img

ভারতের পতাকা মাড়ানোর ভাইরাল ছবিটি ‘এআই’ দিয়ে তৈরি : রিউমর স্ক্যানার

প্রকাশিত :  ১৭:৪৯, ০৪ ডিসেম্বর ২০২৪
সর্বশেষ আপডেট: ১৭:৫৪, ০৪ ডিসেম্বর ২০২৪

ভারতের পতাকা মাড়ানোর ভাইরাল ছবিটি ‘এআই’ দিয়ে তৈরি : রিউমর স্ক্যানার

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করার মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ শাসনের সমাপ্তি ঘটে। সরকার পতনের পরের দিনগুলোতে দেশে সহিংসতা আরও প্রকট আকার ধারণ করে। এ সময় সারা দেশে রাজনৈতিক সহিংসতা, লুটপাট ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।

এই অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার প্রভাব ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কেও পড়ে। বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ তুলে ভারতে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। এরই ধারাবাহিকতায় কলকাতায় বাংলাদেশের উপহাইকমিশনের সামনে জাতীয় পতাকা পোড়ানো এবং আগরতলায় সহকারী হাইকমিশনে হামলা ও ভাঙচুরের মতো ঘটনা ঘটে।

এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই একটি ছবি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ছবিটিতে দেখা যায়, বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা হাতে পাঞ্জাবি ও টুপি পরিহিত এক ব্যক্তি ভারতের জাতীয় পতাকা পায়ে মাড়াচ্ছেন। তবে এই ছবি বাস্তব নয়, এটি বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিতে তৈরি। বিষয়টি জানিয়েছে ফ্যাক্ট চেক বা তথ্য যাছাই সংস্থা রিউমর স্ক্যানার।

রিউমর স্ক্যানার বলছে, টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, ভারতের জাতীয় পতাকা পায়ে মাড়ানোর ভাইরাল ছবিটি বাস্তব নয় বরং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি করা হয়েছে।

তারা আরও জানায়, ছবিটির সত্যতা যাচাইয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ ব্যবহার করে কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্রে এর অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। রিউমর স্ক্যানারের অনুসন্ধানেও ছবিটি শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার হতে দেখা গেছে। সাধারণত এমন কোনো ঘটনা ঘটলে তা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি জাতীয় গণমাধ্যমেও প্রতিবেদন আকারে প্রকাশিত হয়।

উদাহরণ দিয়ে ফ্যাক্ট চেকার সংস্থাটি বলে, কিছুদিন আগে বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভারতের ও ইসরায়েলের পতাকা মাটিতে এঁকে তার ওপর হেঁটে প্রতিবাদ করার ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনার বিষয়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিবেদনগুলোতে ঘটনার প্রাসঙ্গিক ছবি ও বিস্তারিত তথ্যও অন্তর্ভুক্ত ছিল। কিন্তু এই ছবির ক্ষেত্রে এমনটি দেখা যায়নি।

দাবি করা ছবির সূত্রপাত অনুসন্ধানে স্ক্যানার টিম দেখে, এটি গত ১ ডিসেম্বর ‘Voice of Bangladeshi Hindus’ নামে একটি এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে প্রথম প্রচারিত হয়। এই অ্যাকাউন্ট থেকে আগেও বিভিন্ন গুজব ছড়ানোর নজির পেয়েছে রিউমাির স্ক্যানার টিম।

ভাইরাল ছবিটি গভীরভাবে বিশ্লেষণ করেছে রিউমর স্ক্যানার টিম। বিশ্লেষণে দেখা যায়, ছবিতে থাকা ব্যক্তির ডান পায়ের একটি আঙুল অস্বাভাবিকভাবে অর্ধেক দেখা যাচ্ছে। পাজামার একটি ভাঁজ এমনভাবে রয়েছে, যা দেখতে ধুতির মতো মনে হয়। বাংলাদেশের পতাকার লাল বৃত্তের কাপড়ের ভাঁজও স্বাভাবিক নয়। এ ছাড়া ছবির আলোর প্রতিফলন, ছায়া ও ব্যক্তির চোখের অভিব্যক্তিতেও অসামঞ্জস্য দেখা গেছে। এ ধরনের অসামঞ্জস্য সাধারণত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দ্বারা তৈরি ছবির ক্ষেত্রে দেখা যায়।

