img

সিলেট নগরীতে অজ্ঞান পার্টির কবলে পড়ে প্রাণ গেল যুবকের

প্রকাশিত :  ০৯:৫৭, ২০ জুন ২০২৪

 সিলেট নগরীতে অজ্ঞান পার্টির কবলে পড়ে প্রাণ গেল যুবকের

গোলাপগঞ্জ থেকে ছোট বোনকে দেখতে সিলেট নগরীর একটি হাসপাতালে যাওয়ার পথে অজ্ঞান পার্টির কবলে পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে গমনেচ্ছু আবুল হাসান (২৮)। মঙ্গলবার রাতে এই ঘটনায় তার এক আত্মীয় আহত হয়েছেন। অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা তাদের অপহরণ করে নগরীর আম্বরখানা এলাকার একটি ভবনের ওপর আটকে মুক্তিপন দাবি ও মারধর করে।

পরে রাতেই নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে মারা যান হাসান। তিনি গোলাপগঞ্জ উপজেলার ভাদেশ্বর এলাকার পূর্বভাগ কলাশহর গ্রারেম মৃত ইলিয়াস আলীর ছেলে।

হাসান স্থানীয় বাজারের ব্যবসায়ী ও প্রবাসী পরিবারের সন্তান। সম্প্রতি তিনি যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছিলেন। নিহতের ছোট বোনের স্বামী মোস্তফা আকমল জানান, তার স্ত্রীকে দেখতে সম্বন্ধি আবুল হাসান রাত ৮টার দিকে সিএনজি অটোরিকশায় গোলাপগঞ্জের ভাদেশ্বর থেকে সিলেটের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। সঙ্গে তার এক আত্মীয় ও এক যাত্রী ছিলেন। কদমতলী ওভারব্রিজ এলাকায় আরেক যাত্রী সিএনজিতে ওঠেন। এর পর তারা আর কিছু বলতে পারেন নি। জ্ঞান ফিরলে তারা সিলেট নগরীর আম্বরখানা এলাকার একটি ভবনের ছাদের ওপর নিজেদের দেখতে পান। এ সময় কয়েক যুবক তাদের মারধর করে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। তাদের কাছ থেকে তারা মোবাইল ফোন ও ৮ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।

হাসানের সঙ্গে থাকা ওই আত্মীয় আহত অবস্থায় নিচে নেমে স্থানীয়দের ঘটনাটি জানান। পরে হাসানকে প্রথমে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পরে একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। রাত ১টার দিকে হাসান মারা যান।

বুধবার সকালে মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু দাফনের আগে আবার ময়না তদন্তের জন্য ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে যান স্বজনরা।

কোতোয়ালি থানার ওসি মঈন উদ্দিন সিপন জানান, পুলিশকে না জানিয়ে মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। দাফনের আগে আবার লাশটি সিলেট নিয়ে আসা হয়। মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

img

বাহুবলে নির্জন ঝোপে নবজাতক ফেলে যান বোরকা পরা নারী

প্রকাশিত :  ১০:০৭, ১৭ জুলাই ২০২৪

বোরকা পরা এক নারী নির্জন ঝোপে কিছু একটা ফেলে চলে যাচ্ছিলেন। এ দৃশ্য দেখে ফেলেন স্থানীয় কয়েকজন। ওই নারীর গতিবিধি দেখে তাদের সন্দেহ হয়। পরে তারা এগিয়ে ঝোপে গিয়ে দেখেন, কাপড়ে মোড়ানো অবস্থায় এক নবজাতক নড়াচড়া করছে। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়।

পুলিশ এসে স্থানীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের সহযোগিতায় নবজাতককে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। রোববার সন্ধ্যার আগে হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার উজিরপুর গ্রামে এমন ঘটনা ঘটে।

উজিরপুর গ্রামের বাসিন্দা উস্তার মিয়া বলেন, রোববার সন্ধ্যার দিকে রাস্তার পাশে ঝোপে কী যেন ফেলে দ্রুত চলে যান এক বোরকা পরা নারী। এ দৃশ্য প্রথমে তার নজরে আসে। পরে তিনি ও আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে নবজাতকের সন্ধান পান।

পুলিশ ও সমাজসেবা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, রোববার সন্ধ্যার আগমুহূর্তে উজিরপুর গ্রামের একটি নির্জন ঝোপে কালো বোরকা পরা এক নারী কাপড়ে মোড়ানো বস্তুসদৃশ কিছু একটা ফেলে দ্রুত চলে যাচ্ছিলেন। এ দৃশ্য দেখেন স্থানীয় কয়েকজন। পরে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন, কাপড়ে মোড়ানো অবস্থায় এক নবজাতক নড়াচড়া করছে। পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ এসে বাহুবল উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে বিষয়টি জানায়। পরে ওই নবজাতককে উদ্ধার করে প্রথমে বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নবজাতককে হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। ওই নবজাতক হাসপাতালটির নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন।

হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা মঈন উদ্দিন চৌধুরী বলেন, নবজাতকটি অপরিণত বয়সে জন্ম নিয়েছে। তাই তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। তবে নবজাতকটি বর্তমানে ভালো আছে।

বাহুবল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, যে নারী বোরকা পরা অবস্থায় শিশুটিকে ঝোপে ফেলে যান, তাকে এখনো শনাক্ত করা যায়নি। তবে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় শিশুটির দায়িত্ব নিয়ে চিকিৎসা ও পরিচর্চা করছে। শিশুটি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠলে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাহুবল উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আজিজুর রহমান বলেন, তারা ওই নবজাতকের চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন। ওই নবজাতকের পরিচয় শনাক্ত না হলে বা দাবিদার পাওয়া না গেলে তাকে সিলেট ছোটমণি নিবাসে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

সিলেটের খবর এর আরও খবর