img

বিরল রোগে আক্রান্ত কিংবদন্তি গায়িকা অলকা

প্রকাশিত :  ০৮:৩০, ১৮ জুন ২০২৪

বিরল রোগে আক্রান্ত কিংবদন্তি গায়িকা অলকা

কিংবদন্তি গায়িকা অলকা ইয়াগনিককে অনেকদিন ধরেই পাওয়া যাচ্ছে না বলিউডে। যার ঝুলিতে রয়েছে প্রায় কয়েকশ সুপার হিট গানের লম্বা লিস্ট। যিনি বলিউডে রাজত্ব করছেন প্রায় নব্বইয়ের দশক থেকে। তার কণ্ঠের জনপ্রিয় গানগুলি গুণগুণ করে তরুণ থেকে প্রবীণ প্রজন্ম সবাই। গত বছরেই তার গান শোনার শ্রোতা সংখ্যা রেকর্ড গড়েছিল। পিছিয়ে দিয়েছিল বিশ্বের অন্যতম খ্যাতনামা ব্যান্ড ‘BTS’ আর্মি কেও। কিন্তু বহুদিন ধরেই, গায়িকা লাইমলাইটে নেই। যদি ও বর্তমানে তরুণ প্রজন্মের সঙ্গীত শিল্পীদের ভিড়ে হারিয়ে যাচ্ছে পুরোনো প্রজন্মের সংগীত শিল্পীরা । তাতে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। কিন্তু অলকা ইয়াগনিকের কণ্ঠ যেন আইকনিক। সম্প্রতি গায়িকা তার হারিয়ে যাওয়ার কারণ নিজেই ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে ভক্তদের জানিয়েছেন। নিজের জীবনের একটি দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা শেয়ার করলেন। বিরল ভাইরাস আক্রমণ করেছে গায়িকাকে। যার কারণে তার বিরল সংবেদনশীল স্নায়ু শ্রবণশক্তি হ্রাস পেয়েছে।

পোস্টটি শেয়ার করে অলকা লিখেছেন, ‘আমার সমস্ত ভক্ত, বন্ধু, অনুরাগী এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের জন্য। কয়েক সপ্তাহ আগে, আমি যখন একটি ফ্লাইট থেকে নামছিলাম, তখন হঠাৎ অনুভব করলাম- আমি কিছুই শুনতে পাচ্ছি না। এই পর্বের কয়েক সপ্তাহ পর, আমি এখন আমার সমস্ত বন্ধু এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের জন্য এই পোস্ট। যারা জানতে চায় কেন আমি অ্য়াকশনে অনুপস্থিত।’

নিজের শরীরের আরও আপডেট দিয়ে অলকা লেখেন, ‘ভাইরাল আক্রমণের কারণে এটি একটি বিরল সংবেদনশীল স্নায়ুর সমস্যা। যার কারণে শ্রবণশক্তি হ্রাস পেয়েছে। এই আকস্মিক, বড় ধাক্কা আমার অজান্তেই শরীরে গ্রাস করেছে। আমি এটির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি। দয়া করে আপনারা অমার জন্য প্রার্থনা করবেন।’

অলকা তার এই পোস্টে জোরে মিউজিক শোনা ও হেডফোনে খুব উচ্চ আওয়াজ রাখা থেকেও বিরত করেন নিজের অনুরাগীদের। লেখেন, ‘আমার অনুরাগী এবং তরুণ সহকর্মীদের জন্য, আমি খুব জোরে মিউজিক এবং হেডফোনের সংস্পর্শে আসার বিষয়ে সতর্কতামূলক শব্দ যোগ করব। আমি আমার পেশাগত জীবনের স্বাস্থ্যগত বিপদগুলি শেয়ার করতে চাই। আপনাদের সবার ভালোবাসা এবং সমর্থন দিয়ে আমি পুনরুদ্ধার করার আশা করছি। আমার বিশ্বাস, শিগগিরই আপনাদের কাছে ফিরে আসব।’

অলকা ইয়াগনিকের এই পোস্ট হতবাক করেছে তার অনুগামীদের। ইলা অরুণ লিখলেন, ‘এটা শুনে খুব কষ্ট পেলাম। প্রিয়তম অলকা আমি তোমার ছবি দেখেছি এবং সঙ্গে সঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছি। তারপর আমি যা পড়লাম, এটি হৃদয়বিদারক। তবে সেরা ডাক্তারদের ওপর ভরসা রাখ। তুমি ভালো থাকবে এবং শিগগিরই আমরা তোমার মিষ্টি কণ্ঠ শুনতে পাব। ভালোবাসা। সবসময় নিজের যত্ন নিও।’

সোনু নিগম লিখলেন, ‘আমার মনেই হয়েছিল সব ঠিক নেই। ফিরেই তোমার সঙ্গে দেখা করব। দ্রুত সেরে ওঠো।’ ৫৪ বছর বয়সী অলকার শেষ গান গেয়েছেন ‘ক্রু’ এবং ‘অমর সিং চামকিলা’ ছবিতে।

img

‘বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থায় চুপ করে বসে থাকতে পারি না’