তথ্য যাচাইকরণ সংস্থাটি বলেছে, এ ধরনের অসামঞ্জস্য লক্ষ করার পর ছবিটির বিষয়ে অধিকতর নিশ্চিত হতে বিভিন্ন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শনাক্তকরণ ওয়েবসাইট ব্যবহার করা হয়। এসব ওয়েবসাইটের বিশ্লেষণে ছবিটি এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি হওয়ার পক্ষে ৯৯ শতাংশ পর্যন্ত নিশ্চিত ফলাফল পাওয়া গেছে।

রিউমর স্ক্যানার জানায়, ডিপফেক শনাক্তকরণ প্ল্যাটফর্ম ট্রুমিডিয়ার পর্যবেক্ষণও বলছে, আলোচিত ছবিতে ম্যানিপুলেশনের উল্লেখযোগ্য প্রমাণ রয়েছে। অর্থাৎ ছবিটি এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে।

সুতরাং বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা হাতে পাঞ্জাবি ও টুপি পরা এক ব্যক্তি ভারতের জাতীয় পতাকা পায়ে মাড়াচ্ছেন, এমন দাবি করা ও প্রচার করা ছবিটি এআই প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি; যা মিথ্যা।


img

ছাত্রলীগ নেতার প্যারোলের আবেদন করা হয়নি: যশোর জেলা প্রশাসন

প্রকাশিত :  ০৯:৩৬, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

স্ত্রী-সন্তানের মরদেহ দেখার জন্য নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের বাগেরহাট সদর উপজেলা শাখার সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দামের প্যারোলে মুক্তির কোনো আবেদন করা হয়নি। পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জেলগেটেই মরদেহ দেখানোর ব্যবস্থা করা হয় বলে জানিয়েছে যশোর জেলা প্রশাসক। 

আজ রোববার (২৫ জানুয়ারি) যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার আশীষ কুমার দাসের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাগেরহাট কারাগার থেকে গত ১৫ ডিসেম্বর যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে আগত বন্দি জুয়েল হাসান সাদ্দাম নামক ব্যক্তির স্ত্রী ও সন্তান মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, যশোর কিংবা যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ বরাবর প্যারোলে মুক্তির কোনো ধরনের আবেদন করা হয়নি।
\r\nএতে আরও বলা হয়, বরং বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে পরিবারের বক্তব্য থেকে জানা যায়, সময় স্বল্পতার কারণে তাদের পারিবারিক সিদ্ধান্তে প্যারোলে মুক্তির আবেদন না করে জেল গেটে লাশ দেখানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

\r\nআবেদনের পরেও প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়নি- এমন অভিযোগের বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ফেসবুকের বিভিন্ন পোস্টে উল্লিখিত বন্দির স্ত্রীকে লিখিত চিঠি, কারাগারে বন্দি অবস্থায় ছবি দেখা যাচ্ছে যা যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের সাথে সংশ্লিষ্ট নয়। এছাড়া আবেদনের পরেও প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়নি, এ ধরনের তথ্যও মিথ্যা; কারণ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, যশোর বরাবর প্যারোলে মুক্তি সংক্রান্ত কোনো আবেদনই করা হয়নি।
\r\nপরিবারের মৌখিক আবেদনের প্রেক্ষিতে কারা কর্তৃপক্ষ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে মানবিক দিক বিবেচনায় কারা ফটকে লাশ দেখানোর ব্যবস্থা করে উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে সত্যনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের জন্য গণমাধ্যমের প্রতি অনুরোধ করেছে যশোর জেলা প্রশাসন।
\r\nজানা গেছে, পাঁচ বছর আগে ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দামের সাথে স্বর্ণালীর বিয়ে হয়। সম্প্রতি রাজনৈতিক মামলায় স্বামীর গ্রেপ্তার নিয়ে হতাশায় ভুগছিলেন স্বর্ণালী। স্বামীকে মুক্ত করতে চেষ্টা চালাচ্ছিলেন তিনি। গত শুক্রবার ঘরের ভেতর থেকে নয় মাসের সন্তান নাজিম ও স্বর্ণালীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।