img

লন্ডনে মার্কিন দূতাবাস বন্ধ : সন্দেহজনক প্যাকেট ধ্বংস

প্রকাশিত :  ১২:২১, ২২ নভেম্বর ২০২৪
সর্বশেষ আপডেট: ১৯:১৩, ২২ নভেম্বর ২০২৪

লন্ডনে মার্কিন দূতাবাস বন্ধ : সন্দেহজনক প্যাকেট ধ্বংস

মোহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া, লন্ডন: লন্ডনে মার্কিন দূতাবাসের কাছে একটি সন্দেহজনক প্যাকেট পাওয়া গেছে। লন্ডন মেট্টোপলিটন পুলিশ বলছে, প্যাকেটটি তারা দূর নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণে ধ্বংস করে দিয়েছে। তবে, এই ঘটনায় মার্কিন দূতবাস বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

লন্ডনস্থ মার্কিন দূতাবাস সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (পূর্বে টুইটার) একটি বিবৃতি পোস্ট করে বলেছে, নাইন এলমস কমপ্লেক্সের বাইরে একটি সন্দেহজনক প্যাকেজ তদন্ত করছেন কর্মকর্তাগণ। একটি বিকট শব্দের বিস্ফোরেণের শব্দ শোনার পর লন্ডন মেট পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে, এলাকায় তারাই বিস্ফোরণটি চালিয়েছিল এবং চলাচল সীমিত করা হয়েছে।

একজন প্রত্যক্ষদর্শী সংবাদ মাধ্যমকে জানান, এলাকাটি সশস্ত্র পুলিশ ঘিরে ফেলে এবং অগ্নিনির্বাপক কর্মীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। তিনি জানান, দূতাবাস এলাকা থেকে পথচারীদের সরিয়ে দেওয়ার জন্য একটি কর্ডন প্রস্তুত করা হয়েছিল।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ লন্ডনে মার্কিন দূতাবাসের বাইরে একটি সন্দেহজনক প্যাকেজ তদন্ত করছে। ঘটনাস্থলে মেট পুলিশ উপস্থিত রয়েছে এবং সতর্কতার জন্য পন্টন রোড বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

মার্কিন দূতাবাস এ ব্যাপারে পরবর্তীতে আরও তথ্য প্রদান করবে বলে বিবৃতিতে জানিয়েছে।

লন্ডন মেট পুলিশ বলেছে, আমরা নিশ্চিত করতে পারি যে কিছুক্ষণ আগে এলাকায় রিপোর্ট করা বিকট শব্দের বিস্ফোরণ অফিসারদের দ্বারা পরিচালিত একটি নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ ছিল। তদন্ত এখনও চলছে এবং আপাতত কর্ডন থাকবে।

এর আগে ফোর্সটি এক্স-এ পোস্ট করেছিল, আমরা নাইন এলমে মার্কিন দূতাবাসের আশেপাশে একটি ঘটনা সম্পর্কে অনলাইনে ব্যাপক আলোচনা সম্পর্কে অবগত আছি।

কিয়েভে মার্কিন দূতাবাস বুধবার সম্ভাব্য উল্লেখযোগ্য বিমান হামলার সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়ার পর সেটি বন্ধ করার ঘোষণা দেয় এবং ইউক্রেনের নাগরিকদের দ্রুত আশ্রয় নেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকার জন্য বলে।

এ ঘোষণার কয়েকদিন পর লন্ডনের মার্কিন দূতাবাসের পাশে এ ঘটনা ঘটে। দুটি ঘটনা পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত কিনা তা এখনও স্পষ্ট নয়।

যুক্তরাজ্য এর আরও খবর

ইংলিশ চ্যানেলে নৌকা ডুবে শিশুসহ নিহত ৫ | JANOMOT | জনমত

img

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা, কাতারে যুদ্ধবিমান পাঠালো যুক্তরাজ্য

প্রকাশিত :  ০৪:১৯, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

ইরানকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কা বাড়তে থাকায় উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদারে কাতারে যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে যুক্তরাজ্য। কাতারের দোহা শহরের কাছে আল উদেইদ বিমানঘাঁটিতে রয়্যাল এয়ার ফোর্সের (আরএএফ) টাইফুন যুদ্ধবিমান পাঠানো হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার যুক্তরাজ্য সরকার জানায়, আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এই মোতায়েন করা হয়েছে। যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, কাতার সরকারের আমন্ত্রণে পাঠানো এসব টাইফুন যুদ্ধবিমান যৌথ আরএএফ–কাতারি ইউনিট নম্বর ১২ স্কোয়াড্রনের অংশ হিসেবে কাজ করবে। এর লক্ষ্য উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রতিরক্ষামূলক সক্ষমতা জোরদার করা।

যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি বলেন, এই অংশীদারত্ব দুই দেশের জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার করে এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের স্থিতিশীলতা রক্ষায় সহায়ক ভূমিকা রাখে। তার ভাষায়, যৌথ স্কোয়াড্রনের টাইফুন যুদ্ধবিমান মোতায়েনের মাধ্যমে কাতারের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে, যা উভয় দেশের অভিন্ন নিরাপত্তা লক্ষ্যকে শক্তিশালী করবে।
\r\nএদিকে যুক্তরাষ্ট্রও মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন, যা এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানসহ একটি স্ট্রাইক গ্রুপ বহন করছে, আগামী সপ্তাহের শুরুতে উপসাগরীয় অঞ্চলে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। বুধবার মালাক্কা প্রণালি অতিক্রম করেছে রণতরীটি। এর সঙ্গে রয়েছে মার্কিন গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার ও সাবমেরিন। পাশাপাশি প্যাট্রিয়ট ও থাড (THAAD) আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সহ অতিরিক্ত মার্কিন প্রতিরক্ষামূলক সরঞ্জামও অঞ্চলটিতে পাঠানো হচ্ছে।

\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার রাতে বলেন, ‘যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি’ হিসেবে ইরানের দিকে এই ‘নৌবহর’ পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি বিমানবাহী রণতরী জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ ভার্জিনিয়ার নরফোক ঘাঁটি থেকে মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে রওনা হয়েছে বলেও জানা গেছে, যা আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ওই অঞ্চলে পৌঁছাতে পারে।
\r\nপ্রতিরক্ষা সংশ্লিষ্ট সূত্র দ্য ন্যাশনালকে জানিয়েছে, এই সামরিক সমাবেশ ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সূত্রটি আরও জানায়, ব্রিটিশ যুদ্ধবিমান মোতায়েন শুধু আশ্বাসমূলক নয়, বরং ইরানের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য প্রতিশোধমূলক হামলা মোকাবিলায় একটি অতিরিক্ত প্রতিরক্ষামূলক স্তর তৈরি করাও এর উদ্দেশ্য। বিশেষ করে ইরানের তৈরি শাহেদ-১৩৬ ড্রোন প্রতিহত করতে টাইফুন যুদ্ধবিমান অত্যন্ত কার্যকর বলে মনে করা হচ্ছে।
\r\nটাইফুন যুদ্ধবিমানগুলো আগে সিরিয়ায় আইএসআইএসের বিরুদ্ধে হামলা চালাতে এবং গত বছর ইয়েমেনে হুতি লক্ষ্যবস্তুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ অভিযানে ব্যবহৃত হয়েছে। যুক্তরাজ্য সরকার কাতারে এই মোতায়েনকে ‘প্রতিরক্ষামূলক ও সহযোগিতামূলক’ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছে, যা যুক্তরাজ্য–কাতার প্রতিরক্ষা নিশ্চয়তা চুক্তির আওতায় নেওয়া হয়েছে।
\r\nএদিকে ইরান আগেও আল উদেইদ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছিল। গত বছরের জুনে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানোর পর পাল্টা জবাবে আল উদেইদ ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় তেহরান। এই ঘাঁটিতেই যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সদর দপ্তর অবস্থিত, যা একে ইরানের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে।
\r\nউল্লেখ্য, গত বছর ইসরায়েল–ইরান যুদ্ধ শুরুর আগে যুক্তরাজ্য এই অঞ্চলে অতিরিক্ত ‘কন্টিনজেন্সি সাপোর্ট’ পাঠিয়েছিল, যাতে সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানো যায়। এছাড়া ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের সময়ও নিরাপত্তা সহায়তার অংশ হিসেবে টাইফুন যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছিল যুক্তরাজ্য।
\r\nপ্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, টাইফুন যুদ্ধবিমানগুলো শিগগিরই প্রায় ৫০ কোটি পাউন্ড ব্যয়ে উন্নত রাডার আপগ্রেড পাচ্ছে, যা এগুলোর যুদ্ধক্ষমতা আরও বাড়াবে।

যুক্তরাজ্য এর আরও খবর