প্রকাশিত :  ০৮:২০, ১৮ মে ২০১৯

উচ্চরক্তচাপে আক্রান্ত দেশের ২১ লাখ মানুষ

 উচ্চরক্তচাপে আক্রান্ত দেশের ২১ লাখ মানুষ

জনমত ডেস্ক ।। দেশে উচ্চরক্তচাপে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। বর্তমানে এ রোগে আক্রান্ত প্রায় ২১ লাখ মানুষ। এর মধ্যে চিকিৎসাসেবার আওতায় রয়েছে মাত্র ১ লাখ ৪০ হাজার মানুষ বা ৬ দশমিক ৬ শতাংশ। তবে অধিকাংশ মানুষই জানে না, তার এ রোগটি রয়েছে। যে কারণে তারা চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন না। এর ফলে স্ট্রোক, হূদরোগের মতো বড় সমস্যা দেখা দিলে রোগটি ধরা পড়ে।

বিশ্ব উচ্চরক্তচাপ দিবস উপলক্ষে গতকাল ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক সেমিনারে এসব তথ্য জানানো হয়।

ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার (অব.) আব্দুল মালিকের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এ দেশীয় প্রতিনিধি ড. বার্দান জং রানা।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক সোহেল রেজা চৌধুরী। মূল প্রবন্ধে বলা হয়, দেশে এখন উচ্চরক্তচাপে ভুগছে ২৫ দশমিক ২ শতাংশ মানুষ। ২০১০ সালে এ হার ছিল ২০ দশমিক ৮ শতাংশ। নারীদের মধ্যে উচ্চরক্তচাপে ভোগার হার বেশি। ২৮ দশমিক ৭ শতাংশ নারী ও ২১ দশমিক ৫ শতাংশ পুরুষ উচ্চরক্তচাপে আক্রান্ত।

গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেন, স্বাস্থ্যসেবা খাতে শুধু সরকার নয়, সবার এগিয়ে আসা দরকার। প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে নাগরিকের মৌলিক অধিকারের প্রতি সর্বাধিক গুরুত্ব প্রদান করে থাকেন। এ মৌলিক অধিকারের অন্যতম হলো নাগরিকের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা। এটি সংবিধানেও বলা হয়েছে। এটা নিশ্চিত করার জন্য শেখ হাসিনার সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

শ ম রেজাউল করিম বলেন, নীতি-নৈতিকতার কথা মানুষকে শিক্ষা দিতে হবে। অসুস্থ প্রতিযোগিতার কারণে চাপ বেড়ে গিয়ে উচ্চরক্তচাপে মানুষ আক্রান্ত হয়। স্বস্তির সঙ্গে থাকার জন্য কিছু ফর্মুলা দরকার। সে ফর্মুলাটা চিকিৎসকরা দিতে পারেন। সবসময় অপারেশন বা ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা না-ও হতে পারে। নৈতিকতা ও মূল্যবোধকে আপনাদের চিকিৎসাবিজ্ঞানের অংশে পরিণত করে বৃহৎ পরিসরে এর অনুশীলন করা দরকার।

সেমিনারে বক্তারা বলেন, উচ্চরক্তচাপ একবার ধরা পড়লে সারা জীবন ওষুধ চালিয়ে যেতে হয়। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে চলে এলেও ওষুধ বন্ধ করা যাবে না। কারণ ওষুধ বন্ধ করলে আবার রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। উচ্চরক্তচাপের ঝুঁকি থেকে বাঁচতে লবণ খাওয়া কমাতে হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের সারা দিনে সর্বোচ্চ পাঁচ গ্রাম বা এক চা চামচ লবণ খাওয়া উচিত। সেসঙ্গে ওজন বেশি হলে তা কমাতে হবে, নিয়মিত হাঁটাচলা ও কায়িক পরিশ্রম করতে হবে এবং অবশ্যই ধূমপান ও তামাক থেকে দূরে থাকতে হবে।



Leave Your Comments


বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এর আরও খবর