img

পানিতে ভাসছে সিলেট, পশু কিনেও কোরবানি দিতে পারেননি অনেকে

প্রকাশিত :  ১৪:৪৬, ১৭ জুন ২০২৪
সর্বশেষ আপডেট: ১৯:৪৯, ১৭ জুন ২০২৪

পানিতে ভাসছে সিলেট, পশু কিনেও কোরবানি দিতে পারেননি অনেকে

ভারি বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে সিলেট নগরে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে নগরের বেশিরভাগ এলাকা। ঈদের দিন ভোররাতে আকস্মিকভাবে সৃষ্ট এই বন্যায় ভোগান্তিতে পড়েছেন সিলেটের মানুষজন। বাসা বাড়িতে পানি প্রবেশ করার পাশাপাশি অনেক মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন কুরবানির জন্য ক্রয় করা পশু নিয়ে।

ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাটে হাঁটু থেকে কোমর পানি থাকায় অনেকেই ঈদের নামাজ আদায় করতে পারেননি। সেই সঙ্গে কুরবানির পশুকে বন্যার পানি থেকে রক্ষা করতে দিশেহারা হয়ে পড়েন অনেকেই। সোমবার (১৭ জুন) ভোররাতে সিলেটের বেশ কয়েকটি এলাকায় প্লাবন হওয়ার পর অনেকেই ঈদের নামাজ ও কুরবানি দিতে পারেননি।

সিলেট নগরের মিরাবাজার এলাকার বাসিন্দা ফারহান আমির জামান বলেন, আমার এলাকার রাস্তায় সকালে হাঁটু পর্যন্ত পানি ছিল। বাসাবাড়িতেও পানি ছিল। ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও আমি ঈদের নামাজ পড়তে পারিনি।

সিলেট নগরীর উপশহর এলাকার বাসিন্দা আখলাক উদ্দিন বলেন, আমরা বানের পানিতে আটকা পড়েছি। বাসার নিচতলায় কোমর পানি। কুরবানির জন্য একটি গরু কিনেছিলাম। পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গরু বাসার তিনতলার ছাদে নিয়ে তুলেছি। কোরবানি করার সুযোগ নেই।

সিলেট নগরীর লালাদিঘির পার এলাকার বাসিন্দা শাহজাহান আজীজ বলেন, আমার বাড়ির ঊঠানে ও ঘরে পানি। আমরা কোরবানির জন্য পশু কিনেছিলাম। আজ সকালের যে অবস্থা ছিল তাতে কোরবানি দিতে পারিনি। 

একই এলাকার ইমরান আহমদ বলেন, আমার বাসায় কোমর পানি। রাতের বৃষ্টিতে পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমার পার্শ্ববর্তী এক চাচার বাসায় আমার কোরবানির গরুটি নিয়ে রেখেছি। ওই বাসাটি আমার বাসা থেকে একটু উঁচু স্থানে হওয়ায় কোনমতে গরুটি নিরাপদে রাখতে পেরেছি। নিজের বাসায় কোমর পানি।

সিলেট আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ শাহ মোহাম্মদ সজিব হোসেন বলেন, রোববার সকাল ৬টা থেকে সোমবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ১৭৩ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। আর সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত বৃষ্টির পরিমাণ ছিল ৮৬ মিলিমিটার।

img

শাবি শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ, পুলিশের সাথে বাকবিতণ্ডা

প্রকাশিত :  ০৯:১০, ১৮ জুলাই ২০২৪

কোটা সংস্কার নিয়ে নিয়ে আন্দোলনরত শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়কে অবস্থান নিয়েছেন। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১ টা থেকে শাবি ফটকের সামনে এই সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। এতে সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বৃহস্পতিবার সারা দেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি ডেকেছেন। এতে সকাল থেকে সিলেটে যান চলাচল কম। দূরপাল্লার বাস প্রায় বন্ধ রয়েছে। শিক্ষার্থীদের অবরোধের কারণে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কে জরুরী প্রয়োজনেও কেউ যাতায়াত করতে পারছেন না।

এদিকে, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শাবি ক্যাম্পাসে অবস্থান নেয় বিপুল সংখ্যক পুলিশ।

 সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) ক্রাইসিস রেসপন্স টিমের (সিআরটি) সদস্যরাও ক্যাম্পাসের বিভিন্ন রাস্তা ও মোড়ে অবস্থান নিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলের সামনেও পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পুলিশ শিক্ষার্থীদের হল ও ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেয়।

সকাল ১১ টার দিকে কিছু শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে চাইলে ফটকে তাদের আটকে দেয় পুলিশ। এসময় পুলিশের সাথে তাদের উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় ও কিছু ধস্তাধস্তি হয়।

এরপর সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। তীব্র গরমের মধ্যে শিক্ষার্থীরা রাস্তায় অবস্থান নিয়ে কোটা, সরকার ও পুলিশবিরোধী নানা স্লোগান দিচ্ছেন। অবস্থানকালে শাবি ফটকের সামনে এক প্লাটুন বিজিবি আসলে তাদের গাড়ির সামনে শিক্ষার্থীরা ‘ভুয়া ভুয়া’ বলে স্লোগান দিতে শুরু করেন তারা। পরে বিজিবি কিছুটা দূরে গিয়ে অবস্থান নেয়।

এই আন্দোলনের শাবি শাখার সমন্বয়ক আসাদুল্লাহ আল গালিব বলেন, পুলিশ সকাল থেকে হলে হলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার জন্য চাপ দিচ্ছে। তবে সব ভয় ও চাপ উপেক্ষা করে আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

সিলেটে যান ও মানুষ চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে এবং এছাড়া মানুষের জান-মালের নিরাপত্তার জন্য সতর্ক অবস্থানে রয়েছে পুলিশ।

তবে পরিবহন শ্রমিক নেতারা জানিয়েছেন, অনেক চালক ভয়ে বাস বা অন্যান্য গাড়ি নিয়ে সড়কে বের হননি। তবে দূর পাল্লার ও আঞ্চলিক সড়কের কিছু বাস চলাচল করছে।

সিলেট জেলা বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ময়নুল ইসলাম বলেন- আমরা চালকদের চালকদের গাড়ি না চালাতে কোনো নির্দেশনা দিইনি। তবে ভয়ে অনেক চালক গাড়ি নিয়ে রাস্তায় বের হননি। তাই সিলেটে গণপরিবহন চলাচল কিছুটা কম। তবে দূরপাল্লার ও আঞ্চলিক সড়কে কিছু যানবাহন চলাচল করছে।

সড়কে পুলিশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কম দেখতে পাচ্ছেন বলে জানান ময়নুল ইসলাম।

 সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম (গণমাধ্যম) বলেন, অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঠেকাতে শাবিসহ  সিলেটের সব বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে রাখা হয়েছে। এছাড়া মহানগরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও মোড়ে রয়েছে পুলিশ। সাধারণ মানুষের জান-মালের নিরাপত্তায় পুলিশ তৎপর রয়েছে।

সিলেটের খবর এর আরও খবর