প্রকাশিত :  ১১:০২, ১৮ জুলাই ২০২৪

বাংলাদেশের কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে সরব হলেন ভারতীয় সংগীতশিল্পী কবীর সুমন। আজ বৃহস্পতিবার সকালে এক ফেসবুক পোস্টে সব পক্ষকে হানাহানি বন্ধের অনুরোধ করেছেন তিনি।

কবীর সুমন লিখেছেন, ‘...বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থায় চুপ করে বসে থাকতে পারি না। থেকেছি কয়েক দিন, আর পারছি না। কিন্তু অবস্থাটা যে ঠিক কী, কী কী কারণে এমন হলো এবং হচ্ছে, কারা যে এতে জড়িত, তা–ও তো ঠিকমতো জানি না। তা–ও করজোড়ে সব পক্ষকে মিনতি করছি, অনুগ্রহ করে হিংসা, হানাহানি বন্ধ করুন। ঢাকা সরকারকে অনুরোধ করছি, বাংলা ভাষার কসম, শান্তি রক্ষার চেষ্টা অব্যাহত রাখুন। আপনাদের ছাত্রবাহিনী যেন হিংসার আশ্রয় না নেয়।’

ভারতের গণ্ডি পেরিয়ে বাংলাদেশের শ্রোতাদের মধ্যেও জনপ্রিয়তা রয়েছে কবীর সুমনের। তিনি লিখেছেন, ‘আর কী বলি, আমি তো সশরীর যেতে পারছি না ঢাকায়, পারলে যেতাম। রাস্তায় বসে পড়ে সবাইকে শান্তিরক্ষার জন্য আহ্বান করতাম।’

দীর্ঘ পোস্টের শুরুতে তিনি লেখেন, ‘আমি ভারতের নাগরিক। বাংলাদেশ আমাদের প্রতিবেশী। তার বিষয়–আসয়ে নাক গলানোর অধিকার আমার নেই। সেটা করতে চাইও না। তবু বাংলাদেশের অনেকের কাছ থেকে যে ভালোবাসা আমি পেয়েছি, তা ভুলে থাকতেও পারছি না। ভুলবই–বা কেন। ছবি দেখছি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের। মিছিল করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র–ছাত্রীরা। নেপথ্যে শোনা যাচ্ছে কাজী নজরুল ইসলামের ‘কারার ঐ লৌহ–কবাট/ ভেঙে ফেল্ কর্‌রে লোপাট’; মনে হচ্ছে, গানটি এডিট করে বসানো হয়েছে ভিডিওর সঙ্গে। ঠিক কাজই করা হয়েছে। কত সময়ে দেখেছি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র–ছাত্রীরা আমার গানের লাইন লিখে দিয়েছেন দেয়ালে। পশ্চিমবঙ্গে সে তুলনায় কিছুই দেখিনি। বলতে দ্বিধা নেই, মনে মনে আমি বাংলাদেশেরও নাগরিক।’

কবীর সুমনের ভাষ্যে, ‘আমার জীবনের সেরা কাজ এবং আমার জীবনসায়াহ্নের প্রধান কাজ বাংলা খেয়াল বাংলাদেশে চর্চা করা হয়ে থাকে। বাংলাদেশের শিল্পী মরহুম আজাদ রহমান বেশ কিছু বাংলা খেয়াল রচনা করে গেছেন বিভিন্ন রাগে। বাংলা ভাষা আর বাংলা খেয়ালের মাধ্যমে বাংলাদেশের সঙ্গে আমি বাঁধা ভালোবাসার বন্ধনে।’

পোস্টের শেষভাগে তিনি লিখেছেন, ‘হানাহানি বন্ধ হোক। বন্ধ হোক উল্টোপাল্টা কথা বলে দেওয়া। বাঁচুক বাংলাদেশ। বাঁচুন বাংলাদেশের সবাই। জয় বাংলাদেশ, জয় মুক্তিযুদ্ধ, জয় অসংখ্য বাংলাদেশির শাহাদাত ও অপূরণীয় ক্ষতিস্বীকার। জয় বীরাঙ্গনার। জয় বাংলা ভাষার।’

১৯৯২ সালে ‘তোমাকে চাই’ অ্যালবাম প্রকাশ করে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে উঠে আসেন কবীর সুমন। একসময় স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয় হন নিজের মতো করে। নন্দীগ্রাম আর সিঙ্গুর আন্দোলনে দাঁড়িয়েছিলেন মমতার পাশে।

তারপর যাদবপুর কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের টিকিটে সংসদ সদস্য হন। কিন্তু বনিবনা না হওয়ায় পরে তৃণমূল ছাড়েন। তাঁর জন্ম ভারতের ওডিশায়, ১৯৪৯ সালের ১৬ মার্চ।