img

উইঘুর মুসলিমদের ৬৩০ গ্রামের নাম পালটে দিলো চীন

প্রকাশিত :  ১৫:২৪, ১৯ জুন ২০২৪
সর্বশেষ আপডেট: ১৮:৪৮, ১৯ জুন ২০২৪

উইঘুর মুসলিমদের ৬৩০ গ্রামের নাম পালটে দিলো চীন

চীনের উইঘুর মুসলিম অধ্যুষিত শিনজিয়াং প্রদেশে ধর্মীয়, ঐতিহাসিক বা সাংস্কৃতিক চিহ্ন সম্মিলিত শত শত গ্রামের নাম বদলে দিয়েছে চীনা কর্তৃপক্ষ। এসব গ্রামের নাম পরিবর্তন করে সেখানে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির আদর্শের সঙ্গে মিল রয়েছে এমন নাম রাখা হয়েছে। মূলত মুসলিম সংস্কৃতির চিহ্ন মুছে ফেলতে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে চীনা কর্তৃপক্ষ।

দীর্ঘদিন ধরে উইঘুর মুসলিমদের নিয়ে কাজ করা নরওয়ের একটি সংস্থা এবং মানবাধিকার বিষয়ক সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ একত্রে একটি প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানিয়েছে। ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে জাতীয় পরিসংখ্যান বিভাগে নথিভুক্ত ২৫ হাজার গ্রামের নাম নিয়ে গবেষণা চালিয়েছে সংস্থা দুইটি।

সেখানে তারা দেখতে পেয়েছে, তিন হাজার ৬০০ গ্রামের নাম বদলে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ মতে, এর মধ্যে প্রায় ৬৩০টি গ্রাম উইঘুর মুসলিম অধ্যুষিত। তাদের গ্রামের নামের সঙ্গে উইঘুর বা মুসলিম সংস্কৃতি সংশ্লিষ্ট শব্দ যুক্ত ছিল। সেই শব্দগুলো বাদ দিয়ে নতুন নামকরণ করা হয়েছে।

কয়েকটি উদাহরণও দেওয়া হয়েছে প্রতিবেদনে। কোনো কোনো গ্রামের নামের সঙ্গে দুতার শব্দটি যুক্ত ছিল। যা একটি উইঘুর বাদ্যযন্ত্রের নাম। আবার কোনো কোনো নামের সঙ্গে মাজার শব্দটি যুক্ত ছিল। তা বদলে ঐক্য, সম্প্রীতি, ও আনন্দের মতো শব্দ বসানো হয়েছে। এ ধরনের শব্দ চীনের শাসকগোষ্ঠী বিভিন্ন উপলক্ষে ব্যবহার করে। এই শব্দগুলোর সঙ্গে কমিউনিস্ট শাসনের যোগ আছে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন।

এখানেই শেষ নয়, সুফি শব্দ হোজা, হানিকা কিংবা বকসির মতো শব্দও বদলে দেওয়া হয়েছে। অবলুপ্ত করা হয়েছে ১৯৪৯ সালের আগের উইঘুর ইতিহাস।

শিনজিয়াং অঞ্চলে এভাবে আরো বহু গ্রামের নাম বদলে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে বেশ কিছু অন্যান্য ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী অধ্যুষিত গ্রাম আছে বলেও মনে করা হচ্ছে। মূলত ঐতিহ্য ধ্বংস করতেই একাজ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে চীনের প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা হলেও তারা বিষয়টি নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চায়নি বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

চীন-কাজাখস্তান সীমান্তে প্রায় এক কোটি উইঘুর মুসলিম বসবাস করেন। দীর্ঘদিন ধরে তাদের ওপর অত্যাচারের অভিযোগ সামনে আসছে। এ নিয়ে চীনকে সতর্ক করেছে পশ্চিমা বিশ্ব। কিন্তু এখনো পর্যন্ত পরিস্থিতির বড় কোনো পরিবর্তন ঘটেনি বলে মনে করা হচ্ছে।


img

হামাসের সক্ষমতা নিয়ে এবার যে স্বীকারোক্তি দিল ইসরাইল

প্রকাশিত :  ১১:৫১, ১৮ জুলাই ২০২৪
সর্বশেষ আপডেট: ১১:৫৩, ১৮ জুলাই ২০২৪

অবরুদ্ধ গাজায় গত ৯ মাসে উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়ার পরেও ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের যোদ্ধারা এখনো তেল আবিব এবং জেরুজালেম শহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে সক্ষম বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছে দখলদার ইসরাইলি বাহিনী।

বুধবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে দখলদার ইসরাইলের বর্বর সামরিক বাহিনী এ স্বীকারোক্তি দেয়।

তাদের দাবি, গাজা উপত্যকায় চলমান আগ্রাসনের সময় ৬ জন ব্রিগেড কমান্ডার, ২০ জন ব্যাটালিয়ন কমান্ডার এবং ১৫০ জন কোম্পানি কমান্ডারসহ হামাসের প্রায় ১৪ হাজার যোদ্ধা হতাহত ও আটক হয়েছেন। তা সত্ত্বেও হামাস এখনো তেল আবিব ও জেরুজালেম শহরে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালাতে সক্ষম।

গত ৯ মাসে তারা হামাসের ৩৭ হাজার অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে উল্লেখ করে ইসরাইলি বাহিনী আরও জানিয়েছে, তবে হামাসের অর্ধেকেরও বেশি যোদ্ধা এখনো বেঁচে আছেন। 

এছাড়া হামাসের অপর তিনটি ব্রিগেডের বিরুদ্ধে এখনও ইসরাইল যুদ্ধই শুরু করেনি বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে ইসরাইলি বাহিনীর বক্তব্য অনুযায়ী, হামাসের সঙ্গে যুদ্ধে তাদের ৬৮২ জন সেনা নিহত এবং ৯ হাজারের বেশি আহত হয়েছে। আহতদের প্রায় ৩৬ ভাগই মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। সূত্র: ইরনা