img

৩৭ বছর পর জগন্নাথপুরে সরকারি বিদ্যালয়ের বেদখল জমি উদ্ধার

প্রকাশিত :  ১২:৪৯, ১৩ জুন ২০২৪

 ৩৭ বছর পর জগন্নাথপুরে সরকারি বিদ্যালয়ের বেদখল জমি উদ্ধার

৩৭ বছর পর উদ্ধার হয়েছে সুনামগঞ্জ জেলাস্থ জগন্নাথপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের বেদখল হওয়া জায়গা । বিদ্যালয়ের জমি চিহ্নিত করে সীমানা পিলার ও সাইনবোর্ড বসানো হয়েছে।

বুধবার (১২ জুন) বিকেলে উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি রিয়াদ বিন ইব্রাহিম ভূঞা উপস্থিত থেকে বেদখল হওয়া ভূমি সীমানা চিহ্নিত করে খুঁটি বসান।

এসময় বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী,অভিভাবক ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

জানা গেছে, ১৯৭৯ সালে জগন্নাথপুর গ্রামের শিক্ষানুরাগী ধরনী চক্রবর্তীর দান করা ভূমিতে জগন্নাথপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৮৬ সালে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ হয়। বিদ্যালয়ের ৪৬ শতাংশ জায়গার মধ্যে ১৬ শতাংশ জমি রফিকুল হক নামে জগন্নাথপুর গ্রামের এক ব্যক্তি ১৯৮৭ সাল থেকে দখল করে রাখেন। দীর্ঘদিন ধরে দখলকৃত জমি ছেড়ে দিতে তাকে অনুরোধ করা হলেও এতে কর্ণপাত না করে আট শতাংশ জমিতে দুই বছর আগে খামার তৈরি করেন।

বুধবার বিদ্যালয়ের আবেদনের প্রেক্ষিতে আট শতাংশ জমি চিহ্নিত করে সীমানা পিলার ও লাল কাপড়ের খুঁটি বসানো হয়। বিদ্যালয়ের জায়গা উল্লেখ করে সাইনবোর্ড সাঁটানো হয়। এসময় দখলকারী রফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোজাম্মেল হক জানান, বিদ্যালয়ের বেদখল হওয়া ১৬ শতাংশ জায়গার মধ্যে ৮ শতাংশ জমি নিয়ে মামলা চলছে। অপর আট শতাংশ জমি ৩৭ বছর পর সীমানা চিহ্নিত করে পিলার বসানো হয়েছে।

তিনি বলেন, বেদখল হওয়া জায়গার কারণে শিক্ষা প্রকৌশল থেকে বরাদ্দকৃত ছয়তলা দুটি ভবন নির্মাণ বিঘ্নিত হচ্ছে। আমরা বিদ্যালয়ের জায়গা উদ্ধার চাই। সীমানা চিহ্নিত হওয়ায় কিছুটা স্বস্তি মিলছে।

জগন্নাথপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি রিয়াদ বিন ইব্রাহিম ভূঞা বলেন, বিদ্যালয়ের জায়গা চিহ্নিত করে সীমানা পিলার বসানো হয়েছে। বেদখলকৃত জমিতে নির্মাণকৃত স্থাপনা আইনি প্রক্রিয়ায় উচ্ছেদ করা হবে।

জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল বশিরুল ইসলাম বলেন, আইনিভাবে বিদ্যালয়ের জায়গা উদ্ধার করা হবে এবং শিক্ষা প্রকৌশলের বরাদ্দকৃত ভবন বিদ্যালয়ের জায়গায় নির্মাণের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

img

শাবি শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ, পুলিশের সাথে বাকবিতণ্ডা

প্রকাশিত :  ০৯:১০, ১৮ জুলাই ২০২৪

কোটা সংস্কার নিয়ে নিয়ে আন্দোলনরত শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়কে অবস্থান নিয়েছেন। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১ টা থেকে শাবি ফটকের সামনে এই সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। এতে সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বৃহস্পতিবার সারা দেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি ডেকেছেন। এতে সকাল থেকে সিলেটে যান চলাচল কম। দূরপাল্লার বাস প্রায় বন্ধ রয়েছে। শিক্ষার্থীদের অবরোধের কারণে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কে জরুরী প্রয়োজনেও কেউ যাতায়াত করতে পারছেন না।

এদিকে, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শাবি ক্যাম্পাসে অবস্থান নেয় বিপুল সংখ্যক পুলিশ।

 সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) ক্রাইসিস রেসপন্স টিমের (সিআরটি) সদস্যরাও ক্যাম্পাসের বিভিন্ন রাস্তা ও মোড়ে অবস্থান নিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলের সামনেও পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পুলিশ শিক্ষার্থীদের হল ও ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেয়।

সকাল ১১ টার দিকে কিছু শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে চাইলে ফটকে তাদের আটকে দেয় পুলিশ। এসময় পুলিশের সাথে তাদের উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় ও কিছু ধস্তাধস্তি হয়।

এরপর সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। তীব্র গরমের মধ্যে শিক্ষার্থীরা রাস্তায় অবস্থান নিয়ে কোটা, সরকার ও পুলিশবিরোধী নানা স্লোগান দিচ্ছেন। অবস্থানকালে শাবি ফটকের সামনে এক প্লাটুন বিজিবি আসলে তাদের গাড়ির সামনে শিক্ষার্থীরা ‘ভুয়া ভুয়া’ বলে স্লোগান দিতে শুরু করেন তারা। পরে বিজিবি কিছুটা দূরে গিয়ে অবস্থান নেয়।

এই আন্দোলনের শাবি শাখার সমন্বয়ক আসাদুল্লাহ আল গালিব বলেন, পুলিশ সকাল থেকে হলে হলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার জন্য চাপ দিচ্ছে। তবে সব ভয় ও চাপ উপেক্ষা করে আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

সিলেটে যান ও মানুষ চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে এবং এছাড়া মানুষের জান-মালের নিরাপত্তার জন্য সতর্ক অবস্থানে রয়েছে পুলিশ।

তবে পরিবহন শ্রমিক নেতারা জানিয়েছেন, অনেক চালক ভয়ে বাস বা অন্যান্য গাড়ি নিয়ে সড়কে বের হননি। তবে দূর পাল্লার ও আঞ্চলিক সড়কের কিছু বাস চলাচল করছে।

সিলেট জেলা বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ময়নুল ইসলাম বলেন- আমরা চালকদের চালকদের গাড়ি না চালাতে কোনো নির্দেশনা দিইনি। তবে ভয়ে অনেক চালক গাড়ি নিয়ে রাস্তায় বের হননি। তাই সিলেটে গণপরিবহন চলাচল কিছুটা কম। তবে দূরপাল্লার ও আঞ্চলিক সড়কে কিছু যানবাহন চলাচল করছে।

সড়কে পুলিশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কম দেখতে পাচ্ছেন বলে জানান ময়নুল ইসলাম।

 সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম (গণমাধ্যম) বলেন, অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঠেকাতে শাবিসহ  সিলেটের সব বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে রাখা হয়েছে। এছাড়া মহানগরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও মোড়ে রয়েছে পুলিশ। সাধারণ মানুষের জান-মালের নিরাপত্তায় পুলিশ তৎপর রয়েছে।

সিলেটের খবর এর আরও খবর