্ট্রিক ও আলসারের সমস্যা বেড়ে যায়।

৪. টাইপ-টু ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

৫. বৃহদান্ত্র, ক্ষুদ্রান্ত, পাকস্থলি, কোলন, প্রোস্টেট ও স্তন ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

৬. আর্থাইটিস ও কিডনির সমস্যা দেখা দিতে পারে।

৭. শরীরে ক্ষতিকর ইউরিক এসিডের পরিমাণ বৃদ্ধি করতে পারে।

৮. শরীরে ফ্যাট জমে ওজন বেড়ে যেতে পারে।

মাংসের স্বাদে ভিন্নতা আনবে থাই বিফ সালাদ

যারা ডায়াবেটিস, হৃদরোগ ও কিডনিজনিত সমস্যায় ভুগছেন, তাদের রেডমিট  পরিহার করা উচিৎ। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুসরণ করতে হবে।

রেডমিট রান্না করার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। সঠিক পদ্ধতিতে রান্না করলে গুরুতর রোগের ঝুঁকি কমে যাবে।

মাংস পুড়িয়ে বা অতিরিক্ত তেল-মশলা দিয়ে অনেকক্ষণ ধরে রান্না করা হলে সেটি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। বারবার গরম করা মাংস খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য একদমই ভালো না। এগুলো হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনাকে ক্রমশ বাড়িয়ে তোলে।

img

কিভাবে খুব দ্রুত রোদে পোড়া ত্বক উজ্জ্বল করে তুলতে পারবেন?

প্রকাশিত :  ১১:০৩, ১১ জুলাই ২০২৪

তীব্র তাপদাহে কাজের জন্য বাসা থেকে বের হতেই হয়। অনেকে রোদে বের হওয়ার আগে জেল, ক্রিম, পাউডার, সানস্ক্রিনসহ বিভিন্ন প্রসাধনী ব্যবহার করে থাকে। তবুও অনেকের রোদে পোড়া দাগ দেখা যায়।

রোদে ত্বক পুড়ে গেলে ত্বকের লাবণ্য কমে যায়। এর প্রধান কারণ হলো সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি। এদিকে রোদে পোড়া দাগ নিয়ে অনেকের চিন্তার শেষ নেই। নিয়মিত সানস্ক্রিন লাগানো সত্ত্বেও যাদের ত্বক রোদে পুড়ে গেছে বা ট্যানড হয়ে গেছে, তারা এবার ঘরোয়া উপায়েই ফিরে পেতে পারেন ত্বকের স্বাভাবিক রং। চলুন সে সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিই-

অ্যালোভেরা

আপনার ত্বক রোদে পুড়ে গেলে আপনি অ্যালোভেরা ব্যবহার করতে পারেন। আপনি অ্যালোভেরা দিয়ে আইসকিউব তৈরি করে সেটি নিয়মিত ত্বকে ব্যবহার করতে পারেন। এটি আপানার ত্বকের জ্বালা বন্ধে বেশ কার্যকরী।

অ্যাপল সিডার ভিনেগার

ত্বক রোদে পুড়ে গেলে বা জ্বালা করলে ভরসা রাখুন অ্যাপল সিডার ভিনেগারের উপর। এর জন্য পরিমাণমতো অ্যাপল সিডার ভিনেগারের সাথে পানি মিশিয়ে নিন। মিশ্রণটি এক টুকরা পরিষ্কার কাপড় ভিজিয়ে রোদে পোড়া ত্বক মুছে নিন। অথবা স্প্রে বোতলে নিয়ে প্রয়োজনমতো স্প্রে করতে পারেন।

মধু

মধুর অ্যান্টিসেপটিক গুণ রোদে পোড়া ক্ষতিগ্রস্ত ত্বকের খুবই উপযোগী। রোদে পোড়া ত্বকে মধু লাগিয়ে আলতো করে গজ ব্যান্ডেজ দিয়ে ঢেকে দিন, নিমেষে আরাম পাবেন।

কালো চা

চায়ের ট্যানিক অ্যাসিড ত্বকের পিএইচ ব্যালান্স বজায় রাখে, জ্বালাভাব কমিয়ে ত্বক শীতল করে। টি ব্যাগ দিয়ে চা তৈরি করে নেয়ার পর ব্যাগগুলো ফ্রিজে রেখে ঠান্ডা করুন। তারপর রোদে পোড়া ত্বকে চেপে চেপে লাগিয়ে নিন ঠান্ডা চা। জ্বালাভাব আর ত্বকের ট্যান দুটোই কমবে।

আলুর রস

ত্বকের যেকোনো কালো দাগ দূর করে, চোখের চারপাশের কালচেভাব কমাতে সাহায্য করে আলুর রস। আলু ত্বকে আরাম দেয়ার পাশাপাশি এতে থাকা ব্লিচিং উপাদান ত্বককে উজ্জ্বল করতেও সাহায্য করে। রোদে পোড়া দাগ দূর করতে আলুর রস সরাসরি ত্বকে ব্যবহার করা যায়। অথবা আলু পাতলা করে কেটে তা চোখের ওপরের অংশ ও দাগের ওপর ব্যবহার করা যেতে পারে।

 চালের আটা, টমেটো ও চিনি

টমেটোতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে। টমেটোর সাথে চালের আটা ও চিনি মিশিয়ে আপনি স্ক্রাব করতে পারেন। এতে মুহূর্তেই আপনার ত্বক উজ্জল দেখাবে। এর পাশাপাশি আপনার ত্বকের মরা কোষগুলোও রিমুভ হবে।

চিনি, গ্লিসারিন ও লেবু

রোদে পোড়া ত্বকের জন্য চিনি, গ্লিসারিন ও লেবুর মিশ্রণ বেশ ভালো কাজ করে। এক টেবিল চামচ চিনির সঙ্গে আধা চা চামচ গ্লিসারিন ও এক টেবিল চামচ লেবুর রস মেশান। এটি ঘষে ঘষে লাগান স্ক্রাবের মতো। এই মিশ্রণটি ত্বকে কিছুক্ষণ রেখে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার ব্যবহার করুন।

লেবুর খোসা ও দুধ

লেবু অথবা কমলার খোসা ত্বক ফরসা করতে সাহায্য করে। এগুলোর খোসা শুকিয়ে গুঁড়া করে রাখতে পারেন। এক টেবিল চামচ লেবু কিংবা কমলার খোসা গুঁড়ার সঙ্গে এক টেবিল চামচ কাঁচা দুধ মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। রোদে পোড়া ত্বকে লাগান মিশ্রণটি। শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার ব্যবহার করতে পারেন এই ফেসপ্যাক।

কলা, লেবু ও দুধ

অর্ধেক কলা চটকে এক চা চামচ লেবুর রস ও এক চা চামচ দুধ মেশান। রোদে পোড়া ত্বকে ১৫ মিনিট লাগিয়ে রাখুন মিশ্রণটি। কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

দই ও মধু

দুই টেবিল চামচ টক দইয়ের সঙ্গে এক চা চামচ মধু মিশিয়ে নিন। মিশ্রণটি পুরু করে লাগান রোদে কালচে হয়ে যাওয়া ত্বকে। শুকিয়ে গেলে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এক দিন পর পরই ব্যবহার করতে পারেন এই ফেসপ্যাক।

শসা ও লেবু

অর্ধেক শসা কুচি করে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মেশান। চাইলে ব্লেন্ড করে নিতে পারেন মিশ্রণটি। এটি নিয়মিত ব্যবহারে দূর হবে ত্বকের রোদে পোড়া দাগ।

সূত্র: ফেমিনা